

মাস্কের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বৈজ্ঞানিক মহলে। ছবি - Google. গ্রাফিক্স - The Fourth Axis.
৫ই আগস্ট, ২০২৬
চন্দ্রপৃষ্ঠে তোলপাড়! আর তাতেই পৃথিবীর ধনীতম ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বৈজ্ঞানিক মহলে। তবে কি মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাদের খোলা লাইসেন্স দিয়ে দেওয়াটা চরম ভুল হয়েছে? বুধবার ভোর থেকে এই নিয়ে আলোচনায় মশগুল বৈজ্ঞানিক মহল।
বুধবার, অর্থাৎ ৫ অগস্ট ভারতীয় সময় ভোরে পৃথিবীর এক নম্বর ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেটে টুকরো চাঁদের আলোকিত অংশে আছড়ে পড়ে। এই পর্যন্ত বিষয়টা থাকলেও না হয় একরকম ছিল। কিন্তু এর ফলে চাঁদের বুকে বিরাট এক গর্ত তৈরি হয়েছে এবং এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদ ছাড়িয়ে মহাকাশে ধুলোর ঝড় দেখা গিয়েছে। এর ফলে চাঁদের উপর গবেষণারত পৃথিবীর অন্যান্য স্যাটেলাইট গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তবে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছিলেন এর ফলে পৃথিবীর জোয়ার ভাটায় প্রভাব পড়তে পারে যদিও তেমন কিছু হবে না বলেই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
স্পেসএক্স-এর দুটি বাণিজ্যিক মহাকাশযানকে নিয়ে গিয়েছিল ফ্যালকন ৯ রকেট। কিন্তু সেটিকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার মত জ্বালানি ছিল না। তাই নির্দিষ্ট কক্ষপথে এই রকেটের মাঝখানের অংশটি জ্বালানিবিহীন অবস্থায় এতদিন ঘুরছিল। কিন্তু মহাজাগতিক কারণেই সেটি কক্ষপথ থেকে কিছুটা সরে চাঁদের মহাকর্ষ শক্তির আওতায় চলে আসে।

আর তার ফলেই ৪.৫ টন ওজনের রকেটের এই টুকরোটির চন্দ্রপৃষ্ঠে আছড়ে পড়া নিশ্চিত হয়ে ওঠে। বিষয়টি বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন। তাঁদের সেই অঙ্ক মিলিয়ে বুধবার ভোরে চাঁদের আলোকিত অংশে আছড়ে পড়ে রকেটের অংশটি প্রায় ২৭ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর একটি নতুন গর্ত তৈরি করে। এই সংঘর্ষের ফলে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা ৩ টিএনটি টন বিস্ফোরণের সমান।
চাঁদের আবহাওয়া মণ্ডল। নেই এদিকে পৃথিবীর আবহ মণ্ডল আছে বলেই বিভিন্ন মহাকাশযান বা রকেটের টুকরো, ছোট ছোট উল্কা পৃথিবী পৃষ্ঠে এসে পৌঁছতে পারে না। তার আগেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু চাঁদের আবহাওয়া মণ্ডল নেই বলেই স্পেসএক্স-এর এই রকেটের টুকরোটি বিনা বাধায় চাঁদের বুকে গিয়ে আঘাত হেনেছে।
এর ফলে প্রায় ১০ লক্ষ কিলোগ্রামের মত ধুলো ও চাঁদের ভূপৃষ্ঠের টুকরো ছিটকে মহাকাশে চলে গিয়ে থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা। তার প্রভাবে চাঁদের উপর গবেষণায় ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কেন স্পেসএক্স তাদের রকেটটি অন্য উপায়ে ধ্বংস করার ব্যবস্থা না করে সেটিকে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে দিল। এর ফলে মহাকাশ কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়ে আবার আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এলন মাস্ক।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।
