১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
গোষ্ঠ পালের পায়েই জব্দ হয় গোরারা

প্রতীকী ছবি - AI

গোষ্ঠ পালের পায়েই জব্দ হয় গোরারা

মূল বিষয়

ভারতীয় ফুটবলের এমন একজন কিংবদন্তির জন্ম হয়েছিল, যিনি কিনা পুরো দেশের ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন। তিনি হলেন ‘চাইনিজ ওয়াল’ গোষ্ঠ পাল। কলকাতা ময়দানে যাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি শোভা পাচ্ছে সাত দশক ধরেই। গোষ্ঠ পালের এটা ১৩০তম জন্মদিবস। প্রতিবারই তাঁর ওই মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়, সকলেই শ্রদ্ধা জানিয়ে যান।

এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। আজীবন মোহনবাগানী এই ফুটবলের প্রবাদপ্রতীম আদতে ছিলেন কাঠবাঙাল। তাঁর বাড়ি ছিল বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার ভোজেশ্বর গ্রামে। তিনি কথাবার্তাতেও ছিলেন আদ্যন্ত বাঙাল, কিন্তু রক্তে তিনি ছিলেন সবুজ মেরুন। 

গোষ্ঠ পালের কিংবদন্তি

১৯১১ সালে মোহনবাগানের সেই আইএফএ শিল্ড জয় বীরগাথা হয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ দল ইস্ট ইয়র্ককে হারিয়ে মোহনবাগানের সেই জয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অনেকটাই ভূমিকা নিয়েছিল। তারপরেই ১৯১৩ সালে গোষ্ঠ পাল মোহনবাগানে যোগ দেন। টানা খেলেছিলেন ২২ বছর। ১৯২১-২৬ সাল পর্যন্ত তিনি মোহনবাগানের অধিনায়ক ছিলেন। এমনকী ১৯২৪ সালে তিনি ভারতীয় দলেরও অধিনায়ক হন।

আরও পড়ুন
ভারতীয় ক্রিকেটে ‘মানব সভ্যতা’
কোহলি-রোহিত-রাহানের পর গম্ভীরের নিশানায় জাদেজা!
মাঠের বিখ্যাত বাবাদের ত্যাগই যখন রূপকথার জন্ম দেয়

মোহনবাগানের অমর একাদশের সদস্যরা স্বাধীনতায় ভূমিকা রাখলে কী হবে একটা গোষ্ঠ পাল ব্রিটিশদের চূর্ণ করেছিলেন। তিনি খেলতেন খালি পায়ে। তাঁর শটে এত জোর ছিল যে একবার মিডলসেক্সের ফরোয়ার্ড এলসন মাঠেই অজ্ঞান হয়ে যান।

জয় করেন ভয়কে  

খালি পায়ে ব্রিটিশদের সাথে খেলতে ভয় লাগে কিনা জিগ্যেস করলে গোষ্ঠ পাল হাসতে হাসতে জবাব দিতেন,‘‘ভয়? কীসের? আমারেই তো অরা ভয় পাইলো চিরডা কাল। আমি আবার ভয় পাইলাম কারে!” জন্ম থেকেই ভয় শব্দটা ওঁর অভিধানে ছিল না। ছোটবেলায় ভীষণ দুরন্ত ছিলেন তিনি। একদিন ওনার মা সবজি কাটছেন, আর মায়ের পাশে বসে উনি কিছু একটা করছিলেন। হঠাৎ তাঁর মনে হলো মায়ের মতো করে উনিও সবজি কাটবেন। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। কিন্তু বিপদ হলো সেটি করতে যেতেই। উল্টে পড়লেন ধারালো বঁটির উপর। অল্পের জন্য গলার পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও বঁটি গেঁথে গেলো তাঁর কাঁধে। 

ভীষণ রক্ত বেরোচ্ছে, বাড়ির সবাই আতঙ্কিত, পাড়া – প্রতিবেশীরাও ছুটে এসেছেন দুশ্চিন্তায় কিন্তু ছোট্ট ছেলেটা নির্বিকার, যেন কিছুই হয়নি। ডাক্তার এলেন, চিকিৎসা করলেন এবং তিনিও আশ্চর্য হয়ে গেলেন এতো বড় বিপদের পরেও ছেলেটার চোখে মুখে ভয়ের লেশমাত্র দেখতে না পেয়ে। সেদিন অবাক বিস্ময়ে তিনি বলেছিলেন,”এই বয়সে যার এত সহ্যশক্তি, বড় হলে সে কেউকেটা হবে”।

সেই ভবিষ্যদ্বাণী যে কতোটা ঠিক প্রমাণিত হয়েছে তা তো বলাই বাহুল্য। যদিও নিজের প্রাণাধিক প্রিয় মাকেও মজার ছলে বলতেন,”শুধু বলে লাথাই!” সত্যিই, এমন জোরে বলে মারতেন যে বিপক্ষ তাঁকে ভয় পেত। পরাধীন ভারতবর্ষে যখন ব্রিটিশের হাতে অত্যাচারিত হওয়া বাঙালি তথা সমগ্র ভারতবাসীর নিয়মিত ঘটনা, তখন এক বঙ্গতনয়ের গোলার মতো শট, বীর বিক্রমে ফুটবল মাঠে বিচরণে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠতো সাহেবদের মধ্যেও। আজ জন্মদিনে ওই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য