গোলের পরে উচ্ছ্বাস মেসির। ছবি : X
১৭ই জুন, ২০২৬
মেসিময় ক্যানসাস সিটি। যে শহরকে বলা হয় ঝরনার শহর। এটা এবার থেকে মেসিরও শহর। বিশ্বকাপে তিনি হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন চলতি মেগা ইভেন্ট তাঁর হতে চলেছে। প্রথম ম্যাচেই তিনি প্রমাণ করেছেন বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। ভারতে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে ম্যাচ শুরু হলেও আমেরিকায় খেলা শুরু হয়েছে রাত আটটায়।
ম্যাচে প্রথম গোল করার পর উদ্যাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন এক মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখে তখন জল। হয়তো বিশ্বকাপে নিজের শেষ যাত্রার প্রথম ম্যাচে গোল করার আনন্দ কিংবা আরেকটি স্বপ্নের পথে যাত্রার অনুভূতি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
রোনাল্ডোকে ছাড়িয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি বিশেষ রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বয়সী ফুটবলার এখন তিনি (৩৮ বছর ৩৫৭ দিন)। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাট্রিক করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
রোনাল্ডোর একটি রেকর্ড ভেঙেছেন, ছুঁয়েছেন আরেকটি। পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করার রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। গত বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রোনাল্ডো। তাঁর ছিল টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল। মেসি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ আসর।
৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গোলদাতাদের তালিকায়ও ৩ নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। তাঁর সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুনের রজার মিলা ও পর্তুগালের পেপে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এমন শুরুতে যেন নতুন করে উৎসবে মেতেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই ছিলেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন।
এমন একটা মঞ্চ যেখানে ক্যানসাস সিটির ভিআইপি গ্যালারিতে হাজির ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্তিনো। এমনকী দেখা গিয়েছে জিনেদিন জিদানকেও। আলজেরিয়া গোলরক্ষক তাঁর পুত্র লুকা জিদানের খেলা দেখতে এসেছিলেন। এমন একটা ম্যাচে এলেন যেদিন জিদানের পুত্র লুকা গুণে গুণে তিনটি গোল হজম করলেন। তাও কার কাছে, যাঁকে নিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্ব স্বপ্নের জাল বোনে। সেই মেসির এই দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখে মোহিত স্বয়ং জিদান। ১৯৯৮ সালের নায়ক ফ্রান্সের বিশ্ব জয়ী দলের অধিনায়ক পুত্র লুকার গোল হজম করা নিয়ে বিষাদে নয়, বরং মেসির নজির দেখে আহ্লাদিত। তিনিও মেসি ম্যাজিক দেখে হাসছেন!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।