

ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাকে সেরা করার ক্ষেত্রে এগিয়ে স্কালোনি ও দেশোঁ। -ছবি - Google.
১৩ই জুলাই, ২০২৬
এই কথা কলকাতা ময়দানের ক্ষেত্রেও খাটতো আগে। বলা হতো, কোনও বিদেশী কোচকে এনে লাভ হবে না। কলকাতা লিগ কিংবা আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন করতে গেলে ভূমিপুত্রকে দিয়ে কোচিং করানো উচিত কলকাতার তিন প্রধানকে।
এও বলা হতো, ভিনরাজ্যের কোচদের মধ্যেও সেই আবেগ নেই। তাঁরা জানেন না, নিজেদের ঘরের মাঠে দল হারলে সমর্থকদের বুকের জ্বালা কতটা দগদগে হতে পারে। বাংলার কোচরা সেটি বোঝেন বলেই তাঁরা কাপ জেতার জন্য প্রাণপাত করতে পারেন।
এই কথা খাটে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টেও। এবার যে কারণে ভুগেছে ব্রাজিলও। তারা গতবছর মে মাস থেকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দিয়েছিল ইতালিজাত কোচ কার্লোস আনচেলত্তিকে। তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব এনে দিয়েছেন। ভিনিসিয়াসকে হাতে করে তৈরি করেছেন। তবুও তিনি এবার বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থ। ব্রাজিল নকআউটের প্রথম পর্বেই হেরে বিদায় নিয়েছে। এটা শুধু ব্রাজিল নয়, এবারও বিশ্বকাপে যে দলগুলো বিদেশী কোচে ভরসা রেখেছিল, তাদের পারফরম্যান্স আহামরি নয়।
ফিফা বিশ্বকাপের একটি চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, কোনও বিদেশী কোচ এসে কোনও দলকে কাপ এনে দিতে পারেননি। ১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২২টি আসরেই তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যাদের কোচ ছিল ঘরের লোক। তাঁরা দলের ফুটবলারদের মনস্তত্ত্ব বোঝেন, এমনকী সমর্থকদের আবেগ, অনুভূতিও মালুম করতে জানেন।
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উরুগুয়ে। সেবার তাদের কোচ ছিল আলবার্তো সুপিচ্চি। তিনি উরুগুয়ের বাসিন্দা। আবার ১৯৫০ সালেও উরুগুয়েকে খেতাব এনে দেওয়ার মূলে ছিলেন হুয়ান লোপেস নামে এক উরুগুয়ানই।
ইতালি যে চারবার কাপ পেয়েছে, সেই ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে তাদের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন সব ইতালির লোক। তাঁদের নাম যথাক্রমে ভিতারিও পোৎসো, এনজো বেয়ারজোত এবং শেষবার মার্সেলো লিপ্পি। প্রথম দু’বার কোচ ছিলেন ভিতারিওই।
জার্মানির ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে। তারা মোট চারবার বিশ্বসেরা হয়েছে, ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে। প্রতিবারই কোচ হন ভূমিপুত্ররাই। ১৯৫৪ সালে কোচ ছিলেন জার্মান শেপ হারবার্গার, ১৯৭৪ সালে কোচ ছিলেন হেলমুট স্কোন, তিনিও জার্মানির প্রাক্তন তারকা ছিলেন। শেষ দু’বারও কোচ ছিলেন জার্মানির ঘরের মানুষ ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও জোয়াকিম লো।
ব্রাজিল মোট পাঁচবার কাপ পেয়েছে। প্রতিবারই দেখা গিয়েছে কোনও ব্রাজিলীয়র কোচিংয়েই বাজিমাত করেছে সাম্বা দল। সেই সালগুলো হল, ১৯৫৮, ৬২, ৭০, ৯৪ এবং ২০০২। এইপ্রথম যদিও কোনও বিদেশীকে ব্রাজিল কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। আনচেলত্তি জিতলে নতুন নজির গড়তেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ দলকে একসূত্রে বাঁধতে। ব্রাজিলের হয়ে কাপ জেতা কোচরা হলেন, ফেওলা, মোরেইরা, জাগালো, পেরেইরা ও ফিলিপে স্কোলারি।
আর্জেন্টিনার তিনবার কাপ জয়ের মূলে ছিলেন তাদের দেশের কোচরাই। লুই সিজার মেনোত্তি (১৯৭৮) থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে কার্লোস বিলার্ডো (১৯৮৬) ও শেষবার ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও মেসিদের কাপ জয়ের নায়ক ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ফ্রান্স দু’বার বিশ্বসেরা হয়েছে ফরাসি কোচের দেখভালেই। ১৯৯৮ সালে আইমে জাঁক ও ২০১৮ সালে দিদিয়ের দেঁশা। স্পেনকে ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন করানোর ক্ষেত্রে ভিসেন্তে দেল বস্কের অবদান রয়েছে, তিনি ছিলেন স্প্যানিশ কোচ। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড সেরা হন ব্রিটিশ আলফ রামজির জন্যই।
বিদেশী কোচ কোনও বারই কোনও দেশকে সেরা করতে পারেননি, এবারও সেটি হলে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটাই কি হবে? সময় তার জবাব দেবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
