রোনাল্ডো ও মেসি। ছবি - Google.
১৯শে জুন, ২০২৬
সব ভালো যার শেষ ভালো - এই অতি পরিচিত প্রবাদ কি এবার খাটবে বিশ্বকাপে? ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, ফুটবলে সকাল দেখে নাকি রাত বোঝা যায়। তাই যদি হয় তাহলে লিওনেল মেসি কিংবা কিলিয়ান এমব্বাপেরা কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা ভিনিসিয়াসদের থেকে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে যদি তারকাদের জন্য মার্কশিট তৈরি করা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ‘এ প্লাস’ই পাওয়ার কথা লিওনেল মেসির। কাছাকাছি নাম্বার পাবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, আর্লিং হলান্ডরাও। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো টেনেটুনে পাস করবেন কিনা সন্দেহ। অন্তত ফুটবল বিশ্লেষকেরা যেভাবে তোপ দেগেছেন পর্তুগিজ তারকার দিকে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেসি গোল করবেন, এমন ভবিষ্যদ্বাণী অনেকেই ঠিকঠাকভাবে করতে পারার কথা। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি যা করেছেন, তা ভাবনায় থাকার কথা খুব কম মানুষেরই।
আগের পাঁচ বিশ্বকাপে যা পারেননি, সেই হ্যাটট্রিকই করেছেন তিনি। যা তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও বসিয়ে দিয়েছে। হ্যাটট্রিকের পরই মাঠ ছেড়ে যাওয়া মেসি ৮০ মিনিটে বল ছুঁয়েছেন ৫৭ বার, নিখুঁত পাস দিয়েছেন। বড় সুযোগ তৈরি করেছেন দুটি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভয় ধরিয়ে দিলে শট নিয়েছে ৬টি, যার ৪টিই আবার অন-টার্গেট। কদিন পরই যে ৩৯ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন, সেটি একপ্রকার ভুলিয়েই দিয়েছেন মেসি।
মেসির ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন রোনাল্ডো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি! ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় তিনি ছিলেন ছায়া হয়ে। দুটি সুযোগও নষ্ট করেছেন। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পর্তুগালের শুরুটা যে ১–১ সমতার হতাশার ড্রয়ে শেষ হয়েছে, তাতে সবার তোপ এখন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর দিকে।
এমবাপ্পে ও হল্যান্ড অবশ্য নিজেদের চেনারূপেই দেখা দিয়েছেন। সেনেগালের বিপক্ষে এমবাপ্পের জোড়া গোল ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগে বক্সের বাইরে থেকে করা তাঁর গোলটি ফ্রেমবন্দী করে রাখার মতো। সেনেগাল গোলকিপার শুধু চেয়ে চেয়ে বল জালে জড়ানোটা দেখেছেন। ম্যাচে এমবাপ্পের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে গোল না পেলেও ফাইনাল থার্ডে ৯টি পাস দিয়ে আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েকে প্রথম ম্যাচে প্রায় একাই টেনেছেন হলান্ড।
ইরাকের বিপক্ষে ৪–১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে ম্যান সিটি তারকা করেছেন জোড়া গোল। তাঁর নেওয়া ৪টি শটের ২টিই ছিল অন-টার্গেট। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও শুরুটা করেছেন জোড়া গোলে। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কেনকে শুধু গোল দিয়ে বিচার করলে কমই হবে। পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় আক্রমণভাগে ৭টি শটের পাশাপাশি রক্ষণভাগে ট্যাকল, ব্লক, ক্লিয়ারেন্স এবং রিকভারিতেও অবদান রেখেছেন। যদিও মূল দায়িত্বটা তাঁর গোলস্কোরারের। ২১টি পাসের ১৪টিতে সফলও ছিলেন।
এদিকে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করলেও সমর্থকদের সান্ত্বনার উৎস ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনির গোলেই সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। নেইমার এখনও চোট মুক্ত নন। তিনি গ্রুপ পর্বে খেলতে নামবেন কিনা সন্দেহ। তাই ব্রাজিলের ভরসা ভিনিশিয়াস।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।