৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে প্রবীণ, উধাও ৩৯ লক্ষ! শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পুরো টাকা ফেরাল কলকাতা পুলিশ?

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে প্রবীণ, উধাও ৩৯ লক্ষ! শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পুরো টাকা ফেরাল কলকাতা পুলিশ?

digital-arrest-cyber-crime-

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে প্রবীণ, উধাও ৩৯ লক্ষ! শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পুরো টাকা ফেরাল কলকাতা পুলিশ?

কলকাতায় সাইবার প্রতারণার নতুন আতঙ্ক এখন ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। ফোনের ওপারে নিজেকে কখনও সিবিআই অফিসার, কখনও পুলিশ বা এনফোর্সমেন্ট আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো— আর সেই আতঙ্কেই মুহূর্তে খুইয়ে ফেলছেন আজীবনের সঞ্চয়। কিন্তু উত্তর কলকাতার এক প্রবীণের ক্ষেত্রে ঘটল অন্য ছবি।

প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। আর সেই ঘটনাই এখন শহরে সাইবার অপরাধ মোকাবিলার এক বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ জানায়, নর্থ ডিভিশনের সাইবার সেলের দ্রুত পদক্ষেপে ডিজিটাল প্রতারণায় খোয়ানো সম্পূর্ণ ৩৯ লক্ষ টাকাই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রবীণের পরিবারের তরফেও পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার ওই প্রবীণ ব্যক্তির কাছে হঠাৎই একটি হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। অভিযোগ করা হয়, তাঁর আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নাকি আর্থিক দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং হয়েছে। এরপর শুরু হয় মানসিক চাপ তৈরি করার খেলা।

ভিডিয়ো কলে ভুয়ো পরিচয়পত্র, নকল সরকারি নথি দেখিয়ে ওই প্রবীণকে কার্যত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মধ্যে রাখা হয়। বলা হয়, কাউকে কিছু জানানো যাবে না। এমনকি গ্রেফতারের ভয়ও দেখানো হয়। আতঙ্কিত প্রবীণ শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা প্রতারকদের নির্দেশিত অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপরই শ্যামপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেখান থেকে তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সাইবার ক্রাইম শাখা এবং নর্থ ডিভিশনের আধিকারিকেরা। তদন্তকারীরা দ্রুত ব্যাঙ্কিং ট্রেল খতিয়ে দেখে একাধিক ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর সন্ধান পান, যেখানে টাকাগুলি ঘুরিয়ে পাঠানো হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই পদক্ষেপ করায় টাকা আটকে ফেলা সম্ভব হয়েছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সাধারণত প্রবীণ নাগরিকদেরই নিশানা করা হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে পার্সেলে মাদক পাওয়া গিয়েছে, কখনও বলা হচ্ছে আধার নম্বর দিয়ে অপরাধ হয়েছে। তারপর ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দু’বছরে শহরে সাইবার প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং তার বড় অংশের শিকার প্রবীণরা। সেই কারণেই ‘ডিজিটাল প্রহরী’ নামে বিশেষ সচেতনতা অভিযানও শুরু করেছে লালবাজার। পুলিশের বার্তা স্পষ্ট— কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনও ভিডিয়ো কলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে না, ফোনে টাকা ট্রান্সফারের নির্দেশও দেয় না।

এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের অন্দরেও বাড়ছে আত্মবিশ্বাস। কারণ, সাইবার প্রতারণার জালে টাকা খোয়ানোর পর তা ফেরত পাওয়া সাধারণত অত্যন্ত কঠিন। সেখানে প্রায় সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য