ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্ভাব্য তারাকারা (ঘড়ির কাঁটার দিকে, যথাক্রমে): নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা), নিকো ওরিলি (ইংল্যান্ড), এন্ড্রিক (ব্রাজিল) ও পেদ্রি (স্পেন)। ছবি - Google
১৩ই জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ শুধু মেগা ইভেন্ট নয়, এটি নতুন তারকার জন্ম দেওয়ারও মঞ্চ। প্রতি আসরেই এমন কিছু তরুণ ফুটবলার উঠে আসেন, যাঁদের অসাধারণ নৈপুণ্য, সাহসী ফুটবল এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে নেয়। এবারও সেটা হতেই পারে। যতই মেসি, নেইমার, রোনাল্ডো, এমবাপেরা থাকুন না কেন, তরুণ তারকাদের আলো কেড়ে নেওয়ারও ক্ষমতা রয়েছে। তাঁরা কারা, সেই তালিকা তুলে ধরা হল।
নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)
চলতি বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনা দলের মাঝমাঠের সেনাপতি নিকো পাজ। তরুণ এই মিডফিল্ডারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। বল পায়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। মাঝমাঠ থেকে খেলার ছন্দ নির্ধারণ করার পাশাপাশি দূরপাল্লার শটেও তিনি কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে যদি তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পান, তাহলে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। সৃজনশীলতা এবং পরিণত ফুটবলবোধের কারণে অনেকেই তাঁকে আর্জেন্টিনার আগামী দিনের তারকা হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
দেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স)
ফরাসি ফুটবল বরাবরই প্রতিভা তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন আলোচিত নাম দেজিরে দুয়ে। অল্প বয়সেই তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। দুয়ে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একা একটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। উইং থেকে ভেতরে ঢুকে আক্রমণ তৈরি করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলা এবং গোলের দরজা খোলা, সবেতেই তিনি অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে তিনি হতে পারেন ফ্রান্সের অন্যতম বড় চমক।
নিকো ও’রিলি (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ডের ফুটবল সোনার সময় পেরিয়ে এসেছে। তারমধ্যেও অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি উঠে আসছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সেই তালিকায় দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠছেন নিকো ও’রিলি। মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ দুই জায়গাতেই সমান দক্ষ এই তরুণ ফুটবলার। তাঁর খেলার স্টাইল চমকপ্রদ। বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আক্রমণে অংশগ্রহণ এবং গোল করার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই বিশ্বকাপে নিকো ও’রিলি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠলে কেউ অন্তত অবাক হবেন না।
এন্ড্রিক (ব্রাজিল)
ব্রাজিল দলটি সবসময় তারকাখচিত। ব্রাজিলে দৈনিক নতুন ফুটবলারের জন্ম হয়। এবারের ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলার নিঃসন্দেহে এন্ড্রিক। অসাধারণ গতি, শক্তিশালী শট এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতার কারণে ইতোমধ্যেই তাঁকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার বলা হচ্ছে। খুব অল্প বয়সেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি তাঁর রয়েছে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনিয়া মতো তারকাদের সঙ্গে এন্ড্রিকের সমন্বয় বিপক্ষের চিন্তা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ঘোড়া যদি ছোটে, তা হলে তার পিছনে এই তারকার অবদান কম থাকবে না।
পেদ্রি (স্পেন)
স্পেনের ফুটবলের নামী প্রতিভা পেদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। পেদ্রির খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তাঁর অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা। কখন পাস দিতে হবে, কখন আক্রমণে উঠতে হবে এবং কখন খেলার গতি কমিয়ে আনতে হবে। এসব বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। স্পেনের আক্রমণভাগের সাফল্যের পেছনে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বিশ্বকাপে স্পেন যদি চ্যাম্পিয়নের দিকে এগোয়, সেক্ষেত্রে পেদ্রি অন্যতম নায়ক হবেন।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।