৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

আরজি কর মামলায় সাসপেন্ড তিন আইপিএস!

আরজি কর মামলায় সাসপেন্ড তিন আইপিএস!

suvendu adhikary-cm-

আরজি কর মামলায় সাসপেন্ড তিন আইপিএস!

ফের খুলছে তদন্তের ফাইল, খতিয়ে দেখা হবে মমতার ভূমিকাও

কলকাতা, ১৫ মে: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কর্তব্যে গাফিলতি এবং তদন্তে ‘মিসহ্যান্ডলিং’-এর অভিযোগে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, আরজি কর কাণ্ডের ফাইল ফের খোলা হচ্ছে এবং সেই সময়কার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, সাসপেন্ড করা হয়েছে তিন আইপিএস অফিসার— বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় বিনীত গোয়েল ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। ঘটনার পর প্রবল জনরোষ ও জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে তাঁকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফের এডিজি করা হয়েছিল। অভিষেক গুপ্ত তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে তাকেও পরে সরানো হয়। অন্যদিকে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন ডিসি (সেন্ট্রাল)। আরজি কর কাণ্ডের পর বিভিন্ন সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

বর্তমানে বিনীত গোয়েল রাজ্যের ডিজি (আইবি), অভিষেক ইএফআরের কমান্ডান্ট এবং ইন্দিরা সিআইডির স্পেশ্যাল সুপারিনটেনডেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন।

শুভেন্দু বলেন, “হোম মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চিফ সেক্রেটারি এবং হোম সেক্রেটারির কাছে আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আমরা দেখেছি, এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত পরিচালনায় একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।”

আরও পড়ুন

অজুহাত নয়, কাজ চাই! চেয়ারে বসেই কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
দিল্লির ভরসায় শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কেন পিছিয়ে পড়লেন বাকিরা?
নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর—দু’ময়দানেই শুভেন্দুর জয়ধ্বনি, মমতার ঘাঁটিতে ধাক্কা, বাড়ছে মুখ্যমন্ত্রী জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এটা এক ধরনের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সেই সময় কোন অফিসার কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কল লিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট— সব খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তাও দেখা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এক জন ডিসি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। তাঁর শরীরীভাষা ও বক্তব্য রাজ্যের পক্ষে সুখকর ছিল না। তিনি সরকারি ভাবে মুখপাত্র ছিলেন না। তাহলে কার নির্দেশে তিনি সামনে এসেছিলেন, সেটাও তদন্তের বিষয়।”

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিতকে। কারণ, আরজি কর কাণ্ডের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী ছিলেন তিনিই। ফলে সেই সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নির্যাতিতার মা, যিনি বর্তমানে বিজেপির টিকিটে পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, “আগের সরকার আমাদের ভুল তথ্য দিয়েছিল। দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়। এখন অন্তত তদন্ত এগোচ্ছে।”

তিনি বুধবার আদালতে গিয়ে তিন জনের গ্রেফতারির দাবিও জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।

এই আবহেই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা সরাসরি শুনতে জুন মাস থেকেই ‘জনতার দরবার’ চালু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, সপ্তাহে এক বা দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরজি কর মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য