

মেটার ব্যক্তিগত AI সহকারী মিউজের কল্যাণে মানুষ অলস হয়ে পড়বে? ছবি - Google
৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এত দিন কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর কাছে কোনো তথ্য জানতে চাইলে সে চটজলদি উত্তর লিখে দিত। কিন্তু এবার শুধু পরামর্শ দেওয়া নয়, ব্যবহারকারীর হয়ে নিজের হাতে দৈনন্দিন কাজ সেরে দিতে নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ (Muse) নিয়ে এল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা। টিকিট বুক করা, প্রয়োজনীয় মেল পাঠানো কিংবা অনলাইনে কেনাকাটার মতো রোজনামচার কাজগুলো এবার নিজে থেকেই সামলাবে এই স্বয়ংক্রিয় সহকারী। প্রাথমিকভাবে আমেরিকার গ্রাহকদের জন্য এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের কথায়, এটি ভবিষ্যতের ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’-এর পথে এক বড় পদক্ষেপ, যা মানুষের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও পছন্দ বুঝে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যেতে সক্ষম।
মেটা জানিয়েছে, সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় ‘মিউজ’-এর কাজের পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত।
* এটি ব্যবহারকারীর ইমেল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট অ্যাপ, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারে।
* সহকর্মীর পাঠানো মেল পড়ে তার জবাব তৈরি করে পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ার যাবতীয় ট্রাভেল টিকিট কাটা—সবই করতে পারে এই টুল।
* এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো রান্নার রেসিপি পছন্দ হলে, তা দেখে প্রয়োজনীয় মুদির ফর্দ বানিয়ে সরাসরি অনলাইন বাজার থেকে অর্ডারের ব্যবস্থাও করতে পারবে।
* ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও ‘মিউজ’ ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
মেটার মতো সংস্থার হাতে ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মেল বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য তুলে দেওয়া কতটা নিরাপদ—এই প্রশ্ন বরাবরের মতো এবারও ঘুরপাক খাচ্ছে প্রযুক্তি মহলে।
ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করতে মেটা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার দিকটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, প্রতিটি ‘মিউজ’ সিস্টেম ক্লাউডের একটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিচ্ছিন্ন ‘ভার্চুয়াল কম্পিউটার’-এর ভেতরে চলে। ফলে সংবেদনশীল তথ্য বা পাসওয়ার্ড এআই এজেন্টের নিজস্ব নজরে সরাসরি আসে না।
টাকা লেনদেন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সরাসরি সম্মতি ছাড়া ‘মিউজ’ নিজে থেকে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। পাশাপাশি সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সহকারীর কাছে থাকা ব্যক্তিগত কথোপকথন বা তথ্য কোনোভাবেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা হবে না।
বর্তমানে টেক দুনিয়ায় ওপেনএআই, গুগল কিংবা মাইক্রোসফটের মতো একাধিক সংস্থা নিজেদের এআই এজেন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে মেটার বড় সুবিধা হল তাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মতো বিশাল ব্যবহারকারী নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে খুব সহজেই জুড়ে যেতে পারে ‘মিউজ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তথ্য সুরক্ষায় মেটার অতীতের ট্র্যাক রেকর্ড এই নতুন টুলের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। মানুষ তাদের সমস্ত ব্যক্তিগত ডিজিটাল চাবি মেটার নতুন এই সহকারীর হাতে কতটা নিশ্চিন্তে তুলে দেবে, প্রযুক্তিটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূলত তারই ওপর।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
