

ইসরোর নতুন পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ EOS-05। ছবি - Google
৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে শুক্রবার গভীর রাতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। রাত ২টো ৫৫ মিনিটে সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি দিল ভারতের নতুন পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ‘ইওএস-০৫’ (EOS-05)। জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে এই অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহাকাশ দুনিয়ায় ফের নিজের দাপট দেখাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই ভারী উপগ্রহটিকে পৃথিবী থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচুতে ভূ-সমলয় (Geosynchronous) কক্ষপথে স্থাপন করা হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের বেশিরভাগ পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ পৃথিবীর কাছাকাছি (LEO) চক্কর কাটত, ফলে কয়েক দিনে মাত্র একবার কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি মিলত। তবে ইওএস-০৫ হলো এই কক্ষপথে ভারতের প্রথম এমন কোনো চোখ, যা মহাকাশে এক জায়গায় স্থির থেকে অবিরাম নজর রাখবে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর।
ইওএস-০৫ উপগ্রহে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক মাল্টিস্পেকট্রাল ও হাইপারস্পেকট্রাল সেন্সর। এতে থাকা ৪২ মিটারের রেজোলিউশন ক্যামেরাটি ইসরোর ইতিহাসে এই নির্দিষ্ট কক্ষপথে পাঠানো সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। এর সাহায্যে প্রতি ৫ মিনিটে দেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট প্রান্তের এবং প্রতি ৩০ মিনিটে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের নিখুঁত ছবি বিজ্ঞানীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এই উপগ্রহ এক যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে। ঘূর্ণিঝড়, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি কিংবা দাবানলের মতো দ্রুত রূপ বদলানো বিপর্যয়ের খবর প্রতি ৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করবে এটি। এর ফলে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন ও মেঘের গতিবিধি ট্র্যাক করতে এটি আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদেরও প্রভূত সাহায্য করবে।
শুধুমাত্র দুর্যোগ নয়, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই উপগ্রহ এক অতন্দ্র প্রহরী। স্থলসীমান্ত থেকে শুরু করে উপকূলবর্তী জলসীমায় যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা রিয়েল-টাইমে নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রে মাটির আর্দ্রতা, ফসলের স্বাস্থ্য এবং বনাঞ্চলের গতিপ্রকৃতি নজরে রাখতে এটি বিজ্ঞানীদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হয়ে উঠবে।
ইসরো প্রধান ড. ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, জিএসএলভি রকেটের এটি ছিল ১৯তম সফল অভিযান এবং এটিই এই রকেটের মাধ্যমে পাঠানো এযাবৎকালের সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ। চলতি আর্থিক বছরেই আরও পাঁচটি বড় উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো, যার মধ্যে অন্যতম হলো ন্যাভিগেশন উপগ্রহ এনভিএস-০৩ এবং দেশের প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর মহড়া অভিযান ‘গগনযান-জি১’।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
