২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
কীভাবে শীতের ধোঁয়াশা থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করবেন?

শীতের ধোঁয়াশা থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করুন। ছবি - Google

কীভাবে শীতের ধোঁয়াশা থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করবেন?

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

মারণ বায়ুদূষণের হাত থেকে বাঁচার উপায় কী?

শীতকাল আসা মানে শ্বাসকষ্টের মরশুম শুরু হওয়া। যাদের শ্বাসকষ্ট জনিত বিভিন্ন সমস্যা আছে, সেই সকল মানুষদের কাছে শীতকালটা রীতিমতো আতঙ্কের হয়ে দাঁড়ায়। তবে যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা নেই বলে আপাতভাবে মনে হচ্ছে, তাদের কাছেও এখন আর শীতকাল নিরাপদ নয়। শীতকালের ভয়াবহ বায়ু দূষণ থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করতে হলে কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতেই হবে।

মূল বিষয়

বাতাসে একটা হালকা শিরশিরানি ভাব চলে এসেছে। তবে শীতের সকাল মানেই এখন আর শুধু মিষ্টি রোদ নয়। বরং সকালের দিকে বাইরের বেরোলে মনে হয় চারপাশটা যেন কুয়াশায় ঢাকা। কিন্তু এটা কুয়াশার নয়, বিষাক্ত ধোঁয়াশা।

এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান রীতিমতো ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই প্রতিদিন দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন! এই দূষণের সরাসরি এবং সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে আমাদের ফুসফুসের উপর।

ধোঁয়াশায় ঢাকা শহর

বাতাসে ভেসে থাকা দূষণ কণাগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এগুলোই আমাদের ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই কণাগুলোকে পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম বলা হয়। PM 2.5 এবং PM 10 কণাগুলো মূলত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বহুতল নির্মাণের কাজ এবং যানবাহনের ধোঁয়া থেকে তৈরি হয়। রাস্তায় নামলে যে ডিজেল বা পেট্রল চালিত গাড়ির কালো ধোঁয়া আমরা দেখি, তা থেকে প্রতিনিয়ত নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস বের হয়।

শীতকালে আবার বাতাসের গতিবেগ কম থাকে এবং তাপমাত্রা নিচে থাকে। অর্থাৎ বাতাসের নিচে স্তরে ভারি অবস্থা বিরাজ করে। এর ফলে ধুলোবালি ও ধোঁয়া উপরের দিকে উঠতে পারে না। এগুলো মাটির কাছাকাছির স্তরেই আটকে থাকে। এর সঙ্গে যখন কৃষিজমিতে খড় পোড়ানোর ধোঁয়া এসে মেশে, তখন পরিস্থিতি একেবারে হাতের বাইরে চলে যায়। তখন বাইরে বের হওয়া মানে অবধারিতভাবে মারাত্মক বায়ু দূষণের শিকার হওয়া।

আবার ঘরের ভেতরের দূষণও কিন্তু কম মারাত্মক নয়। মশা তাড়ানোর কয়েল, ধূপকাঠি বা রান্নার ধোঁয়া বদ্ধ ঘরে জমতে থাকলে তা বাইরের দূষণের চেয়েও অনেক সময় বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ফুসফুসের অন্দরে কী ঘটছে?

এখন প্রশ্ন হল, এই দূষিত বাতাস আমাদের শরীরের ভেতরে গিয়ে ঠিক কী ক্ষতি করছে? PM 2.5 কণাগুলো এতই সূক্ষ্ম যে, তা আমাদের নাকের রোম বা শ্বাসনালীর প্রাথমিক বাধা সহজেই পার হয়ে যায়। এরপর সোজা গিয়ে পৌঁছায় ফুসফুসের একেবারে ভেতরের অংশ অ্যালভিওলাইতে। সেখান থেকে এই বিষাক্ত কণাগুলো সরাসরি আমাদের রক্তে মিশে যায়। দীর্ঘক্ষণ এমন দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে শ্বাসনালীতে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এর ফলে যাদের হাঁপানি আছে তাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন
ঘণ্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটছে? সাবধান! কী হচ্ছে আপনার সঙ্গে, জানুন!
দিনরাত স্ক্রিনের সামনে? মানসিক চাপ কমাতে বদলান কাজের অভ্যাস
পুজোয় ভুঁড়ি কমবেই কমবে! ৪ ‘সিক্রেট’

বয়স্কদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা COPD হওয়ার ঝুঁকি প্রবলভাবে বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট হতে শুরু করে। চিকিৎসকরা দূষিত বাতাসকে ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করছেন। অন্যদিকে শিশুদের ফুসফুস যেহেতু গঠনের পর্যায়ে থাকে, তাই দূষণের কারণে তাদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা সহজেই নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হয়।

বিপদ থেকে বাঁচতে লাইফস্টাইল পরিবর্তন জরুরি

এই বিপদ থেকে বাঁচতে সবার আগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। রোজ সকালে প্রাতঃভ্রমণ করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার আগে একবার অবশ্যই এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI চেক করে নেওয়ার বিষয়টিকে রুটিন বানিয়েকরে ফেলতে হবে। বরং দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরের বদলে ঘরের ভেতরেই ফ্রি-হ্যান্ড বা যোগব্যায়াম সেরে নেওয়া ভালো। কারণ ভোরে বা সন্ধ্যের পর বাতাস ভারী থাকায় দূষক কণাগুলো নিচেই ঘোরাফেরা করে।

ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে স্পাইডার প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা অ্যালোভেরার মতো কিছু বায়ু-পরিশোধক গাছ রাখা যেতে পারে। আর সারা দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে শ্বাসনালীর মিউকাস তরল থাকে। ফলে কফের মাধ্যমে দূষিত কণাগুলো সহজেই শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

রান্নাঘর থেকেই শুরু হোক প্রতিরোধ

ফুসফুসকে ভেতর থেকে মজবুত করতে আমাদের রান্নাঘরের চেনা উপাদানগুলো দারুণ কাজে লাগে। দূষণের কারণে ফুসফুসের কোষে যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, তা দূর করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খাওয়া খুব দরকার। এর জন্য পাতিলেবু, কমলালেবু, আমলকী, পেয়ারা এবং পালং শাক প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা উচিত। শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে কাঁচা হলুদ, আদা, রসুন আর তুলসী পাতা। হালকা গরম জলে আদার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে বুকে জমে থাকা কফ সহজে দূর হয়। এছাড়া প্রাচীনকাল থেকেই ধুলোবালি থেকে শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সামান্য পরিমাণ বিশুদ্ধ গুড় খাওয়ার চল রয়েছে। এই অভ্যাসটিও কিন্তু ফুসফুস ভালো রাখতে সমান কার্যকর।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডাক্তারি সুরক্ষা

বায়ু দূষণ থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সচেতনতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের কাছে যাওয়া এবং তাদের নির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ মেনে চলাটাও জরুরি। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা স্পষ্ট বলেন- রাস্তায় বের হলে সাধারণ কাপড়ের মাস্ক পরলে চলবে না। বায়ুতে ভাসমান সূক্ষ্ম কণা আটকাতে অবশ্যই N-95 বা তার সমমানের মাস্ক সঠিকভাবে পরতে হবে। ফুসফুসের পেশি শক্তিশালী করতে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করা দরকার। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্পাইরোমিটার ব্যবহার করে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে।

যাঁদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বয়স্কদের এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের প্রতি বছর ফ্লু ও নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নেওয়াটা এখন সময়ের দাবি। আর একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি। টানা অনেকদিন কাশি থাকলে, কাশির সঙ্গে রক্ত এলে, বুকে ব্যথা হলে বা সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠলে মোটেও ফেলে রাখা যাবে না। ঘরোয়া টোটকার ভরসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
কৌস্তভ ভৌমিক
কৌস্তভ ভৌমিক

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য