১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
শর্ট ভিডিও ও রিলসে কেন আটকে যায় মস্তিষ্ক?

ছবি - Google

শর্ট ভিডিও ও রিলসে কেন আটকে যায় মস্তিষ্ক?

মূল বিষয়

ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউব খুলে হয়তো ভেবেছিলেন “শুধু পাঁচটা মিনিট দেখে রেখে দেব” কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কখন যে এক ঘণ্টা কেটে গেছে খেয়ালই থাকে না। এই অবিরাম স্ক্রোলিংয়ের পেছনে আমাদের মস্তিষ্কের ঠিক কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি এক আকর্ষণীয় তথ্য তুলে ধরেছেন গবেষকরা।

নিউরোইমেজ (NeuroImage) জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন পছন্দের শর্ট ভিডিও বা রিলস দেখে, তখন মস্তিষ্কের আত্মনিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দুটি নির্দিষ্ট অংশের কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে হ্রাস পায়।

গবেষণায় কী দেখা গেল?

গবেষণাটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫৬ জন তরুণ-তরুণী। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের স্বাধীনভাবে শর্ট ভিডিও দেখার সুযোগ দেন এবং এফএমআরআই (fMRI) স্ক্যানের মাধ্যমে তাঁদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স স্পেকট্রোস্কপির সাহায্যে মস্তিষ্কের গ্লুটামেট ও গাবার (GABA) মতো রাসায়নিকের মাত্রাও খতিয়ে দেখা হয়।

গবেষণায় প্রধানত নজর দেওয়া হয়েছিল মস্তিষ্কের দুটি অংশের ওপর:

* ডরসোল্যাটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (dlPFC)

* ডরসাল অ্যান্টেরিওর সিঙ্গুলেট কর্টেক্স (dACC)

এই অংশগুলি মূলত মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক’ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ। আমরা কখন মনোযোগ দেব, নিজের আচরণ কেমন নিয়ন্ত্রণ করব এবং কখন কোনো কাজ বন্ধ করব—এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে এই অংশগুলি সাহায্য করে।

পছন্দের ভিডিওতে স্তিমিত হয় ‘নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’

আরও পড়ুন
মহাকাশে চাষ, মহাকাশেই রান্না!
মানুষ তো দূর, সূর্যেরও জন্ম হয়নি তখন!
এ বার গাছেই তৈরি হবে মাংসের প্রোটিন

পরীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা যখন তাঁদের পছন্দের কোনো ভিডিও শেষ পর্যন্ত দেখেন, তখন মস্তিষ্কের এই দুটি অংশের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিপরীতে, অপছন্দের ভিডিও দেখার সময় এই পরিবর্তন ততটা দেখা যায়নি।

গবেষকদের মতে, চিত্তাকর্ষক ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার সময় মস্তিষ্ক যখন পুরোপুরি তাতে ডুবে যায়, তখন স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। ফলে ভিডিও দেখা বন্ধ করে অন্য কাজে ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে মজার বিষয় হলো, অংশ দুটির স্বতন্ত্র কাজ কমলেও ভিডিও চলাকালীন এদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়।

দৈনন্দিন স্মৃতিতেও কি প্রভাব পড়ছে?

এই আবিষ্কারটি শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট নিয়ে হওয়া অন্যান্য গবেষণার সঙ্গেও মিলে যায়:

* ২০২৫ সালের এক গবেষণা:

নিকোলাস বার্টন ও মাইকেল স্মিথের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন ঘন এক ভিডিও থেকে অন্য বিষয়ে যাওয়ার (Context-switching) ফলে মানুষের ‘প্রসপেক্টিভ মেমরি’ বা ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার কথা মনে রাখার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

* ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সমীক্ষা:

বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও উঠে এসেছে যে, একটানা দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও দেখলে পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা মনে রাখার নির্ভুলতা কমে যেতে পারে।

স্থায়ী ক্ষতির প্রমাণ নেই, তবে সচেতনতা জরুরি

গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ফলাফলের মানে এই নয় যে রিলস বা শর্টস দেখলে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কার্যক্ষমতা হারায়। এটি মূলত বোঝার চেষ্টা যে, কেন দ্রুত পরিবর্তনশীল ও আকর্ষণীয় ভিডিও মানুষের মনোযোগ এত শক্তভাবে ধরে রাখে এবং কেন “আর একটাই ভিডিও দেখে বন্ধ করব”—এই প্রতিশ্রুতি রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে ওঠে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য