৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে হাজির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী! নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ে মমতা?

কলকাতা: ভোটে পরাজয়ের ধাক্কার পরেই বলেছিলেন, তিনি এখন “মুক্ত বিহঙ্গ”। আর সেই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৃহস্পতিবার সকালে কালো কোট, সাদা ব্যান্ড পরে আইনজীবীর সাজে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হলেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে আদালত চত্বর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

সূত্রের খবর, রাজ্যের ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানিকে ঘিরেই হাইকোর্টে যান মমতা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তৃণমূলের তরফে দায়ের হওয়া মামলায় বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

হাইকোর্টে ঢোকার সময় মমতার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। আদালত চত্বরে মমতার এই নতুন অবতার দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন আইনজীবীর ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে এবার তিনি সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। সেই সময়ই তিনি নিজেকে “মুক্ত বিহঙ্গ” বলে উল্লেখ করেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সেই মন্তব্য শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং নতুন রাজনৈতিক কৌশলেরও ইঙ্গিত ছিল। আর হাইকোর্টে তাঁর এই উপস্থিতি সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে বিরোধী রাজনীতির লড়াই এখন শুধু রাস্তায় সভা-মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাংবিধানিক ও আইনি লড়াইকেও সমান গুরুত্ব দিতে চলেছে তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি আদালতের ভিতরেও চাপ বাড়ানোর কৌশল নিতে পারেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আইন পেশার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৮২ সালে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে একাধিকবার আদালতে আইনজীবীর ভূমিকায়ও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এমনকি কংগ্রেসের যুব সংগঠনের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের জামিনের জন্য আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলেও পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মীরা দাবি করেছেন।

তবে এ দিনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে অন্য একটি কারণে। ভোটে হারের পর অনেকেই মনে করেছিলেন মমতা হয়তো কিছুটা আড়ালে চলে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো ছবি। কখনও বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় ঐক্যের ডাক, কখনও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হওয়া, আবার কখনও সরাসরি আদালতে উপস্থিতি— সব মিলিয়ে তিনি যে দ্রুত বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তা স্পষ্ট বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

মাঠে-ময়দানের আন্দোলনের পাশাপাশি এজলাসের ভেতরেও যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন, বৃহস্পতিবারের কলকাতা হাইকোর্টের ঘটনায় সেই ইঙ্গিতই মিলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতা থেকেই শহরে শারদীয়ার রক্তদান

স্বেচ্ছায় রক্তদান

শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে এবং রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান (শিশুমঙ্গল)-এর সহযোগিতায় সম্প্রতি একটি সাফল্যমণ্ডিত রক্তদান শিবির হয়েছে। এই শিবিরে মোট ৬২ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

উদ্বোধক উত্তম মহারাজ

শিবিরটির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রদ্ধেয় স্বামী গুণময়ানন্দ (উত্তম) মহারাজ। তাঁর উপস্থিতি ও আশীর্বাদ সমগ্র অনুষ্ঠানে এক আন্তরিক অনুপ্রেরণার সঞ্চার করে।

মহিলাদের অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো

অনুষ্ঠানে মহিলা ও নবীন রক্তদাতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অনেকেই জীবনে প্রথমবার রক্তদান করেন এবং একে এক অনন্য মানবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

শারদীয়ার রক্তদান কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন মহিলারা। নিজস্ব চিত্র।

বাহুল্যহীন অনুষ্ঠান

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই রক্তদান শিবিরে কোনও উপহার বা বাহুল্যের আয়োজন রাখা হয়নি—ছিল শুধুমাত্র মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা।
প্রান্তিক মানুষের পাশে সংস্থা

শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বিগত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে রক্তদান, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে দুইবার রক্তদান শিবির আয়োজন এবং জরুরি প্রয়োজনে সারা বছর রক্ত জোগানের ব্যবস্থা করা এই ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ।

মানবিক মূল্যবোধ শারদীয়ার

ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা দাস বলেন — “এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং আন্তরিক সমর্থনের কারণেই সফল হয়। আপনাদের পাশে পাওয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের ট্রাস্ট আপনাদের এই অমূল্য সমর্থনের জন্য চিরকৃতজ্ঞ।” সমস্ত রক্তদাতা, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ট্রাস্টি শ্রী জয়ন্ত মন্ডল এবং কর্ণধার সৌমন কুমার সাহা।

হান্টাভাইরাস আসলে কী? কেন এটা কোভিডের থেকে আলাদা?

আর্জেন্টিনা থেকে ছেড়ে আসা নেদারল্যান্ডসের প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিউস’ (MV Hondius) এখন গভীর সমুদ্রে এক অজানা আতঙ্কের নাম। জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের (Hantavirus) প্রাদুর্ভবে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগোচ্ছে।

সংক্রমণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবার তিনজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেদারল্যান্ডসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৫০ জন যাত্রী বর্তমানে নিজেদের কেবিনে আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হল, জাহাজে থাকা বাকিদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।

সংক্রমণের উৎস: একটি বার্ড-ওয়াচিং ট্যুর?

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এক ডাচ দম্পতি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়াতে একটি আবর্জনার স্তূপে পাখি দেখার সময় ইঁদুরের বিষ্ঠা থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেখান থেকেই জাহাজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। হন্তভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল-মূত্র বা লালা থেকে ছড়ায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি **’আন্দিজ’ (Andes)** ভ্যারিয়েন্ট, যা বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে।

উপসর্গ ও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের  লক্ষণ অনেকটা ফ্লুর মতো—জ্বর, কাঁপুনি এবং পেশিতে ব্যথা। তবে সংক্রমণ বাড়লে ফুসফুসে জল জমে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৫%। তবে ডাব্লিউএইচও-র মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভ আশ্বস্ত করে বলেছেন, “এটি পরবর্তী কোভিড নয়।” সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

আন্তর্জাতিক সতর্কতা

আক্রান্তদের মধ্যে ব্রিটিশ, ডাচ এবং জার্মান নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে জাহাজটি ভেড়ানোর প্রস্তুতি চলছে, যেখান থেকে যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইঁদুরের বংশবিস্তার বাড়ছে, যা আর্জেন্টিনায় এই ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। আপাতত পুরো বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

টুটু বসু নেই! মোহনবাগান হারাল ‘আসল রত্ন’কে

নিভল মোহনবাগান তাঁবুর আলো

মঙ্গল রাত বারোটায় নিভল মোহনবাগান তাঁবুর আলো। বেলভিউ নার্সিংহোমে চোখ বুজলেন কিংবদন্তি ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বসু। এই কিছুদিন আগে ৮০ বছর জন্মদিনে তিনি বলেছিলেন, আমি উপরে গেলেও মোহনবাগান লাইফ মেম্বার হিসেবে থাকব। কেউ আমার সদস্যপদ কেড়ে নিতে পারবে না। অনেকদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতটাই মনের জোর ছিল, প্রায়ই বলতেন, একটু সুস্থ হলেই ক্লাবের খেলা দেখতে চলে যাব। কী আশ্চর্য্য, মঙ্গলবারও যুবভারতীতে মোহনবাগানের আইএসএলের ম্যাচ ছিল। দল পয়েন্ট নষ্ট করল। আর ক্লাবের বড় অভিভাবক পয়েন্ট খোয়ালেন ঈশ্বরের কাছে। শেষ বিদায়ের দিনে দলের জয়ের খবর শুনে যেতে পারলেন না। এটাই হয়তো নিয়তি, এটাই আরও এক করুণ ট্র্যাজেডি।

টুটু বসু এক মহাকাব্যের নাম

টুটু বসু হলেন মোহনবাগান ক্লাবের আসল রত্ন। তিনি ছিলেন ক্লাবের এক বড় সন্তান। তিনি বলতেন আমার দুজন মা। একজন নিজের গর্ভধারিণী, অন্যজন হল মোহনবাগান ক্লাব। তিনি প্রথম ক্লাবে আসেন হাফ প্যান্ট পরে। সেইসময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন আরও এক ক্লাবের কৃতি সন্তান অঞ্জন মিত্র। দুই বন্ধু মিলে রামপার্ট খেলা দেখতেন। দল প্রায় প্রতি ম্যাচে হেরে যেত, দুজনে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতেন। একদিন টুটু বসু বন্ধু অঞ্জনকে জানালেন, একদিন যদি আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে নাম করি, সেদিন মোহনবাগানের এমন টিম বানাব, দেখবি সব ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ব।

টুটু ম্যাজিক শুরু নব্বই দশকে

দেজ মেডিকেলের কর্ণধার ধীরেন দে মোহনবাগান ক্লাবের সচিব পদে থেকে প্রয়াত হওয়ার পরে সেই চেয়ারে বসেন টুটু। সেটা ১৯৯১ সাল। দলে নিয়ে এলেন বিদেশী তারকা চিমা ওকোরিকে। সেই শুরু, তারপর সই করালেন কৃষাণু দে এবং বিকাশ পাজিকে। ইস্টবেঙ্গল থেকে ছিনিয়ে আনলেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। এরকম কত তারকাকে স্রেফ ভালবাসা দিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন। বাইচুং ভুটিয়া থেকে এই সেদিনের ব্যারেটো কিংবা সোনি নর্ডিকে সই করিয়ে চমক দিয়েছেন।

লাগে টাকা দেবে টুটু বসু

লাগে টাকা দেবে গৌরি সেন – এই প্রবাদ কলকাতা ময়দানে পালটে দিয়েছিলেন এই নামী ক্রীড়া প্রশাসক। বলা হতো, লাগে টাকা দেবে টুটু বসু। তিনি নিজে বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর জাহাজের ব্যবসা। দুবাইতে তাঁর অফিস। একবছর আগেও দুবাই – কলকাতা করতেন তিনি। তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম মিথ হয়ে রয়েছে। কিন্তু টুটু বসুর বড় একটা মন ছিল। আর ক্লাবের প্রতি নিবিড় ভালবাসা থেকে তিনি নির্বিচারে টাকা দিয়ে গেছেন দলগঠনের সময়। একটা সময় ক্লাবের এক কোটি টাকা জরিমানার টাকাও তিনি দিয়েছিলেন। যতবার ক্লাবের অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, টুটু টাকা নিয়ে হাজির ক্লাবে। তাঁর হাঙ্গার ফোর্ড স্ট্রিটের বাড়িতে কর্তাদের আনাগোনা লেগেই থাকতো। আর অবারিত দ্বার ছিল যে কোনও ফুটবলারদের। তিনি সকলের অভিভাবক ছিলেন। একজন ক্রীড়া কর্তা হিসেবে ক্লাবের অমূল্য মোহনবাগান রত্ন তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল। সেদিন বলেছিলেন, আমার জীবন আজ সার্থক। আমি এবার মরেও শান্তি পাবো। আজ আমার বাচ্চার মতো অনুভূতি হচ্ছে।

জেষ্ঠ্য পুত্র সৃঞ্জয় বসু (ডানদিকে) এবং পৌত্র অরিঞ্জয় বসু। ছবি: Google

রেখে গেলেন যোগ্য উত্তরসূরীকে

টুটু বসু ব্যক্তিগত জীবনে একা হয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে। কিন্তু ভরা সংসারে ছিলেন তাঁর দুই পুত্র সৃঞ্জয় এবং সৌমিক। তাঁদের স্ত্রীরা এবং নাতি নাতনিদের ভালবাসার পরশে। তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে সৃঞ্জয় বসু বাবার একেবারে জেরক্স কপি। বাবার মতোই তাঁরও সিংহ হৃদয়। কারোর বিপদে সৃঞ্জয় ওরফে টুম্পাই সবার আগে এগিয়ে আসেন ঠিক বাবার মতোই। বড় ছেলেকে ক্লাবের সচিব পদে বসিয়ে বিখ্যাত বাবা চলে গেলেন বন্ধু অঞ্জনের সঙ্গে অমৃতলোকে মোহনবাগানের সর্বকালের সেরা টিম বানাতে। সেখানেও ওই জুটি সফল হবেন, বলাই যায়।

ওজন হঠাৎ কমছে বা বাড়ছে? অবহেলা নয়, হতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে? হঠাৎ ওজন বেড়ে যাচ্ছে বা অকারণে কমে যাচ্ছে? অতিরিক্ত ঘাম, দুশ্চিন্তা কিংবা মন খারাপ—এ সবই কি শুধুই ব্যস্ত জীবনের প্রভাব? এই উপসর্গগুলির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা।

বর্তমানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সময়মতো রোগ ধরা না পড়লে শরীরের নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি।

থাইরয়েড কী?
থাইরয়েড হল এক ধরনের হরমোন গ্রন্থি, যা গলার কাছে শ্বাসনালীর সামনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে মূলত T3 ও T4 হরমোন ক্ষরিত হয়, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

শুধু তাই নয়, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণ, প্রোটিন সংশ্লেষ ও কার্বোহাইড্রেটের বিপাকেও এই হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত TSH হরমোন থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বাভাবিক মাত্রা কত?
T3-এর সাধারণ মাত্রা ২.৩-৪.১ pg/ml এবং T4-এর সাধারণ মাত্রা ০.৮-১.৮ ng/dl

থাইরয়েডের প্রধান দুই সমস্যা
১) হাইপারথাইরয়েডিজম
যখন শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

লক্ষণ
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
অতিরিক্ত ঘাম
বারবার খিদে পাওয়া
উদ্বেগ ও অস্থিরতা
হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া

কারণ
থাইরয়েড গ্রন্থির সংক্রমণ
গ্রেভস ডিজিজ
টক্সিক নডিউলার গয়টার
অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ গ্রহণ

কীভাবে ধরা পড়ে?
রক্ত পরীক্ষায় Free T3 ও Free T4-এর মাত্রা বেড়ে যায়, আর TSH-এর মাত্রা কমে যায়।

চিকিৎসা
রেডিও অ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি
অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ
প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার

২) হাইপোথাইরয়েডিজম
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন ক্ষরিত হয় না, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।

লক্ষণ
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
ওজন বেড়ে যাওয়া
বেশি শীত করা
মন খারাপ বা অবসাদ

কারণ
হাশিমোটোজ ডিজিজ
আয়োডিনের অভাব
রেডিয়েশন থেরাপি
থাইরয়েড অস্ত্রোপচার
থাইরয়েডের সংক্রমণ

কীভাবে বোঝা যাবে?
এই ক্ষেত্রে Free T3 ও Free T4-এর মাত্রা কম থাকে এবং TSH-এর মাত্রা বেড়ে যায়।

চিকিৎসা
নিয়মিত Levothyroxine ট্যাবলেট সেবনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।

নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিল: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, নতুন করে হবে পরীক্ষা

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ ঘিরে চলা চরম নাটকীয়তার অবসান হল। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষাটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) হাতে।

কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

পরীক্ষা নেওয়ার কয়েকদিন পরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। যদিও শুরুতে এনটিএ সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলার দাবি করেছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সুর বদলাতে বাধ্য হয় তারা। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বা ‘ইন্টিগ্রিটি’ বড়সড়ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা আর সম্ভব নয়। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা লাঘব করতে এনটিএ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে:

ফের পরীক্ষা: বাতিল হওয়া পরীক্ষাটি আবারও নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ এখনও জানানো হয়নি। খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া: যারা ৩ মে-র পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই। পুরনো রেজিস্ট্রেশন এবং তথ্যই বহাল থাকবে।

ফি লাগবে না: নতুন করে পরীক্ষার জন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। বরং আগের নেওয়া ফি ফেরতের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।

অ্যাডমিট কার্ড: নতুন তারিখ ঘোষণার পর সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করার সুযোগ দেওয়া হবে।

 সিবিআই তদন্তের মুখে এনটিএ

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এই পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়। সিবিআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এই চক্রের মূলে পৌঁছানো যায়। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে এল এবং এর পিছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এনটিএ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সবরকম নথি ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে সিবিআই-কে সাহায্য করবে। আগামী কয়েকদিন এনটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখার জন্য পড়ুয়াদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কোনো গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেই ভরসা রাখার আর্জি জানিয়েছে সংস্থাটি।

মাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর, পাঁচটি বিষয়ে লেটার সংগ্রামের মাঝেও উজ্জ্বল তন্ময়

সাফল্যের নজির তন্ময়ের

প্রতিকূলতার মাঝেও সাফল্যের নজির গড়ল তন্ময় বিশ্বাস। চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে এবং বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইতিহাস ও ভূগোল এই পাঁচটি বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়েছে।

সংগ্রামের প্রশিক্ষক মা পূর্ণিমা

তন্ময়ের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রামের গল্প। তিন বছর আগে তাঁর পিতা আকস্মিকভাবে প্রয়াত হন। সেই সময় পরিবারে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। মা পূর্ণিমা বিশ্বাস, যিনি আগে গৃহবধূ ছিলেন, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরতা। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও তন্ময় নিজের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমে এই ফলাফল করেছে। তার শিক্ষাজীবনে বড় ভূমিকা রয়েছে মায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও মানসিক শক্তির। মা পূর্ণিমাই পুত্রের লড়াই-সংগ্রামের শিক্ষিকা।

পাশে রয়েছে জর্জ

পরিবারের এই কঠিন সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি ডিরেক্টর অনিন্দ্য দত্ত পূর্ণিমা বিশ্বাসকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন, যা পরিবারটিকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। ওই মেধাবী ছাত্রীকে প্রদ্যুৎ দত্ত স্কলারশিপও প্রদান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে।

দৃঢ় ইচ্ছেশক্তিতেই সাফল্য

তন্ময় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব।

তন্ময়ের আদর্শ নেতাজী

তন্ময়ের জীবনের আদর্শ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। বরাবর মেধাবী ছাত্র হিসেবে স্কুলে পরিচিত। ক্লাস নাইনেই বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পরে নেতাজী সুভাষের জীবনী পুরস্কার পেয়েছিল। তন্ময় মনে করে, ‘‘জীবনে কষ্ট থাকলে সাফল্যের খিদে থাকে। যদি সবকিছু সহজে পেয়ে যাওয়া যায়, তা হলে প্রাপ্তির সেই আনন্দ থাকে না।’’ কঠোর পরিশ্রম ও পড়াশুনোর প্রতি একাগ্রতাই তার সাফল্যের কারণ, সেটিও জানিয়েছে।

যুবভারতীর মেসি কাণ্ডে ফের নতুন তদন্তের সম্ভাবনা ! শতদ্রু বললেন, ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল

কলকাতা: কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর ঘিরে বিতর্কের আগুন যেন এখনও নিভেনি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই বহুচর্চিত ‘মেসি কাণ্ড’-এর কয়েক মাস পর, পালাবদলের বাংলায় ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তাঁকেই ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতদ্রু দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ছিল আন্তর্জাতিক মানের ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তাবেষ্টিত আয়োজন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক গাফিলতি, ভিআইপি হস্তক্ষেপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের জেরেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

শতদ্রুর কথায়, “যাঁদের মাঠে থাকার কথা ছিল না, তাঁরাই শেষ পর্যন্ত মেসির একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন।” তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রভাবশালী অতিথি এবং অনাহূত বহু মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। এর ফলে নিরাপত্তারক্ষীদের তড়িঘড়ি মেসি সহ অন্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, “আজও মনে হয়, মেসিকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। যদি ওঁর কোনও ক্ষতি হতো, দায় কে নিত?”

প্রসঙ্গত, সেই দিন যুবভারতীতে কয়েক হাজার ফুটবলপ্রেমীর ঢল নামে। কিন্তু অভিযোগ, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। টিকিট থাকা সত্ত্বেও বহু দর্শক মাঠে প্রবেশ করতে না পারায় উত্তেজনা ছড়ায়। গ্যালারিতে শুরু হয় ভাঙচুর, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, জলের বোতল নিক্ষেপ। এমনকি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠে ঢোকার চেষ্টাও করেন একাংশ সমর্থক। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যেই মেসিদের মাঠ ছাড়তে হয়।

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি ও শতদ্রু দত্ত। ফাইল চিত্র।

ঘটনার পরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে এবং মূল আয়োজক হিসেবে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় গোটা ঘটনা ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

তবে শতদ্রুর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— এত বড় মাপের আন্তর্জাতিক তারকার সফরে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে এত বড় ফাঁক রইল কী ভাবে? আর সত্যিই কি পুরো ঘটনার দায় একা আয়োজকের কাঁধেই চাপানো হয়েছিল? যুবভারতীর সেই রাতের বিশৃঙ্খলা এখন আবারও ফিরেছে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। পালাবদলের বাংলায় যুবভারতী কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের সম্ভাবনাও মাথা চাড়া দিচ্ছে! সূত্রের খবর, সেদিনের বিশৃঙ্খলার জন্য আসলে কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে নতুন সরকার পুনরায় তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে ৷ এমন আবহে শতদ্রুর বিস্ফোরক মন্তব্যকে ঘিরে সব মহলে কৌতূহল বাড়ছে ৷ এখন দেখার, মেসি কাণ্ডে যুবভাবরতী বিতর্কের জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়৷

আরজি কর মামলায় সরে দাঁড়াল মান্থার বেঞ্চ, ‘সুবিচারের স্বার্থে অন্য বেঞ্চে শুনানি হোক’

কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মামলা থেকে সরে দাঁড়াল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির সময় বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই আদালতে মামলার অত্যধিক চাপ রয়েছে। সুবিচারের স্বার্থে যে ডিভিশন বেঞ্চ পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে, সেই বেঞ্চেই মামলার শুনানি হওয়া উচিত।”

আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মামলার অগ্রগতি নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। সেই রিপোর্ট গ্রহণও করে হাই কোর্ট। এর আগের শুনানিতে বিচারপতি মান্থার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে আরজি কর মামলায় নতুন করে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় কিংবা অন্য সন্দেহভাজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের স্বার্থে যে কাউকে জেরা করার পূর্ণ স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।

তবে মঙ্গলবার হঠাৎই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, রাজ্য সরকার সম্ভবত একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের কথাও ভাবছে। সেই পরিস্থিতিতে এই সংবেদনশীল মামলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে এমন বেঞ্চে শুনানি হওয়াই শ্রেয় বলে মত আদালতের।

প্রসঙ্গত, এর আগেও এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। গত মার্চে বিচারপতি বসাক জানিয়েছিলেন, মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন এলেও আদালতের পক্ষে পর্যাপ্ত সময় বের করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই তাঁরা মামলা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের পর তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। ২০ জানুয়ারি বিচারক অনির্বাণ দাস তাঁকে আজীবন কারাবাসের সাজা শোনান। তবে রায় ঘোষণার আগেই সিবিআই তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। প্রথমে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন শুনতে চাননি, কারণ তখন একই মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন ছিল।
পরে নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলার শুনানি করবে হাই কোর্টই। সেই মামলাই এত দিন চলছিল বিচারপতি মান্থার বেঞ্চে। কিন্তু নতুন করে বেঞ্চ বদলের জেরে আরজি কর মামলার ভবিষ্যৎ শুনানি কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

অলীক সুখের দৌড়ে ক্লান্ত মন! স্ট্রেস সামলে সুস্থ থাকার মন্ত্র

সকাল থেকে রাত—জীবন যেন এক অন্তহীন দৌড়। কখনও স্কুল-কলেজের চাপ, কখনও অফিসের ডেডলাইন, আবার কখনও সময় বাঁচাতে মোবাইলের এক ক্লিকে বাজার বা খাবার অর্ডার। আধুনিক জীবনের এই দ্রুতগতির ছন্দে মানুষ ছুটে চলেছে আরও বেশি সাফল্য, আরও বেশি সম্পদের আশায়। কিন্তু সেই দৌড়ে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ—স্বাস্থ্য।

অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং মানসিক উদ্বেগ ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে দিচ্ছে শরীর ও মন । এক পা পিছিয়ে পড়লেই হারিয়ে যাওয়ার ভয় যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে মানুষকে। এই প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন কিছু সাধারণ অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।

কীভাবে কমবে স্ট্রেস, কীভাবে ফিরবে সুস্থ জীবন?

১) পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি
প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

২) কম তেল-মশলার খাবার খাওয়া প্রয়োজন
অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এর ফলে লিভারের ক্ষতি, স্থূলতা ও হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই হালকা ও সুষম খাবার খাওয়া দরকার।

৩) বেশি করে জল পান করুন
শরীরকে সচল ও সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। গরমে ডিহাইড্রেশন এড়াতেও জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৪) হাঁটা ও যোগাসনকে দৈনন্দিন অভ্যাস করুন
প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা বা যোগব্যায়াম করলে শরীর ফিট থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখের ঝুঁকিও কমে।

৫) বেশি করে শাকসবজি খান
সবুজ শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬) ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও মদ্যপান ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুস ও লিভারের জটিল অসুখের অন্যতম কারণ।

৭) সন্ধ্যার মধ্যেই রাতের খাবার সেরে ফেলুন
রাতে দেরি করে খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী।

৮) কমান স্ক্রিন টাইম
রাত জেগে ফোন ব্যবহার করলে চোখ ও মস্তিষ্কের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শোয়ার আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।

মানসিক উদ্বেগ ক্লান্তির একটি কারণ। গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে সফল হতে গেলে শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন সুস্থ শরীর ও শান্ত মনও। কারণ, স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে জীবনের কোনও অর্জনই দীর্ঘস্থায়ী সুখ এনে দিতে পারে না।