

রোনাল্ডো (সি আর সেভেন)। ছবি -Google.
২৫শে জুন, ২০২৬
১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে রোনাল্ডো নিজের শহর মেদেইরা ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন স্পোর্টিং সিপির অ্যাকাডেমিতে যোগ দিতে।
অ্যাকাডেমি থেকে ফুটবলারদের থাকার জায়গা দেওয়া হলেও তখন স্পোর্টিং লিসবনের আর্থিক অবস্থা এখনকার মতো ছিল না।
তরুণ ফুটবলারদের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার মতো বাজেট অ্যাকাডেমির কর্তাদের ছিল না।
একবার এক সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো বলেছিলেন,
"আমার তখন বয়স ১১ কিংবা ১২ বছর হবে। আমাদের কোনো টাকা ছিলো না। আমরা লিসবনের একই ব্যারাকে থাকতাম। প্রতি রাতে আমাদের প্রচণ্ড খিদে পেতো। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডস ছিল, আমরা পেছনের দরজায় গিয়ে নক করে দোকানের কর্মীদের বলতাম, "হ্যালো, কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে?'"
তিনি আরও যোগ করেন, "সেখানে এডনা নামের একজন মহিলা এবং আরও দুজন মেয়ে ছিলেন। তারা আমাদের কিছু বার্গার দিতেন। আমি সেই মেয়েগুলোকে আর কখনও খুঁজে পাইনি। আমি পর্তুগালের লোকেদের জিজ্ঞেস করেছি, সেই ম্যাকডোনাল্ডস বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যদি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়, আমি খুব খুশি হবো। আমি তাদের তুরিন বা লিসবনে আমার বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি তাদের সেই ঋণ শোধ করতে চাই।"
সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই মহিলাদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই তিন মহিলার মধ্যে দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়।
পর্তুগালের একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পলা ক্রুস নামের এক মহিলা নিশ্চিত করেন যে, তিনি সেই সময় ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন।
পলা বলেন, "ওরা (রোনাল্ডো ও তাঁর বন্ধুরা) প্রায় প্রতি রাতেই দোকানের সামনে আসতো। যখন অনেকগুলো বার্গার বেঁচে যেতো, আমাদের ম্যানেজার আমাদের সেগুলো দেওয়ার অনুমতি দিতেন। সেই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, যে ছিল ওদের মধ্যে সবচেয়ে লাজুক।"
রোনাল্ডো যার নাম বিশেষভাবে মনে রেখেছিলেন, সেই এডনাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনিও রোনাল্ডোর এই কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছিলেন। রোনাল্ডো শুধু মুখে বলেই থেমে থাকেননি। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এডনা এবং পলাকে ধন্যবাদ জানান।

পলা ক্রুস এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, "আমার ছেলে তো বিশ্বাসই করতে পারছিলো না যে তার মা একসময় রোনাল্ডোকে বার্গার খাওয়াতো!"
রোনাল্ডো লিসবনে তাঁর ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁয় এবং জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
জীবনের চরম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েও, ১২ বছর বয়সের সেই ক্ষুধার্ত দিনগুলোতে সামান্য ৩-৪টি ফ্রি বার্গার খাওয়ানো মহিলাদের কথা ভুলে না যাওয়াটাই প্রমাণ করে কেন তিনি মাঠ এবং মাঠের বাইরে এক বড় মাপের একজন মানুষ।
রোনাল্ডোর এই গল্পটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে যায় যে, জীবনের সফলতার আকাশে যতই উঁচুতে আমরা উড়ি না কেন, শিকড় আর কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাতগুলোকে কখনও ভুলে যেতে নেই। ছোট একটি মানবিক কাজও একজনের জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনা তার বড় দৃষ্টান্ত।
তাই কবি যতই বলুন, কেউ কথা রাখেনি... রোনাল্ডো কিন্তু কথা রেখেছেন।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
