

রোবট ওয়েটার
১৮ই আগস্ট, ২০২৬
মুরথল মানেই ধাবার সামনে সারি সারি গাড়ি, ধোঁয়া ওঠা পরোটা, ছোলে-ভটুরে, লস্যির গ্লাস আর জমজমাট আড্ডা। দিল্লি-চণ্ডীগড় জাতীয় সড়ক ধরে যাঁরা যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে এই ছবির সঙ্গে পরিচিতি বহু দিনের। কিন্তু সেই চেনা ধাবার ছবিতেই এ বার ঢুকে পড়েছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি। খাবারের ট্রে হাতে টেবিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‘ওয়েটার’, তবে সে মানুষ নয়, রোবট!
হরিয়ানার মুরথলের রেশম ধাবায় এই নতুন আকর্ষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট পথ ধরে নিজে নিজেই এগিয়ে গিয়ে ক্রেতার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে রোবটটি। ফলে পরোটা-ছোলে খেতে এসে অনেকের হাতেই এখন কাঁটা-চামচের পাশাপাশি উঠে আসছে মোবাইল। কেউ ভিডিয়ো করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার রোবটের সঙ্গে সেলফি তুলতেই ব্যস্ত।
ধাবা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কোনও টেবিলের খাবার তৈরি হয়ে গেলে সেই খাবারের ট্রে রোবটটির উপর রাখা হয়। তার পর নির্দিষ্ট টেবিলের অবস্থান অনুযায়ী রোবটটি এগিয়ে যায়। ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় খাবার। অর্থাৎ রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে হলঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর কাজের একটি বড় অংশ এখন সামলাচ্ছে যন্ত্রটি।
তবে পুরো ব্যবস্থাটিই যে সম্পূর্ণ ‘মানুষহীন’, এমন নয়। সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত নেভিগেশন ব্যবস্থার সাহায্যে রোবটটি নির্দিষ্ট পথে চললেও প্রয়োজন পড়লে কর্মীরা রিমোটের সাহায্যে তার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে প্রযুক্তি এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ, দুইয়ের সমন্বয়েই চলছে এই নতুন ব্যবস্থা।
রোবটটির বাইরের কাঠামো তৈরি ফাইবারের। চোখের জায়গায় রয়েছে এলইডি আলো। চলার সময় সেই আলো জ্বলজ্বল করায় দূর থেকেই নজরে পড়ে যন্ত্রটি। এক বার চার্জ দিলে প্রায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারে বলে ধাবা কর্তৃপক্ষের দাবি।
নতুন প্রযুক্তি মানেই খাবারের দাম বাড়বে, এমন আশঙ্কারও কারণ নেই। রোবটের মাধ্যমে খাবার পরিবেশনের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ধাবার ম্যানেজার সঞ্জয়। অর্থাৎ পরোটা, ছোলে বা অন্য খাবারের দাম যা, তা-ই থাকছে। শুধু পরিবেশনের পদ্ধতিটা বদলে গিয়েছে।
সঞ্জয়ের দাবি, বেঙ্গালুরুর একটি দলের সঙ্গে যৌথ ভাবে এই রোবটটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য শুধু কর্মীদের কাজ কমানো নয়, ধাবায় আসা ক্রেতাদের সামনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। মুরথলের মতো জায়গায়, যেখানে খাবারের পাশাপাশি ধাবার পরিবেশও একটি বড় আকর্ষণ, সেখানে প্রযুক্তির এই সংযোজন ক্রেতাদের নজর কাড়ছে দ্রুত।
খাবার নিয়ে রোবটটি ধাবার ভিতর দিয়ে এগিয়ে যেতেই তার পিছনে মোবাইল হাতে ছুটছেন অনেকেই। শিশুদের উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। কেউ রোবটের সঙ্গে হাঁটছে, কেউ তার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে, কেউ আবার খাবার আসার আগেই ক্যামেরা চালু করে দিচ্ছে।
ফলে রোবটটি কার্যত ধাবার আর একটি ‘আকর্ষণ’ হয়ে উঠেছে। অনেকের কাছে খাবারের স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নতুন এই অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠেছে মুরথল-যাত্রার স্মরণীয় অংশ।
রেস্তরাঁয় রোবট দিয়ে খাবার পরিবেশনের ঘটনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগে এমন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। কোথাও রোবট খাবার পৌঁছে দিয়েছে, কোথাও পানীয় বা ডেজ়ার্ট পরিবেশন করেছে। কিন্তু মুরথলের মতো ঐতিহ্যবাহী ধাবা-সংস্কৃতির জায়গায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার আলাদা করে নজর কেড়েছে।
কারণ মুরথলের ধাবা মানেই এত দিন ছিল কর্মীদের দ্রুত পায়ে টেবিলের পর টেবিলে ছুটে বেড়ানো, হাতে স্টিলের ট্রে, মুখে ক্রেতার অর্ডারের ডাক। সেই চেনা দৃশ্যের মাঝেই এখন নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে যন্ত্র-ওয়েটার।
তবে এই রোবট আপাতত কর্মীদের পুরোপুরি সরিয়ে দিচ্ছে না। খাবার তোলা, ট্রে সাজানো, রোবটের গতিবিধি নজরে রাখা থেকে শুরু করে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই মানুষের প্রয়োজন থাকছে। বরং প্রযুক্তি এখানে মূলত পরিবেশনের একটি অংশকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলছে।
মুরথলের ধাবায় তাই আপাতত লড়াইটা মানুষ বনাম রোবটের নয়। বরং পুরনো ধাবার স্বাদ আর নতুন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে পাশাপাশি বসানোর চেষ্টা। গরম পরোটা থাকবে, লস্যিও থাকবে। শুধু খাবারটি টেবিলে পৌঁছে দিতে এ বার মানুষের পাশাপাশি পা বাড়িয়েছে যন্ত্রও। আর সেই দৃশ্য দেখেই ক্রেতাদের প্রশ্ন, আজ ধাবায় রোবট ওয়েটার, কাল কি আরও অনেকের কাজই চলে যাবে যন্ত্রের হাতে?
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
