ম্যাচ শেষে নায়ক ভোজিনহা সতীর্থদের সঙ্গে। ছবি : X.
১৬ই জুন, ২০২৬
স্পেন এবং কেপ ভার্দের ম্যাচের পরেই সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছে ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া হংকংয়ের বিখ্যাত ‘শাওলিন সকার’ সিনেমার একটি দৃশ্য। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতিপক্ষের নেওয়া একের পর এক শট প্রতিহত করছেন এক গোলরক্ষক। আগুনের গোলার মতো আসা বলকে রক্তাত্ম হয়েও ওই গোলরক্ষক আটকে চলেছেন।
চলচ্চিত্রের এই দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার ছবি। স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনহার পারফরম্যান্স যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের কাছে এই কোলাজ মোটেই বাড়াবাড়ি মনে হবে না। বরং সিনেমার নাটকীয়তাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভোজিনহার একেকটি সেভ।

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলপোস্টের নিচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক হয়ে উঠেছিলেন চিনের প্রাচীর। ভোজিনহার গোলপোস্টের নিচে জীবনের জয়গান গেয়েছেন। দেখিয়েছেন, ধমনীতে লড়াইয়ের বীজ থাকলে একদিন না একদিন জয় অবশ্যম্ভাবী। ৪০ বছরের কোঠা পেরোনো অখ্যাত এই গোলরক্ষক অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। সাতটি সেভ ছাড়াও এ ম্যাচে ৬৯ শতাংশ সঠিক পাস (৪২টির মধ্যে ২৯টি) দিয়েছেন তিনি। অন্যান্য পরিসংখ্যানের মধ্যে নিখুঁত লং বল দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ, ডাইভিং সেভ ৩টি এবং বক্সের ভেতর সেভ করেছেন ৬টি।

ভোজিনহার প্রাচীর ভাঙতেই বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামান স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। নয়তো এই ম্যাচে খেলার কথাই ছিল না তাঁর। কিন্তু ১৮ বছর বয়সি ইয়ামালকেও তিনি কার্যত শিশুই বানিয়ে দিয়েছেন। ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর ৩৪২ দিন। কেপ ভার্দের ভোজিনহার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। ভোজিনহা ও ইয়ামালের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২১ বছর ৪৫ দিন! বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি বয়সের ব্যবধান। শুধু তাই নয়, ইয়ামালের বাবার থেকেও দু্বছরের বড় ভোজিনহা।
অবিশ্বাস্য এই পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন ভোজিনহা। তাঁর কান্না দেখে কেঁদেছেন ফুটবল প্রেমীরাও। এই ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার্স ছিল ৫০ হাজার। ম্যাচের পরে সেটাই ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে! যিনি অর্থের অভাবে এবার মা-কে বিশ্বকাপে আনতে পারেননি। ভিসার আবেদন করার কোনও অর্থ ছিল না তাঁর কাছে। মিক্সড জোনে এসে তিনি বলছিলেন, ‘‘ম্যাচের পরে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদামশাই ও দিদিমার কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তাঁরা আমার পাশে নেই, কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। আর আমার মা-ও এখানে আসতে পারেননি। মার্কিন ভিসার জটিলতা এবং এর পেছনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, সেটি জোগাড় করতে পারিনি।’’
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।