

কিসিং কার। প্রতীকী ছবি - The Fourth Axis.
২৫শে আগস্ট, ২০২৬
প্রেমের বহিঃপ্রকাশ এমন জায়গায় গড়াবে, কে আর জানত! গাড়ির গায়ে একটি-দু’টি নয়, একেবারে ৩৪০০টি চুমুর দাগ। লাল লিপস্টিকে গাড়ির প্রায় গোটা শরীরটাই হয়ে উঠেছিল যেন প্রেমিকার ‘ক্যানভাস’। কিন্তু সেই রোম্যান্টিক কাণ্ডের শেষটা মোটেই রোম্যান্টিক হল না। প্রেমিকার দেওয়া হাজার হাজার ‘কিস মার্ক’ মুছতে হল গাড়ির মালিককে। তার পর পুলিশের হাতে গুনতে হল ৫,৫০০ টাকা জরিমানা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের এই ঘটনা এখন রীতিমতো চর্চায়।
ঘটনার শুরুটা অবশ্য বেশ মজার। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি ট্রেন্ড দেখে প্রেমিকার মাথায় আসে অভিনব ‘ভালবাসার উপহার’ দেওয়ার ভাবনা। গাড়িটাই হয়ে উঠল সেই উপহারের মাধ্যম। লিপস্টিক হাতে নিয়ে গাড়ির গায়ে একের পর এক চুমুর ছাপ দিতে শুরু করেন তিনি। একটা, দুটো, দশটা... গুনতে গুনতে সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় প্রায় ৩৪০০-তে। গোটা কাজটি করতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।
তার পর সেই ‘কিসিং কার’-এর ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। উদ্দেশ্য ছিল ভালবাসার মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখা, সঙ্গে একটু ভাইরাল হওয়া। কিন্তু নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সেই বাসনাই শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল পুলিশের নজর।
গোয়ালিয়রের সিটি সেন্টার এলাকায় ওই গাড়ি চলতে দেখা যায়। গাড়ির গায়ে অসংখ্য লাল লিপস্টিকের ছাপ দেখে তা ক্যামেরাবন্দি করেন কেউ। পরে সেই ভিডিয়োই ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে যায় পুলিশের নজরে। ট্র্যাফিক পুলিশ গাড়িটির নম্বর দেখে মালিকের খোঁজ শুরু করে। পুলিশের তরফে জানানো হয়, গাড়িটির এমন চেহারা রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। গাড়ির মালিক আদিত্য সিকারওয়ারকে ডেকে পাঠানো হয়। এর পরই আসে সেই ‘প্রেমের বিল’! ৫৫০০ টাকা জরিমানা!
তবে শুধু টাকা নিয়েই কাজ শেষ করেনি পুলিশ। গাড়ির গা থেকে সমস্ত লিপস্টিকের দাগ মুছে ফেলতে বলা হয়। ফলে যে গাড়ি কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রেমের ‘ক্যানভাস’ হয়েছিল, সেটিই আবার কয়েক ঘণ্টা ধরে পরিণত হল পরিষ্কারের কাজে। আদিত্য জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করেই তাঁর বান্ধবী এই কাজ করেছিলেন। গাড়িটিকে এ ভাবে সাজানো যে আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পুলিশের নির্দেশ মেনে শেষ পর্যন্ত গাড়ি পরিষ্কার করে জরিমানাও মিটিয়ে দেন তিনি।
গোয়ালিয়রের এই ঘটনায় এখন নেটমাধ্যমে নানা রসিকতা। কেউ বলছেন, ‘প্রেমের দাগ মুছতে টাকা গেল!’ কেউ আবার বলছেন, প্রেমিকার ৩৪০০ চুমুর হিসাব মেলাতে গিয়ে পুলিশের কাছে দিতে হল ৫৫০০ টাকা! তবে ঘটনার মজার দিকের আড়ালে পুলিশের বার্তাটাও স্পষ্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড যতই আকর্ষণীয় হোক, তা রাস্তায় নামানোর আগে নিয়মকানুনের কথাও মাথায় রাখতে হবে। নইলে কয়েক হাজার ‘কিস মার্ক’ মুহূর্তেই হয়ে উঠতে পারে হাজার টাকার ঝামেলা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
