iran-USA
২৫শে এপ্রিল, ২০২৬
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর আলোচনা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পা রাখার পরপরই তেহরান তাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সফরে আমেরিকান প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের কোনো ধরনের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। বরং দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা বা বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবেন পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের অবস্থান
তেহরানের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসও তাদের প্রতিনিধি দলের হয়ে ঘোষণা করেছে। আগামী ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, শনিবার সকালে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার নতুন একটি পর্যায় শুরু করা। উল্লেখ্য যে, এই আলোচনার প্রথম পর্বে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স সরাসরি উপস্থিত থাকলেও এবার তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকছেন না। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে তিনি বর্তমানে "স্ট্যান্ডবাই" বা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন, যাতে আলোচনার বিশেষ কোনো প্রয়োজনে তিনি দ্রুত সাড়া দিতে পারেন।
ইসলামাবাদে ত্রিমুখী কূটনীতি ও শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ
সার্বিকভাবে, ইসলামাবাদ এখন এক ত্রিমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যদিও সরাসরি কোনো সংলাপ হচ্ছে না, তবুও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনা যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনো নাটকীয় মোড় নিয়ে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব। সরাসরি আলোচনার অনীহা থাকলেও একই সময়ে একই শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমীকরণের প্রস্তুতি চলছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।