

Tata Altroz, ছবি - Google
৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শহরের ব্যস্ত রাস্তা হোক বা হাইওয়ের লম্বা সফর, একটি গাড়ির কাছে এখন শুধু মাইলেজ বা ইঞ্জিনের ক্ষমতা চাইলেই চলে না। চাই আধুনিক ফিচার, আরাম, নিরাপত্তা এবং একসঙ্গে একাধিক পাওয়ারট্রেনের বিকল্প। সেই জায়গাতেই নতুন করে নজর কেড়েছে Tata Altroz। ২০২৫ সালের মে মাসে বড়সড় আপডেট নিয়ে আসা Altroz-এ ডিজাইন থেকে কেবিন, প্রযুক্তি থেকে গিয়ারবক্স একাধিক জায়গায় পরিবর্তন করেছে Tata Motors।
সবচেয়ে বড় খবর অবশ্য নিরাপত্তা নিয়ে। ২০২৫ সালে Bharat NCAP পরীক্ষায় Altroz পেয়েছে ৫-স্টার রেটিং। প্রাপ্ত নম্বর, অ্যাডাল্ট অকুপ্যান্ট প্রোটেকশনে ৩২-এর মধ্যে ২৯.৬৫ এবং শিশু সুরক্ষায় ৪৯-এর মধ্যে ৪৪.৯। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পরীক্ষার রেটিংটি পেট্রল, ডিজেল এবং CNG—তিন ধরনের পাওয়ারট্রেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নতুন Altroz-এর সামনের অংশে এসেছে নতুন বাম্পার, পরিবর্তিত গ্রিল এবং নতুন LED লাইটিং। পিছনেও LED টেল-ল্যাম্পের নকশা বদলেছে। নতুন অ্যালয় হুইল, ফ্লাশ-ফিটিং সামনের দরজার হ্যান্ডল এবং আরও পরিষ্কার সাইড ডিজাইন গাড়িটিকে আগের তুলনায় বেশি আধুনিক করে তুলেছে।
ভিতরেও বদল কম নয়। সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির Ultra View infotainment screen, full-digital instrument cluster, wireless Android Auto ও Apple CarPlay, wireless charging এবং সামনে-পিছনে ৬৫W Type-C charging। ভয়েস-অ্যাসিস্টেড sunroof, ambient lighting, air purifier এবং iRA connected-car technology-ও রয়েছে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে।
ছ’টি airbag, Electronic Stability Program/ESC, ISOFIX child-seat mount এবং সব আসনে ৩-point seat belt—নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির অনেকটাই স্ট্যান্ডার্ড। উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় 360-degree HD camera, Blind View Monitor, Direct TPMS, auto headlamps, rain-sensing wipers এবং SOS/breakdown assistance।
Altroz-এর অন্যতম বড় শক্তি তার পাওয়ারট্রেনের বৈচিত্র্য। ১.২-লিটারের তিন-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন থেকে পাওয়া যায় ৮৮ PS শক্তি ও ১১৫ Nm টর্ক। এই ইঞ্জিনের সঙ্গে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল, ৫-স্পিড AMT এবং ৬-স্পিড DCA—তিন ধরনের গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে।
CNG সংস্করণে একই ১.২-লিটার ইঞ্জিন CNG মোডে দেয় ৭৩.৫ PS ও ১০৩ Nm। Twin-cylinder প্রযুক্তির ফলে CNG সংস্করণেও ব্যবহারযোগ্য বুট স্পেস রাখার চেষ্টা করেছে Tata।
আর যারা বেশি হাইওয়েতে চালান, তাঁদের জন্য রয়েছে ১.৫-লিটার, চার-সিলিন্ডার টার্বো-ডিজেল। এর শক্তি ৯০ PS, টর্ক ২০০ Nm এবং এটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গে পাওয়া যায়।
পেট্রল ও ডিজেল Altroz-এ বুট স্পেস ৩৪৫ লিটার। CNG মডেলে twin-cylinder ব্যবস্থার কারণে জায়গা কমলেও প্রায় ২১০ লিটার বুট স্পেস রাখা হয়েছে—যা CNG গাড়ির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ব্যবহারযোগ্য।
লঞ্চের সময় নতুন Altroz-এর দিল্লিতে introductory ex-showroom দাম শুরু হয়েছিল ৬.৮৯ লক্ষ থেকে। সেই সময়ের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১১.৪৯ লক্ষ। তবে এটি লঞ্চের introductory price; বর্তমানে ডিলার, ভ্যারিয়েন্ট এবং সময়ভেদে দাম বদলাতে পারে।
সবকিছু নিখুঁত নয়। ১.২-লিটার naturally aspirated পেট্রল ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স খুব স্পোর্টি নয়। উচ্চ গতিতে road এবং wind noise নিয়েও পরীক্ষকদের আপত্তি রয়েছে। পিছনের আসনে জায়গা মোটামুটি ভালো হলেও লম্বা যাত্রীদের জন্য headroom সীমিত হতে পারে। সামনে ventilated seat-ও নেই।
তবু সব মিলিয়ে নতুন Altroz-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হল—নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, ডিজাইন এবং পেট্রল-ডিজেল-CNG—চারটি জায়গাকে একই গাড়িতে একসঙ্গে ধরে রাখা। বিশেষ করে Bharat NCAP-এর পাঁচতারা রেটিং এবং CNG-সহ একাধিক পাওয়ারট্রেনের বিকল্প Altroz-কে এই সেগমেন্টে এখনও আলাদা করে রাখে।
এক কথায়: মাইলেজের জন্য CNG, বেশি হাইওয়ে চালানোর জন্য ডিজেল, আর শহুরে ব্যবহারে পেট্রল0 নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী Altroz বেছে নেওয়ার সুযোগই এই গাড়ির সবচেয়ে বড় শক্তি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
2016 সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক। 2020 থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে The Fourth Axis বাংলায় কর্মরত। শখ বলতে সময় পেলে সমুদ্রের কাছে যাওয়া।
