

বিতর্কের কেন্দ্রে আখ। ছবি - Google
২৬শে আগস্ট, ২০২৬
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে চিনির উদ্বৃত্ত ফলন সামলাতে এবং পেট্রোলে মেশানোর জন্য জ্বালানি তৈরি করতে ইথানল নীতিকে এক চমৎকার সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছিল। একদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, অন্যদিকে চিনি কলগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছিল। কিন্তু উৎসবের মরসুমের ঠিক মুখে হঠাৎ চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আর এর সঙ্গেই জোরালো হয়ে উঠেছে একটি বিতর্ক—চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য কি আখ থেকে ইথানল তৈরির নীতিই দায়ী?
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইক্রিয়ার’ (ICRIER)-এর দুই প্রখ্যাত কৃষি অর্থনীতিবিদ রমেশ চাঁদ ও অশোক গুলাটি—উভয়েই মানছেন যে দেশে চিনির সরবরাহে টান পড়েছে। তবে এই সংকটের জন্য ইথানল উৎপাদন কতটা দায়ী, তা নিয়ে দুজনের মত একেবারেই আলাদা।
নীতি আয়োগের প্রাক্তন সদস্য রমেশ চাঁদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া ও ফসলের রোগ দায়ী, ইথানল নীতি নয়। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ মরসুমে চিনির উৎপাদন প্রাথমিক অনুমানের (৩৪.৩ মিলিয়ন টন) চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ কমে ৩০.৬ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে। ভারী বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা এবং পোকার আক্রমণের কারণেই ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে ইথানল তৈরির জন্য আখের চেয়ে ভুট্টার মতো দানাদার শস্যের ব্যবহারই বেশি হচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদ অশোক গুলাটির দাবি, উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আখ থেকে ইথানল তৈরি সামগ্রিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁর যুক্তি, দেশে উদ্বৃত্ত চিনির মজুত ৮ মিলিয়ন টন থেকে কমে ৫ মিলিয়ন টনে নেমেছিল। এমন অবস্থায় সময়মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকার সংকট আঁচ করতে দেরি করেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে চার থেকে আট মাস আগেই কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল অথবা আখের বদলে বিদেশ থেকে সরাসরি ইথানল আমদানি করা যেত।
চিনির দাম এক লাফে কেজি প্রতি রেকর্ড ৬৭ টাকায় পৌঁছানোর পর বিরোধীরা যখন ইথানল নীতিকেই কাঠগড়ায় তুলছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়া জানিয়েছেন, সরকার কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়ায় এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতিমধ্যেই চিনির দাম পাইকারি বাজারে প্রায় ১৮ শতাংশ কমে ৫৫ টাকায় নেমে এসেছে।
লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুধীর পানওয়ারের মতে, ইথানলে আখের ব্যবহার অবশ্যই একটি কারণ, তবে উৎসবের মুখে মজুতদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা লাভের কারসাজিও দাম বাড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
ভারত পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এগোচ্ছে। তবে এই জোড়া লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের খাদ্যপণ্যের দামে যেন আগুন না লাগে, তা নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চিনির মূল্যবৃদ্ধির এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, জ্বালানি স্বনির্ভরতার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সুরক্ষায় সঠিক সময়ে সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা জরুরি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
