

টেনিস বলের ন্যাপ। ছবি - AI
৬ই আগস্ট, ২০২৬
প্রযুক্তির ঘনঘন বদল ঘটছে। রূপান্তর হচ্ছে সর্বত্র। খেলার দুনিয়াও বাকি থেকে কেন! ক্রিকেট, ফুটবলের মতো টেনিসেও তা সমানভাবে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক টেনিস বিশ্বে প্রযুক্তির বড় বদল নানা নিয়মের মধ্যে আবর্ত হচ্ছে। যেমন অতি সম্প্রতি রিভিউ সিস্টেমের ক্ষেত্রেও সেটি দেখা গিয়েছে। ক্রিকেটের মতো টেনিসেও রিভিউ নিতে পারবেন খেলোয়াড়রা। তার কোনও বিধিনিষেধও নেই। সারা ম্যাচে একাধিক রিভিউ নিতে পারবেন খেলোয়াড়রা। চাইলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জও জানাতে পারবেন।
এবার টেনিস বলের ক্ষেত্রেও একটি নিয়ম চালু হয়েছে। বিভিন্ন গ্র্যান্ডস্লাম হোক বা যে কোনও টেনিস টুর্নামেন্টে বলের মধ্যে লোম থাকে। এবার অনেকে মনে করেন নতুন বলে লোম তো থাকবেই, তাবলে একা কি আর আদৌ আকর্ষণ বৃদ্ধি করে?
টেনিসের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বলের মধ্যে যে লোম থাকে, সেটিকে ন্যাপ বলা হয়। টেনিস বলে থাকা ন্যাপ বা লোম সাধারণত উল, নাইলন, তুলো বা এদের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। বল তৈরির সময় একটি প্রেশারাইজড রাবারের চারপাশে এই ন্যাপের আস্তরণ জড়ানো হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য, বলের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।
লোমগুলো বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণ বাড়িয়ে বলের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বাতাসে কিছুটা ভেসে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন খেলোয়াড় সার্ভ করলে বলের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল পর্যন্ত হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের র্যাকেটের স্পর্শে এই গতি নেমে আসে প্রায় ৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টায়। এছাড়া, ন্যাপ বলের পেছনে এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে যা ব্যাক স্পিন বা টপ স্পিন সক্রিয় করে সাহায্য করে। বলের গতি ও দিক অনিশ্চিত হয়ে যায়। সেইসঙ্গে খেলাটিও দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, নামী তারকারা টেনিস বল ভিজিয়ে সেটি দিয়েও অনুশীলন করেন।
প্রযুক্তির এই বাড়বাড়ন্তের আগের কথা। ১,৮০০ সালে টেনিস বলের ওপর এখনকার মতো লোম ছিল না। তখন বলকে ঢেকে দেওয়া হতো গরম উলের কাপড়ে। পরবর্তীতে ন্যাপযুক্ত বল চালু হওয়ায় আজকের টেনিস খেলাকে কৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে আরও নিখুঁত করা সম্ভব হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
টেনিস বলের এই প্রযুক্তিকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানিও অত্যাধুনিক বল নিয়ে এসেছে। অ্যাডিডাস, নাইকের মতো কোম্পানিও বল বানানোর ক্ষেত্রে এই ন্যাপের দিকে খেয়াল রাখছে। কেউ কেউ আবার বলে চিপও বসাচ্ছে, যাতে টাচলাইন স্পর্শ হলে সেটি ধরা পড়ে মাইক্রোফোনে।
অতি সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, উইম্বলডন কিংবা ইউ এস ওপেনে টেনিস বলের ক্ষেত্রে নম্বর রয়েছে। সেটিকে সাধারণ চোখে দেখলে একটি নম্বর ভেবে ভুল হবে। বিশেষ কারণ হল, বলের গুণগত মান। কোনও বলে এক নম্বর থাকলে সেটি বেশ উন্নত মানের বলে ধরা হয়। এমনকী তারকাদের কোনও শটে বল গ্যালারি কিংবা অন্য কোথাও চলে গেলে সেই বলকে খুঁজে পেতেও ওই নম্বর সহায়তা করে বলে ধারণা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
