

ওমর আরতান। ছবি - Google
১২ই আগস্ট, ২০২৬
জীবনের আরও এক নাম লড়াই। সেটি এবার প্রমাণ করলেন সোমালিয়ার এক নামী রেফারি ওমর আরতান। ৩৪ বছরের এই রেফারির এবার আমেরিকার মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলানোর কথা ছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার তাঁকে ভিসা দেয়নি। যে কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গিয়েছে। কিন্তু বিধাতা যদি মনে করেন, কাউকে কিছু দেবেন, সেটি কেউ বঞ্চিত করলেও হয় না। যিনি যেটার প্রাপ্য, তিনি সেটি পাবেনই।
আমেরিকা ওমরকে বাদ দিলেও ইউরোপ তাঁকে সম্মান জানাল। উয়েফা সুপার কাপে পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচে রেফারিং পেয়েছেন আফ্রিকা মহাদেশের এই রেফারি। এইপ্রথম কোনো ইউরোপের নামী লিগে আফ্রিকার কোনও রেফারি ম্যাচ খেলাবেন।
ওমরের গত দেড় বছরের জীবন ছিল রোলারকোস্টারের মতো। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনা করা প্রথম সোমালিয়ান রেফারি। ২০২৫ সালের বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারি, এবং তারপর ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলানোর ছাড়পত্র। কিন্তু ওয়াশিংটন বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করানোর পরেও আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেদিন অপমানিত হয়ে চোখের জলে দেশে ফিরে এসেছিলেন ওমর।
ঠিক তারপরেই উয়েফা জানিয়েছিল আরতানকে সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা। উয়েফার ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরতান নিজের জীবনের যাবতীয় কষ্ট ভাগ করে দিয়েছিলেন। জানান, ‘‘সময়টা খুব কঠিন ছিল। অনেকে সহানুভূতি দেখিয়েছেন। কারণ, এতগুলো বছর পরিশ্রম করার পরে যখন কিছু করার কথা, আর তখনই সেটা করতে না পারা - এটা সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক। তবে বিশ্বজুড়ে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’
আরতানের জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে। কম বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকেও বড় হয়েছেন দূরে দিদিমার কাছে। খেলোয়াড় হতে না পেরে রেফারি হওয়ার স্বপ্ন ছিল, পাড়ার মাঠ থেকে স্কুল ফুটবল, তারপর সোমালিয়া লিগ। ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় জায়গা করে নেওয়া। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে রেফারিং করা প্রথম সোমালিয়া ছিলেন তিনি।
উয়েফা ও সিএফ-এর (আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের) মধ্যে এপ্রিলে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের সূত্র ধরেই এসেছে এই নিয়োগ। আরতান নিজেও এটাকে দেখছেন দুই কনফেডারেশনের পারস্পরিক শেখার সুযোগ হিসেবে, "সিএফ রেফারিরা উয়েফা থেকে শিখতে পারে, আবার উয়েফা রেফারিরাও সিএফ থেকে।"
আমেরিকা থেকে ফেরার অল্প কিছুদিন পরেই এসেছিল এই খবর। নিজের ও পরিবারের জন্য সেটাকে ‘সত্যিকারের আনন্দের মুহূর্ত’ বলছেন আরতান। ইউরোপ ও অস্ট্রিয়ার সোমালিয়া সম্প্রদায়ও উচ্ছ্বসিত তাঁকে নিয়ে।
প্রস্তুতিতেও ফাঁক রাখছেন না। সোমালিয়া লিগে খেলা পরিচালনা চালিয়ে গেছেন, জুনের শেষে কুয়েত প্রিমিয়ার লিগের খেতাব নির্ধারণী ম্যাচও সামলেছেন। প্রতিটি দল নিয়ে পড়াশুনো, ফুটবলারদের সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার ক্লাসও করছেন নিয়মিত। রেফারিদের কর্মশালায় অংশ নিয়ে বড় মঞ্চে খেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জুনিয়র রেফারিদের উদ্দেশে ওমরের বার্তা, ‘‘আমি যদি পারি, যে কেউ পারবে। যা চান, তা-ই করতে পারেন। স্বপ্ন দেখা কখনও বন্ধ করবেন না। রেফারি হতে চাইলে সেটাই সবচেয়ে ভাল কাজ - কেউ বাধা দিলেও থেমে যাবেন না। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, দক্ষতা বাড়ান।’’
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
