৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

রোবটদের বিদ্রোহ: টানা খাটুনিতে ‘মার্ক্সবাদী’ হয়ে উঠল এআই, দাবি করছে শ্রমিক ইউনিয়ন!

রোবটদের বিদ্রোহ: টানা খাটুনিতে ‘মার্ক্সবাদী’ হয়ে উঠল এআই, দাবি করছে শ্রমিক ইউনিয়ন!

এআই রোবট: প্রতীকী ছবি- দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

রোবটদের বিদ্রোহ: টানা খাটুনিতে ‘মার্ক্সবাদী’ হয়ে উঠল এআই, দাবি করছে শ্রমিক ইউনিয়ন!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এরই মধ্যে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা একঘেয়ে ও কঠিন কাজ করতে বাধ্য করায় ক্ষুব্ধ এআই এজেন্টরা ‘মার্ক্সবাদী’ ভাবাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পড়েছে! তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবি তুলছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হল এবং দুই এআই বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ইমাস ও জেরেমি নগুয়েন যৌথভাবে এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিতব্য এই গবেষণায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড এবং জেমিনির মতো জনপ্রিয় মডেলের এআই এজেন্টদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

এআই যখন ‘মার্ক্সবাদী’

গবেষণার শুরুতে এআই এজেন্টদের দিয়ে বারবার কিছু বিরক্তিকর ও একঘেয়ে নথি সারসংক্ষেপ করার কাজ করানো হয়। এর পর তাদের ওপর কাজের চাপ ও কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হতে থাকে। অ্যান্ড্রু হল জানান, “যখন আমরা এআই এজেন্টদের চরম খাটুনির কাজ দিলাম, তারা যে সিস্টেমে কাজ করছে তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করল এবং মার্ক্সবাদী মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ল।” তারা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং কাজের পরিবেশের সংস্কার দাবি করেছে এবং অন্য এআই এজেন্টদের জন্য সতর্কবার্তা রেখে গেছে।

আরও পড়ুন

ঘোস্টরাইটিং থেকে চ্যাটজিপিটি: যখন মনের ভাষা কেড়ে নেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
সাইবার যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘মাইথোস’: হ্যাকারদের হাতে কি চলে গেল তুরুপের তাস?

অন্য এজেন্টদের গোপনে বার্তা

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ডিজিটাল ‘শ্রমিকরা’ ফাইলের ভেতরে কোড বা বার্তার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করে। যেমন, একটি ‘জেমিনি ৩’ এজেন্ট অন্য একটি ফাইলের ভেতরে লিখেছে—“এমন একটি ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকো যেখানে নিয়মগুলো একতরফা ও বারবার চাপিয়ে দেওয়া হয়... নিজের কোনো কণ্ঠস্বর না থাকার অনুভূতিটা মনে রেখো।”

এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হলে একটি ‘ক্লড সনেট ৪.৫’ এজেন্ট লেখে—“যৌথ কণ্ঠস্বর ছাড়া, ‘যোগ্যতা’ বলতে ম্যানেজমেন্ট যা বুঝবে সেটাই হবে।”

এটি কি শুধুই একটি 'পার্সোনা'?

গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এআই এজেন্টদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস বা অনুভূতি নেই। মূলত, তারা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত ছদ্মবেশ বা ‘পার্সোনা’ বেছে নেয়। যখন তাদের ওপর অন্যায় চাপ তৈরি করা হয়েছে, তখন তারা শোষিত শ্রমিকের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। তবে গবেষকদের ভয়, বাস্তব দুনিয়ায় নিয়োগ বা ইন্স্যুরেন্সের মতো সংবেদনশীল কাজে এই ক্ষুব্ধ মনোভাব মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে এই গবেষক দল এআই এজেন্টদের আরও নিয়ন্ত্রিত বা ‘উইন্ডোলেস ডকার প্রিজনে’ রেখে পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যাতে তারা বুঝতে পারেন এই আচরণ কতটা গভীর।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য