

ইমপেশেন্স নিমস্পুরজাই
১৯শে আগস্ট, ২০২৬
হিমালয়ের দুর্গম শৃঙ্গ আর পর্বতপ্রেমীদের কাছে নির্মল পুরজা (নিমসদাই) কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি হিমালয়ের কোলে আবিষ্কৃত এক নতুন প্রজাতির উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে এই কিংবদন্তি পর্বতারোহীর নামানুসারে—‘ইমপেশেন্স নিমস্পুরজাই’ (Impatiens nimspurjai)। নেপালের গবেষকদের এই উদ্যোগ প্রকৃতির সাথে বিশ্বখ্যাত এই পর্বতারোহীর আত্মিক বন্ধনকে চিরস্মরণীয় করে রাখল।
উদ্ভিদবিজ্ঞানী ভক্ত বাহাদুর রাসকোটি এবং রীতা আলে নেপালের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার সময় এই নতুন প্রজাতির খোঁজ পান। ফুলটি মূলত উদ্ভিদের ইমপেশেন্স (Impatiens) গণের অন্তর্গত, যা নেপালে স্থানীয়ভাবে ‘তিউরি’ (Tiuri) নামে সুপরিচিত। সাধারণ তিউরি ফুলের সাথে এর সূক্ষ্ম কিছু জিনগত ও গাঠনিক পার্থক্য লক্ষ্য করার পরই গবেষকরা এটিকে একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের মায়াগদি (Myagdi) জেলায় প্রায় ২,৮০০ থেকে ২,৯০০ মিটার উচ্চতায় এই বিরল উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্নপূর্ণা ও ধৌলাগিরি পর্বতশ্রেণির পাদদেশে অবস্থিত মায়াগদি অঞ্চলটি তার প্রাকৃতিক ঝরনা, নদী এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এই উচ্চতায় নতুন উদ্ভিদ আবিষ্কার স্থানীয় হিমালয় অঞ্চলের উদ্ভিদজগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
নির্মল পুরজা ২০১৯ সালে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে পৃথিবীর সমস্ত ৮,০০০ মিটারের অধিক উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে শীতকালীন কে-টু (K2) অভিযানে প্রথম সফল নেপালি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
কেবল পর্বতারোহণই নয়, হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষাতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর ‘নিমসদাই ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে উচ্চ হিমালয় থেকে পরিত্যক্ত বর্জ্য পরিষ্কারের একাধিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছিল। প্রকৃতি ও পাহাড়ের প্রতি তাঁর এই আজীবন ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানাতেই নতুন প্রজাতির ফুলটির নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নির্মল পুরজার প্রয়াণ পুরো পর্বতারোহণ বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। পাহাড় যাঁকে কেড়ে নিল, সেই হিমালয়ের গায়েই ফুটে থাকা একটি শান্ত তিউরি ফুল আজ তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগ যুগ ধরে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
