৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

ঘোস্টরাইটিং থেকে চ্যাটজিপিটি: যখন মনের ভাষা কেড়ে নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঘোস্টরাইটিং থেকে চ্যাটজিপিটি: যখন মনের ভাষা কেড়ে নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ai-writing-cgpt-vs-reality-

ঘোস্টরাইটিং থেকে চ্যাটজিপিটি: যখন মনের ভাষা কেড়ে নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আধুনিক বিশ্বে যেখানে চ্যাটবট বা এআই সাধারণ মানুষের 'ঘোস্টরাইটার' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, সেখানে নিজের অনুভূতির প্রকাশ অন্যের শব্দে করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি যখন একটি শোকবার্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার করল, তখন বিতর্কটি আর কেবল প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৈতিকতার এক বড় প্রশ্ন।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিতর্ক ও 'কৃত্রিম শোক'

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনার পর ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের একটি ইমেল পাঠায়। সহমর্মিতা ও ঐক্যের কথা বলা সেই বার্তার নিচে ছোট করে লেখা ছিল— এটি 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) দিয়ে লেখা। মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তাদের যুক্তি ছিল, যখন আপনি সহমর্মিতার জন্য নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে পারেন না, তখন সেই বার্তার কোনো মূল্য থাকে না। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়।

ঘোস্টরাইটিং: এক শতাব্দীর পুরনো ইতিহাস

আসলে অন্যের হয়ে লিখে দেওয়ার এই প্রথা বা 'ঘোস্টরাইটিং' এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ১৯০৮ সালে প্রথমবার ইংরেজিতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে অনেক সেলিব্রিটি বা ব্যস্ত ব্যক্তিত্ব পেশাদার লেখকের সাহায্য নেন। প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের জন্য তার ঘোস্টরাইটার জে.আর. মোরিঙ্গারকে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়। হুপি গোল্ডবার্গ বা মিলি ববি ব্রাউনের মতো তারকারাও বই লিখতে গিয়ে অন্যের সাহায্য নিয়েছেন, যা নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এআই বনাম মানব মেধা: নৈতিকতার টানাপোড়েন

চ্যাটবট এখন সেই ঘোস্টরাইটিং পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে। আগে যা ছিল বড়লোকদের বিলাসিতা, এখন তা সবার হাতের নাগালে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে যখন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল তথ্য দেয় বা 'চৌর্যবৃত্তি' (Plagiarism) করে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন গবেষণায় এআই-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম করছে। তাদের মতে, সম্পাদনার কাজে সাহায্য নেওয়া দোষের নয়, কিন্তু পুরো বিষয়টাই রোবট দিয়ে লিখিয়ে নিজের নামে চালানো আসলে প্রতারণা।

লেখকের দায়বদ্ধতা

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি অনুভূতির। একজন পাঠক যখন কারও নাম দেখে কিছু পড়েন, তিনি আশা করেন শব্দগুলো লেখকের নিজের মন থেকে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার কাজের ভার কমাতে পারে, কিন্তু মানুষের আন্তরিকতা বা অনুভূতির বিকল্প হতে পারে না। ভ্যান্ডারবিল্টের ঘটনাই প্রমাণ করে দেয় যে, মানুষ আজও চায় প্রিয়জন বা নির্ভরযোগ্য মানুষের কণ্ঠস্বর যেন যান্ত্রিক না হয়।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য