

দামি মদে আগ্রহ জেন-জি'র? ছবি - Getty Image
৩১শে আগস্ট, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা আর লাইফস্টাইল পরিবর্তনের জেরে তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ ‘জেন জি’ (Gen Z) আগের প্রজন্মের তুলনায় মদ খাওয়া অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন থেকে শুরু করে ভারতের বড় শহরগুলোতে সমীক্ষা চালালে ফলাফল একই—তরুণরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘মাইন্ডফুল’ বা সংযমী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ট্রেন্ডের মাঝেও শেয়ার বাজারে মদ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির (যেমন Radico Khaitan, United Spirits) মুনাফা তরতরিয়ে বাড়ছে।
মদ কম বিক্রি হলে মুনাফা কীভাবে বাড়ছে? এই আপাত বৈপরীত্যের পেছনে রয়েছে এক বড়সড় বাজার বদলের গল্প।
স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এবং নিয়মিত সোশ্যাল হ্যাংআউটের ধরনে পরিবর্তন আসায় তরুণদের বড় অংশ এখন লাগামহীন পার্টি বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকছে। মুম্বাই ও পুণের তরুণদের ওপর করা সমীক্ষা বলছে, এদের অনেকেই ‘ড্রাই মান্থ’ পালন করছেন এবং এক রাতের আড্ডায় অ্যালকোহল ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয় মিশিয়ে খাচ্ছেন। অভ্যাসবশত বন্ধুদের সঙ্গে বসে ঢকঢক করে গিলে যাওয়ার দিন এখন অতীত।
মদের পরিমাণ কমলেও টাকার অঙ্কে টান পড়ছে না। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান অ্যালকোহলিক বেভারেজ কোম্পানিজের (CIABC) মতে, এর মূল কারণ হলো ‘প্রিমিয়ামাইজেশন’ (Premiumisation)। অর্থাৎ তরুণরা সস্তা মদের বোতল ছেড়ে দামি ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছে।
কম খাওয়া, কিন্তু সেরাটা নেওয়া: সস্তা হুইস্কি-সোডার বদলে এখন পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে দেশি সিঙ্গেল মল্ট কিংবা ক্রাফট ককটেল।
দেশি ব্রান্ডের জয়জয়কার: ২০২৫ সালে দেশীয় সিঙ্গেল মল্টের বিক্রি প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫ লাখ কেসে পৌঁছেছে, যার ৯২ শতাংশই দেশি লেবেল।
মুনাফায় বড় লাফ: রাদিকো খৈতানের ‘Prestige & Above’ ক্যাটাগরির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪০.৮ শতাংশ, যা তাদের নিট লাভে রেকর্ড বৃদ্ধি এনে দিয়েছে।
তরুণদের পছন্দের কারণে ভদকার বাজারে এসেছে আমূল রূপান্তর। কয়েক বছর আগেও বাজারে ৬০ শতাংশ ছিল সাধারণ (প্লেন) ভদকা আর ৪০ শতাংশ ফ্লেভার্ড। এখন সেই অনুপাত উল্টে গিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লেভার্ড এবং মাত্র ২০ শতাংশ সাধারণে এসে ঠেকেছে।
জাফরান বা কাঁচালঙ্কা-আমের ফ্লেভারযুক্ত স্পেশাল ভদকা হোক কিংবা মহুয়া কাঠের ব্যারেলে তৈরি সিঙ্গেল মল্ট—আজকের জেন জি খুঁজছে ইউনিক অভিজ্ঞতা আর পানীয়ের পেছনের গল্প।
জেন জি মদ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে—এই ধারণাটা আংশিক সত্য। তারা আসলে রোজকার অভ্যাসবশত কম দামি মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। সংখ্যায় কম পেগ, কিন্তু প্রতি গ্লাসে খরচ বেশি—মদ কোম্পানিগুলো এই মানসিকতা বুঝে নিয়েই প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বাজি ধরে রেকর্ড মুনাফা ঘরে তুলছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
