

স্পেনের সাফল্যের রহস্য। ছবি - Google
৭ই আগস্ট, ২০২৬
যে কোনও ফুটবল বিশ্বকাপের পরই চ্যাম্পিয়ন দলকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়। কেন তাদের এই সাফল্য, কীই বা তাদের অস্ত্র সেই নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়। এবার যেমন স্পেনকে নিয়ে হচ্ছে, তারাই বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের বেঞ্চমার্ক দল।
বিশ্বকাপে সারা টুর্নামেন্টে ভাল খেলেছে স্পেন। তারা যোগ্য দল হিসেবেই খেতাব পেয়েছে। কিন্তু তাদের সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লা মাসিয়া অ্যাকাডেমির কথা উঠে আসছে বারেবারে। যে দেশের ফুটবল পরিকাঠামো যত ভাল, যত উন্নত, সেই দেশের জাতীয় দল ততটাই শক্তিশালী। কারণ সাপ্লাই লাইন না থাকলে অচিরেই যে কোনও দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে বাধ্য।
স্পেন এখানেই বাকি দেশগুলিকে টেক্কা দিয়েছে। লিও মেসির উত্থানও স্পেন থেকেই। তিনি ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে না এলে তাঁর ফুটবল জীবন আদৌ পূর্ণতা পেত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এবার আমেরিকার মেট লাইফ স্টেডিয়ামে যে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনাল হল, সেখানেই লা মাসিয়া অ্যাকাডেমির মোট ১৩জন ফুটবলার ছিল। তাঁদের সকলের গ্রুমিং হয়েছে ওই অ্যাকাডেমি থেকেই। এবারের বিশ্বকাপে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, সেটি হল তারুণ্যের জয়।
আধুনিক ফুটবলের মূল মন্ত্রই হল ফিটনেসের সঙ্গে সমঝোতা নয়। যে কোনও কোচই চান, তিনি যে ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রাখবেন, তিনি যেন ১২০ মিনিট খেলার ক্ষমতা রাখেন। বিশ্বকাপের এই আসরেই রোনাল্ডো, নেইমাররা কার্যত ব্যর্থ। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে এর কারণ একটাই- অভিজ্ঞতা দিয়ে ভাল একটা পাস দেওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু বয়সের ভার চলে এলে স্থবিরতা আসতে বাধ্য। আর ফুটবলের মত দ্রুতগতির খেলায় এটা আত্মহত্যার সামিল।
তবে বয়স হয়ে গেলেও মেসি কেন পারলেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মেসিকে বেশিরভাগ সময়ে মাঠে হাঁটতে দেখা যায়, কিন্তু পায়ে বল পড়লেই তিনি জমানো এনার্জি সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে পারেন। তাই ছোট একটা স্পেলে মেসি এখনও দুরন্ত, এখনও সেরা। তিনি মাঠের প্রান্ত বদল করে ভারসাম্য রাখতেও জানেন। যা এবার দেখা গিয়েছে ম্যাচগুলিতে, তিনি বাঁদিক দিয়ে আক্রমণ গড়ার পরেই মাঠের রাইট উইং দিয়ে গোল করেছেন। এগুলিই আধুনিক ফুটবলের রূপ, যার কোনও নির্দিষ্ঠ পজিশন থাকবে না, কোচের কৌশলও বদলাতে থাকবে সারা ম্যাচে। প্ল্যান এ কাজ না করলে বি কিংবা সি প্ল্যান প্রস্তুত রেখে বাজিমাত করতে হবে।
স্পেন এখানেই বাকিদের পিছনে ফেলেছে বারবার। তাদের কোচ দে লা ফুয়েন্তে আধুনিক ফুটবলের চানক্য। তিনি দলের গড় বয়সের দিকে খেয়াল রেখেছিলেন। তিনি ইয়ামালকেও সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়েছেন। ওঁর জেদ, স্কিল ও এনার্জিকে ঠিকমতো ব্যবহার করে সুফল আদায় করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পেনের। ১৯ জুলাই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেদিনই বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে রদ্রির দল। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা ইতালিকে পিছনে ফেলে স্পেন নতুন কীর্তিও গড়েছে। টানা ৩৮ ম্যাচে অপরাজিত স্প্যানিশরা। এ সময়ে ২৯টি ম্যাচ জিতেছে স্পেন, ড্র করেছে ৯টি ম্যাচ।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
