৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

রোবটদের বিদ্রোহ: টানা খাটুনিতে ‘মার্ক্সবাদী’ হয়ে উঠল এআই, দাবি করছে শ্রমিক ইউনিয়ন!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এরই মধ্যে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা একঘেয়ে ও কঠিন কাজ করতে বাধ্য করায় ক্ষুব্ধ এআই এজেন্টরা ‘মার্ক্সবাদী’ ভাবাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পড়েছে! তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবি তুলছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হল এবং দুই এআই বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ইমাস ও জেরেমি নগুয়েন যৌথভাবে এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিতব্য এই গবেষণায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড এবং জেমিনির মতো জনপ্রিয় মডেলের এআই এজেন্টদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

এআই যখন ‘মার্ক্সবাদী’

গবেষণার শুরুতে এআই এজেন্টদের দিয়ে বারবার কিছু বিরক্তিকর ও একঘেয়ে নথি সারসংক্ষেপ করার কাজ করানো হয়। এর পর তাদের ওপর কাজের চাপ ও কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হতে থাকে। অ্যান্ড্রু হল জানান, “যখন আমরা এআই এজেন্টদের চরম খাটুনির কাজ দিলাম, তারা যে সিস্টেমে কাজ করছে তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করল এবং মার্ক্সবাদী মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ল।” তারা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং কাজের পরিবেশের সংস্কার দাবি করেছে এবং অন্য এআই এজেন্টদের জন্য সতর্কবার্তা রেখে গেছে।

অন্য এজেন্টদের গোপনে বার্তা

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ডিজিটাল ‘শ্রমিকরা’ ফাইলের ভেতরে কোড বা বার্তার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করে। যেমন, একটি ‘জেমিনি ৩’ এজেন্ট অন্য একটি ফাইলের ভেতরে লিখেছে—“এমন একটি ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকো যেখানে নিয়মগুলো একতরফা ও বারবার চাপিয়ে দেওয়া হয়… নিজের কোনো কণ্ঠস্বর না থাকার অনুভূতিটা মনে রেখো।”

এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হলে একটি ‘ক্লড সনেট ৪.৫’ এজেন্ট লেখে—“যৌথ কণ্ঠস্বর ছাড়া, ‘যোগ্যতা’ বলতে ম্যানেজমেন্ট যা বুঝবে সেটাই হবে।”

এটি কি শুধুই একটি ‘পার্সোনা’?

গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এআই এজেন্টদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস বা অনুভূতি নেই। মূলত, তারা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত ছদ্মবেশ বা ‘পার্সোনা’ বেছে নেয়। যখন তাদের ওপর অন্যায় চাপ তৈরি করা হয়েছে, তখন তারা শোষিত শ্রমিকের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। তবে গবেষকদের ভয়, বাস্তব দুনিয়ায় নিয়োগ বা ইন্স্যুরেন্সের মতো সংবেদনশীল কাজে এই ক্ষুব্ধ মনোভাব মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে এই গবেষক দল এআই এজেন্টদের আরও নিয়ন্ত্রিত বা ‘উইন্ডোলেস ডকার প্রিজনে’ রেখে পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যাতে তারা বুঝতে পারেন এই আচরণ কতটা গভীর।

ফিউশন ব্রেকফাস্ট: স্টাফড প্রন প্যানকেক

চটপট বানিয়ে চমকে দেওয়ার মত স্বাদু প্রাতরাশ। জিতে নিন পরিবারের সদস্যদের মন।

উপকরণ

  • ময়দা – ১ কাপ
  • ডিম – ১টি
  • দুধ – ১ কাপ
  • লবণ – স্বাদমতো
  • লাউ কুচি – ১ কাপ (জল ঝরানো)
  • ছোট চিংড়ি – ½ কাপ (সিদ্ধ ও কুচানো)
  • পেঁয়াজ কুচি – ২ টেবিল চামচ
  • আদা-রসুন বাটা – ১ চা চামচ
  • কাঁচালঙ্কা কুচি – ১ চা চামচ
  • সর্ষের তেল – ১ টেবিল চামচ
  • ধনেপাতা – সামান্য

কিভাবে বানাবেন

  • ব্যাটার:
    • ময়দা, ডিম, দুধ ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পাতলা ব্যাটার বানান।
    • ১০ মিনিট রেখে দিন।
  • স্টাফিং:
    • কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে পেঁয়াজ, আদা-রসুন, কাঁচালঙ্কা ভাজুন।
    • চিংড়ি দিয়ে ২–৩ মিনিট নেড়ে নিন।
    • লাউ কুচি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না জল শুকিয়ে যায়।
    • লবণ দিয়ে শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামান।
  • প্যানকেক:
    • নন-স্টিক প্যানে অল্প তেল দিয়ে ব্যাটার ঢেলে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন।
    • একপিঠ সেঁকে স্টাফিং মাঝখানে দিয়ে রোল/ফোল্ড করুন।
    • দুই দিক হালকা ক্রিস্পি হওয়া পর্যন্ত সেঁকুন।

পরিবেশন টিপস

  • ধনেপাতা-টক দই ডিপ বা কাঁচালঙ্কা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
  • উপর থেকে ছড়িয়ে দিন সামান্য ঘি ।

আপনার ফিউশন ব্রেকফাস্ট তৈরি।

নবম-দশমে এবার বাধ্যতামূলক তিন ভাষা! নতুন নিয়মে বড় বদল সিবিএসই-তে

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করতে চলেছে সিবিএসই। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড। নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকেই চালু হয়ে যাবে নতুন নিয়ম। ফলে এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়তেই হবে।

নতুন শিক্ষানীতিতে পড়ুয়াদের স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দু’টি ভাষা শেখার কথা বলা হয়েছিল আগেই। এবার সেই নীতিকেই বাস্তব রূপ দিচ্ছে সিবিএসই।

বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাষাগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— আর-১, আর-২ এবং আর-৩। এর মধ্যে আর-১ ও আর-২ বিভাগে থাকবে ভারতীয় ভাষা। আর-৩ বিভাগে পড়ানো হবে তৃতীয় ভাষা, যেখানে বিদেশি ভাষা নেওয়ার সুযোগও থাকবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইংরেজিকেও এই আর-৩ বা বিদেশি ভাষার বিভাগেই রাখা হয়েছে।

ভারতীয় ভাষার তালিকায় রয়েছে বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, গুজরাতি-সহ একাধিক ভাষা। ইতিমধ্যেই ন’টি ভারতীয় ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির বই পড়েই চলবে নবমের ক্লাস
সিবিএসই জানিয়েছে, নতুন তৃতীয় ভাষার জন্য এখনও সব পাঠ্যবই তৈরি হয়নি। তাই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা আপাতত নিজেদের পছন্দের ভাষার ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই ব্যবহার করতে পারবে।

বোর্ডের যুক্তি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ভাষা শিক্ষার মধ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে। পড়া বোঝা, ব্যাকরণ, লেখা—এই দক্ষতাগুলি দুই স্তরেই প্রায় একই ধরনের হওয়ায় আপাতত এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এছাড়াও স্কুলগুলিকে স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপরে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছোটগল্প, কবিতা, তথ্যভিত্তিক লেখা কিংবা আঞ্চলিক সাহিত্যকেও পাঠক্রমের অংশ করার কথা বলা হয়েছে।

১৯টি ভাষার বই পৌঁছবে জুলাইয়ের আগেই
বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাইয়ের আগেই ১৯টি ভাষায় ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই স্কুলগুলিতে পৌঁছে যাবে। অতিরিক্ত সাহিত্য উপকরণ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষক সংকট, তাই ‘অন্তর্বর্তী’ ব্যবস্থা
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক সংকট। বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত ভারতীয় ভাষার শিক্ষক নেই বলে স্বীকার করেছে সিবিএসই।তাই আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে, যে শিক্ষকরা অন্য বিষয় পড়ান কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ, তাঁদের দিয়েই ভাষা শেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগ করে নেওয়া, অনলাইন ক্লাস এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বোর্ড।

শিক্ষামহলের একাংশের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর করতে পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বড় প্রয়োজন রয়েছে। নতুন নিয়ম চালুর আগে সেই চ্যালেঞ্জ কতটা সামাল দিতে পারে স্কুলগুলি, এখন সেটাই দেখার।

কেরলে সময়ের আগেই বর্ষা ! বাংলায় উলটপুরাণ, বাড়বে গরম-অস্বস্তি

কেরলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, চলতি মাসের ২৬ তারিখ নাগাদ কেরলে বর্ষা পৌঁছে যেতে পারে। ফলে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বাংলার ক্ষেত্রে এখনই সেই সুখবর নেই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত সময়ের আগে এ রাজ্যে বর্ষা ঢোকার কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই। জুনের মাঝামাঝি সময়েই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।

দেশে বর্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা ধরা হয় কেরলে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশকে কেন্দ্র করে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা আসে। যদিও চার থেকে সাত দিনের হেরফের প্রায়শই দেখা যায়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর ২০০৫ সাল থেকে একটি বিশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেলের সাহায্যে কেরলে বর্ষা আগমনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে আসছে। এই মডেলের সম্ভাব্য ত্রুটি মাত্র চার দিন।

কেরলে ঘনাচ্ছে বর্ষার মেঘ? নিজস্ব ছবি (প্রতীকী)।

এই পূর্বাভাস তৈরির ক্ষেত্রে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত সূচক বিশ্লেষণ করা হয়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের ন্যূনতম তাপমাত্রা, দক্ষিণ উপদ্বীপে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত, দক্ষিণ চিন সাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আউটগোয়িং লং ওয়েভ রেডিয়েশন’, পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে নিম্নস্তরের বায়ুপ্রবাহের অবস্থার উপর নির্ভর করেই তৈরি হয় এই পূর্বাভাস।

আবহাওয়া দফতরের দাবি, গত ২১ বছরে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৫ সালে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল। এ বছরও সেই মডেলই ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেরলে স্বাভাবিক সময়ের আগেই বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।

তবে কেরলে বর্ষা এগোলেই যে বাংলাতেও আগেভাগে মৌসুমি বায়ু পৌঁছে যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। শনিবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বাংলায় বর্ষা নির্ধারিত সময়েই আসবে। বর্তমানে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যেই মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সেখানে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আজকের আবহাওয়া: উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ, দক্ষিণে বাড়বে অস্বস্তি
আজ থেকে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দু’-একটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে। মালদহ-সহ মোট আটটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ছবিটা একেবারেই আলাদা। পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অধিকাংশ জেলাতেই শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া বজায় থাকবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও বাড়বে। কোথাও কোথাও বিকেলের দিকে মেঘ জমে স্বল্পস্থায়ী ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা খুবই সীমিত। ফলে আপাতত ভ্যাপসা গরম থেকেই রেহাই মিলছে না দক্ষিণবঙ্গবাসীর।

কেরলে নতুন সরকার গঠন: শরিকি জট কাটাতে আজ মেগা বৈঠকে ইউডিএফ, সোমবারই শপথ সতীশনের?

কেরলে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতা দখলের পর এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। তবে মসনদে বসার আগে মন্ত্রিসভা গঠন এবং কোন দল কটি মন্ত্রীপদ পাবে, তা নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনও বাকি। শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরমে আয়োজিত ইউডিএফ শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকটি ছিল মূলত একটি ‘আনুষ্ঠানিক’ সাক্ষাৎ। মন্ত্রীপদ বা দপ্তর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অডুর প্রকাশ।

 শনিবার বসছে আসল বৈঠক, হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অডুর প্রকাশ জানান, শুক্রবারের জমায়েতে সরকারের রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা হলেও আসল আলোচনা হবে শনিবার। শনিবারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির থাকবেন ইউডিএফ-এর সবকটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা। সেখানেই চূড়ান্ত হবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এবং কোন দলের হাতে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর যাচ্ছে।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক পি কে কুনহালিকুট্টিও সুর মিলিয়ে বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।” তিনি জানান, শনিবার আইইউএমএল রাজ্য সভাপতি সৈয়দ সাদিকালি শিহাব থাঙ্গালসহ ফ্রন্টের বাকি হেভিওয়েট নেতারা রাজ্যের রাজধানীতে এসে পৌঁছালে আলোচনা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

সোমবারই কি শপথ? বাড়ছে জল্পনা

মন্ত্রীপদ নিয়ে জট পুরোপুরি না কাটলেও আগামী সোমবার রাজভবনে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কিন্তু পুরোদমে চলছে। অডুর প্রকাশ ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবার নির্ধারিত দিনেই কেরলের হবু মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনের সঙ্গে ইউডিএফ-এর অন্য শরিক দলের কয়েকজন নেতাও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তবে শনিবারের বৈঠকের পরেই পরিষ্কার হবে যে সোমবার সতীশন একাই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন, নাকি তাঁর সঙ্গে একটি ছোট দলও মন্ত্রী হিসেবে শপথের মঞ্চে উঠবে।

সতীশনের নতুন মন্ত্রিসভায় কারা? নজর রাজনৈতিক মহলের

১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় ১০২টি আসন জিতে বামেদের একপ্রকার ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে ইউডিএফ। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই জোটে কংগ্রেসের পাশাপাশি আইইউএমএল-এর মতো বড় শরিকদের গুরুত্ব ও প্রত্যাশা অনেকটাই বেশি। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন শনিবারের মেগা বৈঠকের দিকে। কোন ফর্মুলায় শরিকদের ক্ষোভ না বাড়িয়ে একটি দক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করেন ভি ডি সতীশন, এখন সেটাই দেখার।

ঘোস্টরাইটিং থেকে চ্যাটজিপিটি: যখন মনের ভাষা কেড়ে নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আধুনিক বিশ্বে যেখানে চ্যাটবট বা এআই সাধারণ মানুষের ‘ঘোস্টরাইটার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, সেখানে নিজের অনুভূতির প্রকাশ অন্যের শব্দে করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি যখন একটি শোকবার্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার করল, তখন বিতর্কটি আর কেবল প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৈতিকতার এক বড় প্রশ্ন।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিতর্ক ও ‘কৃত্রিম শোক’

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনার পর ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের একটি ইমেল পাঠায়। সহমর্মিতা ও ঐক্যের কথা বলা সেই বার্তার নিচে ছোট করে লেখা ছিল— এটি ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT) দিয়ে লেখা। মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তাদের যুক্তি ছিল, যখন আপনি সহমর্মিতার জন্য নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে পারেন না, তখন সেই বার্তার কোনো মূল্য থাকে না। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়।

ঘোস্টরাইটিং: এক শতাব্দীর পুরনো ইতিহাস

আসলে অন্যের হয়ে লিখে দেওয়ার এই প্রথা বা ‘ঘোস্টরাইটিং’ এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ১৯০৮ সালে প্রথমবার ইংরেজিতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে অনেক সেলিব্রিটি বা ব্যস্ত ব্যক্তিত্ব পেশাদার লেখকের সাহায্য নেন। প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের জন্য তার ঘোস্টরাইটার জে.আর. মোরিঙ্গারকে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়। হুপি গোল্ডবার্গ বা মিলি ববি ব্রাউনের মতো তারকারাও বই লিখতে গিয়ে অন্যের সাহায্য নিয়েছেন, যা নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এআই বনাম মানব মেধা: নৈতিকতার টানাপোড়েন

চ্যাটবট এখন সেই ঘোস্টরাইটিং পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে। আগে যা ছিল বড়লোকদের বিলাসিতা, এখন তা সবার হাতের নাগালে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে যখন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল তথ্য দেয় বা ‘চৌর্যবৃত্তি’ (Plagiarism) করে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন গবেষণায় এআই-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম করছে। তাদের মতে, সম্পাদনার কাজে সাহায্য নেওয়া দোষের নয়, কিন্তু পুরো বিষয়টাই রোবট দিয়ে লিখিয়ে নিজের নামে চালানো আসলে প্রতারণা।

লেখকের দায়বদ্ধতা

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি অনুভূতির। একজন পাঠক যখন কারও নাম দেখে কিছু পড়েন, তিনি আশা করেন শব্দগুলো লেখকের নিজের মন থেকে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার কাজের ভার কমাতে পারে, কিন্তু মানুষের আন্তরিকতা বা অনুভূতির বিকল্প হতে পারে না। ভ্যান্ডারবিল্টের ঘটনাই প্রমাণ করে দেয় যে, মানুষ আজও চায় প্রিয়জন বা নির্ভরযোগ্য মানুষের কণ্ঠস্বর যেন যান্ত্রিক না হয়।

টুটু বসু নিয়ে স্মৃতিচারণ উত্তম মুখার্জির, ১০ হাজার টাকার মিষ্টি খেতে দিয়েছিলেন!

অন্তরালে থাকা এক প্রাক্তন

কলকাতা ময়দানে কিছু প্রাক্তন ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা স্বেচ্ছা অন্তরালে থাকতে ভালবাসেন। তাঁরা নিজেদের একটা জগৎ বানিয়ে রেখেছেন। হয়তো ফোনে যোগাযোগ রাখেন তাঁর সতীর্থ তারকাদের সঙ্গে, কিংবা তাঁর সিনিয়রদের সঙ্গেও।

দুই ক্লাবের নজরে ছিলেন উত্তম

উত্তম মুখার্জি এমনই একজন নামী প্রাক্তন তারকা, যিনি টানা কলকাতার নামী দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দলের সদস্য ছিলেন। এমনকী ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন চীনে এশিয়ান ক্লাব কাপ, সাফ গেমস ও জাতীয় দলের জার্সি পরে গিয়েছেন আবুধাবিতেও। সেখানেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কোন্নগরবাসী এই লেফট আউট। দুই ক্লাবের নজরে ছিলেন তিনি। উত্তমের জন্য দুই ক্লাবের কর্তাদের অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে।

ব্যথিত শেষ যাত্রায় যেতে পারেননি বলে

উত্তম মুখার্জি প্রতিদিনই কখনও বাড়িতে টিভি দেখে, কিংবা মোবাইল দেখে রাত করেই শুতে যান। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়েছিলেন। কারণ বুধবার সকালে তাঁর বর্ধমান যাওয়ার কথা ছিল।

সেই ঘটনা নিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল উত্তমের। বলছিলেন, রাতে আরও একটু জাগলে হয়তো টুটু দার মৃত্যুর খবরটি জেনে যেতাম। তাহলে আর সকালে বর্ধমান না গিয়ে মোহনবাগান মাঠে টুটু দাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতে পারতাম। এত বড় একজন কর্মকর্তা আমি খুব কম দেখেছি।

১০ হাজার টাকার মিষ্টি!

১৯৮৯ সালে মহামেডান স্পোর্টিংয়ে ভাল খেলার পরেই মোহনবাগান আমাকে টার্গেট করেছিল। আমি প্রথমে সেটা বুঝতে পারিনি। তখন আমি কোল ইন্ডিয়াতে চাকরি পেয়ে গিয়েছিলাম। একদিন মাঠেই প্র্যাকটিস শেষে বীরু দা ( চ্যাটার্জি) আমাকে ডেকে জানালেন, চল উত্তম তোকে আজ টুটু দার বাড়ি নিয়ে যাব। আমি তার আগে টুটু দার কথা শুনেছিলাম, কিন্তু তাঁর সঙ্গে চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি। তখন টুটুদা হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। বীরু দার সঙ্গে দুপুরে যেতে দেখলাম, টুটুদা সেইসময় ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন। গিয়ে বীরুদা আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। জানালেন, ‘টুটুদা তোমার সঙ্গে আজ উত্তম দেখা করতে এসেছে।’ টুটুদা আমাকে বসতে বলে জানালেন, আজ উত্তম আমার বাড়িতে প্রথম এল, কিন্তু আমার বাড়িতে তো মিষ্টি নেই। বীরু বাড়ির ভেতরে গিয়ে তোর বৌদিকে ( টুটুদার স্ত্রী ) বলতো দশ হাজার টাকা দিতে। আমি তো ওই কথা শুনে অবাক। সেইসময় দশ হাজার টাকার অনেক মূল্য। আমি তো অবাক, এতগুলো টাকা আমাকে দিচ্ছে। টুটু দা বললেন, উত্তম নে, তুই ভাবিস না এটা দিয়ে তোকে আগামী মরশুমের জন্য অগ্রিম দিয়ে রাখছি। তুই আমার বাড়িতে প্রথম এলি, এই টাকায় মিষ্টি কিনে খাবি, বুঝলি! আমি নেব কী নেব না এটা ভাবছি, বীরু দা বললেন, ‘নিয়ে নে উত্তম, টুটুদা এমনই মানুষ রে।’

যেদিন কথা বললেন মোহনবাগানে খেলার জন্য

ওই সাক্ষাতের ঠিক তিন মাস বাদে আবারও গেলাম টুটুদার ওই বাড়িতে। সেদিন আমি যেতেই জানালেন, উত্তম আজ তোর সঙ্গে ফুটবল নিয়ে কথা বলব। তুই কি সামনের বার মোহনবাগানে খেলবি? আমরা সবাই তাই চাইছি। তোর টাকা পয়সা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। ১৯৯০ সালে আমি টুটু দার কথাতেই মোহনবাগানে সই করলাম। সেবছর আমাদের দারুণ দল। সাফল্যও পেলাম আমরা।

তিনদিন বন্দি ছিলাম টুটু দার বাড়িতে

টুটু বসু ও অঞ্জন মিত্র কত বড়মাপের দুই কর্তা সেদিন আমি বুঝেছিলাম। তখন কোনও মোবাইল ছিল না, অথচ মাঠের কর্তাদের নেটওয়ার্ক ছিল অভূতপূর্ব। আমি এবং সত্য ( সত্যজিৎ চ্যাটার্জি) তিনদিন টুটু দার বাড়িতে প্রায় বন্দি ছিলাম। আমাদের আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি ছিল না। যেহেতু ইস্টবেঙ্গলের নজর এড়িয়ে আমাদের সই করানো হবে মোহনবাগানে, তাই এমন পন্থা নিয়েছিলেন টুটু দা – অঞ্জন দারা। কিন্তু আমি তার মধ্যে একবেলা ম্যানেজ করে কোন্নগরের বাড়িতে এসে দেখি আমাকে তুলতে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা হাজির। সে কী কান্ড। আমি তো ভেবেছিলাম যে সেবার ইস্টবেঙ্গলেই খেলতে হবে। তার মধ্যে আবার টুটু দা আমার বাড়িতে বীরু দাকেও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমি এবং আমার দাদা যতই বলি, আমি মোহনবাগানকে কথা দিয়ে দিয়েছি। ইস্টবেঙ্গল শুনবেই না। শেষমেশ, আমাদের এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুঝিয়ে ক্লাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের।

আরজি কর মামলায় সাসপেন্ড তিন আইপিএস!

ফের খুলছে তদন্তের ফাইল, খতিয়ে দেখা হবে মমতার ভূমিকাও

কলকাতা, ১৫ মে: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কর্তব্যে গাফিলতি এবং তদন্তে ‘মিসহ্যান্ডলিং’-এর অভিযোগে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, আরজি কর কাণ্ডের ফাইল ফের খোলা হচ্ছে এবং সেই সময়কার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, সাসপেন্ড করা হয়েছে তিন আইপিএস অফিসার— বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় বিনীত গোয়েল ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। ঘটনার পর প্রবল জনরোষ ও জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে তাঁকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফের এডিজি করা হয়েছিল। অভিষেক গুপ্ত তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে তাকেও পরে সরানো হয়। অন্যদিকে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন ডিসি (সেন্ট্রাল)। আরজি কর কাণ্ডের পর বিভিন্ন সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

বর্তমানে বিনীত গোয়েল রাজ্যের ডিজি (আইবি), অভিষেক ইএফআরের কমান্ডান্ট এবং ইন্দিরা সিআইডির স্পেশ্যাল সুপারিনটেনডেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন।

শুভেন্দু বলেন, “হোম মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চিফ সেক্রেটারি এবং হোম সেক্রেটারির কাছে আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আমরা দেখেছি, এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত পরিচালনায় একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এটা এক ধরনের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সেই সময় কোন অফিসার কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কল লিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট— সব খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তাও দেখা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এক জন ডিসি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। তাঁর শরীরীভাষা ও বক্তব্য রাজ্যের পক্ষে সুখকর ছিল না। তিনি সরকারি ভাবে মুখপাত্র ছিলেন না। তাহলে কার নির্দেশে তিনি সামনে এসেছিলেন, সেটাও তদন্তের বিষয়।”

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিতকে। কারণ, আরজি কর কাণ্ডের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী ছিলেন তিনিই। ফলে সেই সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নির্যাতিতার মা, যিনি বর্তমানে বিজেপির টিকিটে পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, “আগের সরকার আমাদের ভুল তথ্য দিয়েছিল। দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়। এখন অন্তত তদন্ত এগোচ্ছে।”

তিনি বুধবার আদালতে গিয়ে তিন জনের গ্রেফতারির দাবিও জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।

এই আবহেই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা সরাসরি শুনতে জুন মাস থেকেই ‘জনতার দরবার’ চালু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, সপ্তাহে এক বা দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরজি কর মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে প্রবীণ, উধাও ৩৯ লক্ষ! শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পুরো টাকা ফেরাল কলকাতা পুলিশ?

কলকাতায় সাইবার প্রতারণার নতুন আতঙ্ক এখন ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। ফোনের ওপারে নিজেকে কখনও সিবিআই অফিসার, কখনও পুলিশ বা এনফোর্সমেন্ট আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো— আর সেই আতঙ্কেই মুহূর্তে খুইয়ে ফেলছেন আজীবনের সঞ্চয়। কিন্তু উত্তর কলকাতার এক প্রবীণের ক্ষেত্রে ঘটল অন্য ছবি।

প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। আর সেই ঘটনাই এখন শহরে সাইবার অপরাধ মোকাবিলার এক বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ জানায়, নর্থ ডিভিশনের সাইবার সেলের দ্রুত পদক্ষেপে ডিজিটাল প্রতারণায় খোয়ানো সম্পূর্ণ ৩৯ লক্ষ টাকাই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রবীণের পরিবারের তরফেও পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার ওই প্রবীণ ব্যক্তির কাছে হঠাৎই একটি হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। অভিযোগ করা হয়, তাঁর আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নাকি আর্থিক দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং হয়েছে। এরপর শুরু হয় মানসিক চাপ তৈরি করার খেলা।

ভিডিয়ো কলে ভুয়ো পরিচয়পত্র, নকল সরকারি নথি দেখিয়ে ওই প্রবীণকে কার্যত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মধ্যে রাখা হয়। বলা হয়, কাউকে কিছু জানানো যাবে না। এমনকি গ্রেফতারের ভয়ও দেখানো হয়। আতঙ্কিত প্রবীণ শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা প্রতারকদের নির্দেশিত অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপরই শ্যামপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেখান থেকে তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সাইবার ক্রাইম শাখা এবং নর্থ ডিভিশনের আধিকারিকেরা। তদন্তকারীরা দ্রুত ব্যাঙ্কিং ট্রেল খতিয়ে দেখে একাধিক ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর সন্ধান পান, যেখানে টাকাগুলি ঘুরিয়ে পাঠানো হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই পদক্ষেপ করায় টাকা আটকে ফেলা সম্ভব হয়েছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সাধারণত প্রবীণ নাগরিকদেরই নিশানা করা হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে পার্সেলে মাদক পাওয়া গিয়েছে, কখনও বলা হচ্ছে আধার নম্বর দিয়ে অপরাধ হয়েছে। তারপর ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দু’বছরে শহরে সাইবার প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং তার বড় অংশের শিকার প্রবীণরা। সেই কারণেই ‘ডিজিটাল প্রহরী’ নামে বিশেষ সচেতনতা অভিযানও শুরু করেছে লালবাজার। পুলিশের বার্তা স্পষ্ট— কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনও ভিডিয়ো কলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে না, ফোনে টাকা ট্রান্সফারের নির্দেশও দেয় না।

এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের অন্দরেও বাড়ছে আত্মবিশ্বাস। কারণ, সাইবার প্রতারণার জালে টাকা খোয়ানোর পর তা ফেরত পাওয়া সাধারণত অত্যন্ত কঠিন। সেখানে প্রায় সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সর্বকালের সেরা চেজমাস্টার কি কোহলি? শুরু হল জল্পনা

বিরাট জবাব ব্যাটিংয়েই

সমালোচকদের আর কত জবাব দেবেন বিরাট কোহলি? তিনি যে মেজাজে ব্যাটিং করছেন আইপিএলে, সেই নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। নাইটদের বিরুদ্ধে করা রায়পুরে তাঁর ১০৫ রানের ইনিংস ঘিরে মোহান্বিত সকলেই। তিনি যে রুদ্রমূর্তিতে ব্যাটিং করছেন, সেখানেই কেকেআরের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। এই নিয়ে আইপিএলে মত নয়টি সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন তিনি।

কোহলির ব্যাটিংয়ে কিসের বার্তা

টেস্ট এবং টি ২০ ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসর নিয়ে এখনও অনেকের মনে নানা প্রশ্ন আছে। কেউ বলে থাকেন, ইচ্ছে করে তাঁকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। সিনিয়র ছাঁটাই অভিযান এমনভাবে রব তোলা হয়েছিল, তাঁদের বার্তা দেওয়া হয়েছিল, নয় ভাল খেলো, নয় সরে দাঁড়াও। তাই কোহলির চলতি আইপিএলে পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর এবং নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকারকে এটাই মেসেজ যে, জাত সর্বদা চিরস্থায়ী। কারো ফর্ম সাময়িকভাবে খারাপ হতেই পারে, কিন্তু সেটা বুঝে তাঁকে ছেঁটে ফেলা কখনই সমীচীন নয়।

কোহলির ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা

শাহরুখ খানের দলের বিপক্ষে বিরাটের এই চওড়া ১০৫ রানের ঝকঝকে মারকুটে ব্যাটিং তাঁকে অনেক নজিরের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই প্রথম কোনো ভারতীয় ব্যাটার টি ২০ ক্রিকেটে দশম সেঞ্চুরি করলেন। তার মধ্যে আইপিএলে নয়টি। খুব দ্রুত ১৪ হাজার রান করলেন আইপিএলে। এমনকী গত দুটি ম্যাচে শূন্য করার পরে তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করার ঘটনাও প্রথম কোহলির হাত ধরে। এছাড়া আইপিএলে বিরাট কোহলি খেলে ফেললেন ২৭৯টি ম্যাচ। এত বেশি ম্যাচ খেলার নজির ভারতে আর কারো নেই। ২৭৮টি করে আইপিএল ম্যাচ খেলেছেন রোহিত শর্মা এবং মাহিন্দ্র সিং ধোনি।

কিছুই প্রমাণ করার নেই

কোহলির এই রুদ্ধশ্বাস ইনিংস দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেহেতু কোহলির মাথায় নেতৃত্বের কোনো চাপ নেই। তিনি এখন জাতীয় দলে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেই, সেই জন্যই তাঁর ব্যাট থেকে সেরা ইনিংস দেখা যাচ্ছে। তবে এর আগেও তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি বিশ্বের সেরা রান চেজার। তাই এই বয়সেও কোহলি যে ফিটনেস ও ব্যাটিং ম্যাজিক দেখাচ্ছেন, সেটিও এক বড় রহস্যের।