১৭ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

নিউজক্লিক মামলা: আইনি বুদবুদ ফেটে মুক্ত সাংবাদিকতার জয়

নিউজক্লিক মামলা: আইনি বুদবুদ ফেটে মুক্ত সাংবাদিকতার জয়

প্রবীর পুরকায়স্থ। ছবি - Google

নিউজক্লিক মামলা: আইনি বুদবুদ ফেটে মুক্ত সাংবাদিকতার জয়

আইনি লড়াইয়ের নেপথ্য কথা

প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) অনুযায়ী, কোনো অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে বৈধ করার চেষ্টাকেই অর্থ পাচার বলা হয়। কিন্তু নিউজক্লিকের ক্ষেত্রে মূল অপরাধেরই কোনো ভিত্তি ছিল না। ২০১৮ সালে আমেরিকার 'ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিডিয়া হোল্ডিংস এলএলসি' থেকে প্রায় ৯.৫৯ কোটি টাকার একটি বিদেশি বিনিয়োগ পায় নিউজক্লিকের মূল সংস্থা। এই লেনদেনটি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে (আরবিআই) সমস্ত নিয়ম মেনেই তা জানানো হয়েছিল।

অভিযোগের অসারতা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

২০২০ সালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের  এক কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করে। এর পরপরই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আসরে নামে। প্রসিকিউশনের মূল দাবি ছিল, নিউজক্লিক ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমা এড়াতে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দেখিয়েছিল।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণ তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানান, ২০১৮ সালে যখন এই টাকা এসেছিল, তখন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে ২৬ শতাংশ বিনিয়োগের নিয়মটি কার্যকরই ছিল না। ফলে যা অস্তিত্বেই ছিল না, তা ফাঁকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়নের অভিযোগটিও আদালতে টেকেনি, কারণ দরকষাকষির পর নির্ধারিত মূল্যের ওপরে শেয়ার বিক্রি করা সম্পূর্ণ একটি বৈধ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত। এমনকি বিদেশি টাকায় সাংবাদিকদের বেতন দেওয়াকে টাকা নয়ছয় বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকেও নাকচ করে আদালত একে সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক খরচ হিসেবে উল্লেখ করে।

সত্য গোপন ও মুক্ত সাংবাদিকতায় আঘাত

এই মামলায় সবচেয়ে বড় মোড় আসে তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা দুটি পৃথক স্ট্যাটাস রিপোর্টের অসঙ্গতি থেকে। প্রথম রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাংকের সেই ছাড়পত্রের উল্লেখ ছিল যা প্রমাণ করে এই লেনদেনে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে জমা দেওয়া দ্বিতীয় রিপোর্টটি থেকে রহস্যজনকভাবে আরবিআই-এর সেই ক্লিনচিটের কথাটি বাদ দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া ছাড়পত্রকে এভাবে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। বিচারপতি এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর একটি ‘স্বেচ্ছাচারী আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য