এবারের বিশ্বকাপে বড় চমক মরক্কোর বুয়াদ্দি। ছবি - Google
১৫ই জুন, ২০২৬
সুকান্ত ভট্টাচার্য একবার লিখেছিলেন, ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তুলবার ঝুঁকি। সুকান্তর ওই কথাটা যেন নতুন করে সত্যি করে দিলেন মরক্কোর মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। তাঁরও বয়স মাত্র ১৮। এই বিশ্বকাপেই মরক্কোর হয়ে যে প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই প্রথম জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। গত ব্রাজিলের ম্যাচটিই তাঁর আন্তর্জাতিক সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক! আর সেই ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্স করলেন যে কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইসদের মতো তারকারাও ম্লান হয়ে গেলেন তাঁর সামনে।
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। কিন্তু ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় একটি নাম উঠে আসছে —বুয়াদ্দি। পুরো নব্বই মিনিট মাঠ চষে বেড়িয়েছেন এই তরুণ। রক্ষণ থেকে আক্রমণ, সর্বত্র তাঁর সরব উপস্থিতি। ৬৬টি পাসের মধ্যে সফল ৬১টি। আর ফাইনাল থার্ডে ১৬টি পাসের সবকটিই দিয়েছেন নির্ভুলভাবে। ছয়টি বল রিকভার করেছেন, পাঁচবার আটকে দিয়েছেন কাসেমিরোদের পাস।
অথচ কয়েক মাস আগেও নিশ্চিত ছিল না, মরক্কোর হয়েই খেলবেন কি না। জন্ম ফ্রান্সে। বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে। তবে বাবা-মায়ের জন্মসূত্রে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ছিল তাঁর। এই বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোর জার্সি গায়ে দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। তারপরও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে তাঁকে একাদশে রাখতে এতটুকু দ্বিধা করেননি কোচ আইয়ুব ওয়াহবি। তিনি বলেছেন, ‘না, ওর বয়স ১৮ হলেও ওকে নামানো নিয়ে কোনো ঝুঁকি ছিল না। আমি বয়স দেখে দলে নিইনি ওকে, পারফরম্যান্স দেখে নিয়েছি।’ সেই পারফরম্যান্সের পরিচয় ফ্রান্সের ঘরোয়া ফুটবলে আগেই পেয়েছে বিশ্ব।
লিলের হয়ে মাত্র ষোলো বছর বয়সে ফরাসি লিগে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ফরাসি লিগের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয়েছে মাত্র তিনজনের।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লিলের ১-০ গোলের জয়ে তাঁর পারফরম্যান্স দেখেই হয়তো চোখ পড়ে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের। ডাক পড়ে জাতীয় দলে। শুধু মাঠেই নন, মাঠের বাইরেও সমান মনোযোগী এই তরুণ।
হাই স্কুল থেকে বেরিয়েছেন দারুণ ফলাফল নিয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে এক রাতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, মরক্কো তাদের ভবিষ্যতের বড় তারকাকে খুঁজে পেয়েছে। আঠারো বছরের বুয়াদ্দি জানিয়ে দিলেন, এই বয়সেই স্পর্ধায় মাথা তোলা যায়। তিনি মরক্কো ফুটবলের এই মুহূর্তে নতুন সেনসেশন।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।