ফিফা বিশ্বকাপে টিম কুরাসাও। ছবি - Google
১৬ই জুন, ২০২৬
ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাও। জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষের কিছু বেশি। অথচ এই দেশই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ এখন কুরাসাও।
অন্যদিকে ১৫০ কোটির ভারত, যে দেশ ফুটবল ভালোবাসে, আজও বিশ্বকাপের মূল পর্বে একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি। কেন এই তফাত? ছোট্ট কুরাসাও কীভাবে পারল, আর ভারত কেন এখনও পারেনি— সেই গল্পই আজ।
মাত্র দেড় লক্ষ মানুষের একটি দেশ। ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট্ট দ্বীপ, রঙিন বাড়ি, সমুদ্রসৈকত আর পর্যটনের জন্যই এতদিন পরিচিত ছিল কুরাসাও। কিন্তু ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে এই দেশ। মাত্র ১ লক্ষ ৫৬ হাজার মানুষের দেশ কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর সেই সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে ইতিহাসে।
ভাবতে অবাক লাগে, যে দেশের জনসংখ্যা ভারতের অনেক শহরের একটি ওয়ার্ডের থেকেও কম, সেই দেশ আজ ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে। কুরাসাও নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্গত একটি স্বশাসিত দ্বীপদেশ। ভেনেজুয়েলার উত্তরে ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটির আয়তনও খুবই ছোট। তবু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, দীর্ঘ পরিকল্পনা এবং নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা কুরাসাও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা এমন একটি দল তৈরি করেছে, যারা বিশ্বের সেরা প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে তারা অপরাজিত থেকেছে এবং গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ।
আর এখানেই উঠে আসে ভারতের প্রসঙ্গ। প্রায় ১৫০ কোটির দেশ ভারত আজও ফুটবল বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি। অথচ ইতিহাস বলছে, ভারত একবার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। সেটি ছিল ১৯৫০ সাল। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে ভারতের খেলার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা প্রশাসনিক কারণ, প্রস্তুতির অভাব এবং অলিম্পিককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ভারত অংশ নেয়নি। তারপর কেটে গেছে ৭৬ বছর, কিন্তু ভারত আর কখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছতে পারেনি।
এখানেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে ওঠে। দেড় লক্ষ মানুষের কুরাসাও যদি বিশ্বকাপে পৌঁছতে পারে, তাহলে ১৫০ কোটির ভারত কেন পারে না? উত্তরটা জনসংখ্যায় নয়, উত্তরটা পরিকল্পনায়। কুরাসাওয়ের নিবন্ধিত ফুটবলারের সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার হলেও তাদের ফুটবল কাঠামো, বিদেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ তাদের আজ ইতিহাসের পাতায় পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনও বিশ্বমানের পরিকাঠামো, ধারাবাহিক গ্রাসরুট উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
কুরাসাওয়ের এই বিশ্বকাপ যাত্রা শুধু একটি ছোট দেশের সাফল্যের গল্প নয়। এটি একটি বড় প্রশ্নও তুলে দেয় - জনসংখ্যা কি সত্যিই সাফল্যের চাবিকাঠি, নাকি সঠিক পরিকল্পনা, স্বপ্ন আর ধারাবাহিক পরিশ্রমই ইতিহাস গড়ে দেয়? কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ দাঁড়িয়ে আছে দেড় লক্ষ মানুষের কুরাসাও, আর ১৫০ কোটির ভারত এখনও অপেক্ষা করছে সেই স্বপ্নপূরণের দিনের। শুধু একটা করে বিশ্বকাপ আসে, আর আমরা অপেক্ষা করি মেগা ইভেন্টে খেলার। হায় রে
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।