১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
সূর্যের রহস্য সন্ধানে আকাশে নাসার বিশেষ অভিযান

সূর্যগ্রহণ

সূর্যের রহস্য সন্ধানে আকাশে নাসার বিশেষ অভিযান

১২ আগস্টের মহাজাগতিক এক দুর্লভ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিশ্ব। তবে পৃথিবীর মাটিতে যখন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড, ঠিক তখনই আকাশের বুক চিরে এক অন্যরকম গবেষণামূলক অভিযানে নামছেন নাসার দুই গবেষক। তাদের জন্য মহাজাগতিক এই অন্ধকারের স্থায়িত্ব হবে প্রায় তিন মিনিট।

আইসল্যান্ডের আকাশ থেকে গ্রিনল্যান্ডের অভিমুখে গবেষণা বিমান

বুধবার আইসল্যান্ডের কেফলাভিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ এক গবেষণা বিমানে চেপে আকাশে উড়াল দেবেন নাসার এই দুই বৈমানিক। তারা উত্তর দিকে গ্রিনল্যান্ডের অভিমুখে উড়ে যাবেন এবং পরে আইসল্যান্ড উপকূল থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে একটি বাঁকা পথে দক্ষিণ দিকে নামবেন। ৫০,০০০ ফুট উঁচুতে বিমানটি যখন থাকবে, তখন চাঁদের ছায়া পেছন থেকে এসে সমুদ্রের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৩,২০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটে আসবে। আর সূর্য যখন পুরোপুরি চাঁদে ঢেকে যাবে, চারপাশ ঢেকে যাবে গাঢ় আঁধারে।

আকাশে ৩ মিনিটের রোমাঞ্চ: গতি দিয়ে সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা

মহাকাশে চাঁদের ছায়াকে একপ্রকার ‘তাড়া’ করতেই আকাশে উড়বে নাসার ‘ডব্লিউবি-৫৭’ (WB-57) বিমানটি। বিমানটি ঘণ্টার ৭ ৪০ কিলোমিটার গতিতে সূর্যগ্রহণের গতিপথ ধরে এগোতে থাকবে। আর এই কৌশলেই মাটিতে যেখানে গ্রহণ মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড স্থায়ী হবে, আকাশে থাকা গবেষকরা প্রায় পুরো ৩ মিনিট অন্ধকারের মধ্যে থাকতে পারবেন। ফলে গ্রহণের অবস্থায় সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য অতিরিক্ত মূল্যবান সময় পাবেন তারা।

ছায়ার ঝাপটা ও এক অলৌকিক অনুভূতি

আরও পড়ুন
‘না’ থেকেই নক্ষত্রযাত্রা
চাঁদে মাস্ক-বিপর্যয়
জেমিনির চমক: চ্যাট ও তথ্য সিঙ্ক হবে ‘NotebookLM’-এ

বিমানে থাকার সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের সেন্সর সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ কেরি ক্লেম জানান, বিমানের ককপিট থেকে চারপাশটা বেশ উজ্জ্বল দেখায় এবং মাথার ওপরে কোনো মেঘ থাকে না। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন এক বিশাল ছায়ার ঝাপটা এসে আঘাত করে। তিনি বলেন, "চারপাশটা এক অদ্ভুত, গা ছমছমে ছায়ায় ঢেকে যায়, তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটাই কমে যায় এবং ইনস্ট্রুমেন্ট প্যানেল থেকে আরও কিছুটা আলোর তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হয়।"

সূর্যের রহস্য উদঘাটনে ৪টি বিশেষ ক্যামেরা

নাসার এই বিশেষ গবেষণা বিমানে ৪টি বিশেষ ক্যামেরা লাগানো রয়েছে, যা আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে প্রতি সেকেন্ডে একাধিক ছবি তুলবে। গবেষকদের মূল লক্ষ্য— 'প্রমিনেন্স' নামে পরিচিত প্লাজমার বিশাল লুপ এবং 'ন্যানোফ্লেয়ার' নামক চৌম্বকীয় বিস্ফোরণের বিরল ছবি ও তথ্য ফ্রেমবন্দি করা। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণই একমাত্র সময় যখন সূর্যের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো খালি চোখে বা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

পরমাণু বোমার তীব্রতা ও করোনার রহস্য

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি ন্যানোফ্লেয়ার থেকে নির্গত শক্তির পরিমাণ হাজার হাজার পরমাণু বোমার সমান! কিন্তু সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেখানে মাত্র ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা 'করোনা'-র তাপমাত্রা কেন ১০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি— সেই রহস্যের সমাধান পেতে এই ন্যানোফ্লেয়ারগুলো পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

কোথায় দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ?

১২ আগস্টের এই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে আর্কটিক, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের পর এটাই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ যা ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রত্যক্ষ করা যাবে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য