

নীতি আয়োগের রিপোর্টে চাঞ্চল্য। ছবি - Google
২৫শে আগস্ট, ২০২৬
দেশজুড়ে যখন তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও কর্মসংস্থানের সংকট চরমে, ঠিক তখনই এক অস্বস্তিকর বাস্তব সামনে আনল নীতি আয়োগ। সম্প্রতি প্রকাশিত নীতি আয়োগের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৮.৯ কোটি তরুণ-তরুণী কোনো ধরনের পড়াশোনা, কাজ কিংবা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন। আন্তর্জাতিক পরিভাষায় এই অংশটিকে বলা হয় ‘NEET’ (নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অর ট্রেনিং)।
‘Reimagining Skilling for Viksit Bharat@2047’ শীর্ষক এই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে ২০২১ সালের ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের (NSS) ৭৮তম রাউন্ডের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। রিপোর্টে দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—স্কুল স্তরের পড়ুয়া, উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থী, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মী, ‘NEET’ যুবসমাজ এবং মহিলা।
রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যারা কোনো কিছুর সঙ্গেই যুক্ত নেই এবং কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুঝছেন, তাদের জন্য মধ্য-ক্যারিয়ারে পুনরায় দক্ষতা বৃদ্ধি (re-skilling), স্বনির্ভরতার পথ তৈরি এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া অবিলম্বে প্রয়োজন।
নীতি আয়োগের এই পরিসংখ্যান বিচ্ছিন্ন কোও ঘটনা নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসেই আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘State of Working India 2026’ রিপোর্টেও দেশের বেহাল কর্মসংস্থানের চিত্র ধরা পড়েছিল। সেখানে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হল, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও মাত্র ৭ শতাংশ তরুণ-তরুণী এক বছরের মধ্যে কোনো স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি জোগাড় করতে পারছেন। উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ ও শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে বিশাল ফারাক তরুণদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার এই আবহেই সম্প্রতি দিল্লিতে গর্জে উঠেছিল ছাত্র-যুব আন্দোলন। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যন্তর মন্তরে তীব্র বিক্ষোভ সংগঠিত করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। প্রতিবাদের ব্যাপক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সামগ্রিক অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে ‘দ্য ওয়্যার’-এ সম্প্রতি ভূবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ সি পি রাজেন্দ্রন লিখেছিলেন, এই আন্দোলন হয়তো নিট প্রশ্নফাঁসের মতো একটি চেনা সমস্যা থেকে শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা দ্রুত শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক সামগ্রিক গণঅভিযোগে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুবসমাজের এই তীব্র আন্দোলন বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষোভের সরাসরি কোনো উল্লেখ করেননি। উল্টে তিনি ‘দিমাগী নকশাল’ বা ‘বুদ্ধিজীবী নকশাল’-দের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। পাশাপাশি সরকারি স্তরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং ক্লাস এবং তরুণদের জন্য এআই (AI) প্রশিক্ষণের মতো প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন।
তবে বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের মতে, স্রেফ নতুন প্রকল্প ঘোষণা করে লক্ষ লক্ষ কর্মহীন ও দিশাহারা তরুণ প্রজন্মের সংকট মেটানো সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরানো এবং বাস্তবসম্মত স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারলে এই বিপুল জনমিতিক সম্ভাবনাই দেশের সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
