পপ তারকা শাকিরা। ছবি - Google, গ্রাফিক্স - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।
১৩ই জুন, ২০২৬
কিছুদিন আগেই শাকিরা বলেছিলেন, ‘‘আমি ভীষণ পরিবারকেন্দ্রিক একটা মানুষ ছিলাম। কিন্তু আমার সাজানো জীবনটা হুট করেই এলোমেলো হয়ে গেল। এখন আমি আর কোনো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখতে পারি না। তবে আমার দুটো ছেলেই আমার শক্তি। ওদের দিকে তাকিয়েই আমি যন্ত্রণা ভুলেছি।’’ যে পপ তারকার ইশারায় গোটা বিশ্ব নাচে, তাঁকেও ভালোবাসার প্রাসাদে শূন্য হাতে ফিরতে হয়।
গল্পের সূত্রপাত, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময়। শাকিরার গাওয়া অফিশিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ তখন বিশ্বজুড়ে তুমুল হিট। এই গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের সময়ই শাকিরার সাথে দেখা হয় স্পেনের সুদর্শন ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের। পিকে তখন শাকিরার চেয়ে পাক্কা ১০ বছরের ছোট। কিন্তু প্রেম তো আর বয়স চেনে না! প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খান।

পরবর্তী এক দশক ধরে তাঁরা ছিলেন বিশ্ব মিডিয়ার অন্যতম হটেস্ট কাপল। একে অন্যকে চোখে হারাতেন। তাঁদের যৌথ জীবনে সুখ-শান্তি ছিল উপচে পড়া। একে একে জন্ম নেয় তাঁদের দুই সন্তান - মিলান আর সাশা। তাঁদের পারিবারিক ছবিগুলো দেখলে যে কেউ বলবে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পরিবার। কিন্তু এই নিখুঁত রূপকথার আড়ালে পিকে চালাচ্ছিলেন এক ভয়ানক প্রতারণা। আর এই প্রতারণা কোনো গোয়েন্দা বা সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ধরা পড়েনি, ধরা পড়েছিল ফ্রিজে থাকা একটা সাধারণ জ্যামের বয়াম দিয়ে!
শাকিরা পেশাগত কারণে প্রায়ই ট্যুরে থাকতেন। একবার এক দীর্ঘ ট্যুর শেষে বাড়ি ফিরে তিনি ফ্রিজ খুলে দেখেন, তাঁর প্রিয় স্ট্রবেরি জ্যামের বয়ামটি প্রায় খালি। অথচ শাকিরা ভালো করেই জানতেন, পিকে কিংবা তাঁদের দুই সন্তান, কেউই স্ট্রবেরি জ্যাম মোটেও পছন্দ করে না। তা হলে কে খেলো ওই জ্যাম? সেই নিয়েই রহস্য।
শাকিরার মনে খটকা লাগে, তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে এই বাড়িতে নিয়মিত অন্য কারোর যাতায়াত আছে, যে ফ্রিজ খুলে জ্যাম খেয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায়, শাকিরার সন্দেহ সত্যিই ছিল। পিকের নতুন প্রেমিকা ক্লারা চিয়া, স্ত্রী শাকিরার অনুপস্থিতিতে তাঁদের বাড়িতেই এসে রাত কাটাতেন এবং ফ্রিজের জ্যাম খেতেন। পিকে তাঁর সন্তানদেরও বলে দিয়েছিলেন, মা-কে যেন এই কথা না বলে!
শাকিরা যখন প্রথম পিকের এই পরকীয়ার কথা জানতে পারেন, তিনি নিজের চোখ-কানকে বিশ্বাস করতে পারেননি। একটা সুন্দর সংসার ও বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি প্রথম দিকে প্রমাণ পাওয়ার পরও পিকেকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পিকে শুধরে যাবেন। কিন্তু পিকের এই প্রতারণা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। শেষমেশ এক মডেলের সাথে পিকের অতি-ঘনিষ্ঠ অবস্থা এবং পরবর্তীতে ক্লারা চিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এলে শাকিরা আর সহ্য করেননি।

২০২২ সালে দীর্ঘ ১২ বছরের সম্পর্কের চূড়ান্ত ইতি টানেন শাকিরা। পিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানান, বিচ্ছেদের পরেও পিকে নাকি সংসারে ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বারবার প্রতারিত হওয়া শাকিরা এবার শক্ত দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ‘না’ বলে দেন। তবে শাকিরা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো দেবদাস হয়ে ভেঙে পড়েননি। তিনি পিকের এই প্রতারণাকে রুপান্তর করেছেন শক্তিতে। তিনি ৩৩ বছর বয়সেও যা ছিলেন, ৫০-এর কোঠাতে পৌঁছেও তাই রয়েছেন। সেই মোহময়ী নির্মেদ শরীর। তাঁর শরীরী বিভঙ্গের ছবি যেন জলপ্রপাতের মতোই লাগে।
পিকে ও তাঁর নতুন প্রেমিকাকে খোঁচা দিয়ে শাকিরা একটি গান রিলিজ করেন - "BZRP Music Sessions, Vol. 53"। যেখানে তিনি গেয়েছিলেন, ‘‘তুমি একটা ফেরারি গাড়ি ছেড়ে রেনোঁর সস্তা গাড়িতে উঠলে, রোলেক্স ঘড়ি ছেড়ে ক্যাসিও পরলে!" এই এক গান দিয়েই শাকিরা বিলবোর্ডের সব রেকর্ড ভেঙে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করেন। পিকে হারিয়ে গিয়েছেন, তিনি ফুটবলের সঙ্গে সেইভাবে নেই। শাকিরা এখনও রয়েছেন। তিনি এখনও সমান জনপ্রিয় পপ তারকা। যাঁর এবারের থিমসঙও বহু মোবাইলের রিং টোন হয়ে গিয়েছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।