

নরওয়ের ভাইকিং যোদ্ধা আর্লিং হালান্ড। ছবি - Google.
২রা জুলাই, ২০২৬
'ভাইকিং যোদ্ধা’দের মতোই ক্ষীপ্রতর আর্লিং হালান্ড। তিনি দৌড়লে মনে হয় কোনো জলদস্যু আক্রমণ করছে। নরওয়ের বিশালদেহী এই ফরোয়ার্ডকে দেখলে রক্তমাংসের রোবট বলে মনে হতে পারে। তাঁর ঢেউ খেলানো সোনালি চুলের তুলনা প্রায়ই ভাইকিং বা জলদস্যু যোদ্ধাদের সঙ্গে করা হয়।
তিনি কখনো কখনো বনের মধ্যে গাছ কেটে ব্যায়াম করেন। তিনি প্রতিদিন ছয় হাজার কিলো-ক্যালোরি শক্তিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন। তাঁর প্রিয় খাবার গরুর হৃদপিণ্ড। দৈনিক অনুশীলন শেষ হওয়ার পরে তিনি কাঁচা দুধ খান।
লুক্সেমবার্গে 'পিলিজ' নামে একটি অর্থ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে হালান্ডের। তিনি ত্রয়োদশ শতকের প্রাচীন কাহিনী গ্রন্থ 'হেইমস্ক্রিংলা'-এর একটি সংস্করণ এক লাখ ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারে কিনেছিলেন। পরে সেটি নিজের এলাকার গ্রন্থাগারে দান করে দেন। এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘আমি কখনোই খুব একটা বইপড়ুয়া মানুষ ছিলাম না।’’
তিনি সবসময় বলে থাকেন, আমি গোল না করতে পারলে চঞ্চল হয়ে যাই। বয়স ১২-তে একটি জুনিয়র ম্যাচে তিনি হন্ডুরাসের বিপক্ষে একাই ন’টি গোল করেছিলেন। সেই ম্যাচে হন্ডুরাসের কয়েকজন ফুটবলার বিরতিতে তাঁর হাত ধরে বলেছিলেন, আর গোল করো না ভাই। একবার 'দ্য গার্ডিয়ান' এই নরওয়ে তারকাকে আখ্যা দিয়েছিল, ‘‘অতৃপ্ত ক্ষুধার্ত এক গোল-খেকো ফুটবলার নামে।’’
একবার তিনি বিমানে বসে তোলা নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিতে হালান্ড সামনে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘সাত ঘণ্টার বিমানযাত্রা কাটিয়ে দিলাম, কোনো মোবাইল নয়, জল নয়, খাবার নয়, এমনকী ঘুমও নয়, শুধু মানচিত্র দেখেই সময় কাটিয়ে দিয়েছি।’’
নরওয়ে কখনোই বিশ্বকাপে বিশেষ সফল দল ছিল না। এবারের আসরটি দেশটির জন্য মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ, যেখানে তারা খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু হালান্ডের মতো গোলগেটার পেয়ে এই দলটাই এখন হেভিওয়েট। ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে হালান্ডের জোড়া গোলেই তাঁর বিধ্বংসী রূপ বোঝা গিয়েছিল।
নরওয়ের দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল সেনেগালের বিপক্ষে, নিউ জার্সিতে সেই ম্যাচেও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। তাঁর আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে করা জয়সূচক গোলটি হয়তো হালান্ডের কেরিয়ারে অন্যতম সহজ গোলের একটি। প্যাট্রিক বার্গের পাসে তাঁর শুধু বলে পা লাগালেই হতো, সেটাই করেছেন। তবে এই সহজ গোলটিই তাঁর আন্তর্জাতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলও।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের অনেক চোখ-ধাঁধানো গোল রয়েছে। মলডোভার বিপক্ষে একাই করেছেন ৫ গোল, এ ছাড়া রোমানিয়া, কাজাখস্তান ও জিব্রাল্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের গোল ৫৩টি ম্যাচে ৬০। গড়ে প্রতি ৭২ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন। তবে প্রথম ৫৫টি গোলের একটিও কোনো বড় টুর্নামেন্টে আসেনি। কীভাবেই বা করবেন, ইউরোতে খেলার সুযোগ মেলেনি। বিশ্বকাপে তো খেলছেন এবারই প্রথম। আর মেগা আসরে নেমে বাকি মহাতারকাদের সামনে এক পঙতিতে নরওয়ের এক ভাইকিং যোদ্ধা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
