

অতিরিক্ত চা-কফি খেলে কি কিডনিতে পাথর হয়? ছবি :AI
অতিরিক্ত চা-কফি পানে কি সত্যি কিডনিতে পাথর জমে? চায়ের অক্সালেট ও কফির ক্যাফিনের আসল প্রভাব জেনে নিন এবং জেনে নিন দৈনিক নিরাপদ পানের মাত্রা।
সকালে ঘুম ভেঙে এক কাপ গরম চা কিংবা কফি না পেলে বাঙালির দিন শুরু হয় না। কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে দিনে তিন-চার কাপ চা-কফি চলতেই থাকে। কেউ কেউ হিসেবও রাখেন না কত আড্ডায় বা কত মিটিংয়ে ক' কাপ চা-কফি খেয়ে ফেললেন! সম্প্রতি একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই উদ্বেগ তৈরি করছে—অতিরিক্ত ক্যাফিন কি বৃক্কে ক্ষতি করছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান এই নিয়ে কী বলছে? আজকের দিনে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় হল কিডনিতে পাথর (kidney stone tea coffee)। চা বা কফি কি সরাসরি কিডনিতে পাথরের কারণ হতে পারে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও শারীরবৃত্তীয় সমীকরণ?

চায়ের সাথে কিডনি স্টোনের যোগসূত্র বোঝার জন্য আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে পাথরের প্রকৃতি। মানুষের শরীরে হওয়া প্রায় আশি শতাংশ কিডনি স্টোনই হল ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ স্টোন।
চা পাতায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্চমাত্রার ‘অক্সালেট’ থাকে। বিশেষ করে কালো চা বা ব্ল্যাক টি-তে অক্সালেটের পরিমাণ বেশ বেশি। যখন আমরা অতিরিক্ত মাত্রায় ঘন লিকার চা পান করি, তখন শরীরে অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে যায়।
শরীরে জল কম থাকলে এই অতিরিক্ত অক্সালেট প্রস্রাবের ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে ছোট ছোট ক্রিস্টাল তৈরি করে। এই ক্রিস্টালগুলোই পরবর্তীতে জমাট বেঁধে পাথরের আকার নেয়। তবে আপনি যদি দুধ চা পান করেন, তবে দুধের ক্যালসিয়াম পেটের ভেতরেই চায়ের অক্সালেটের সাথে মিশে যায়। ফলে তা অন্ত্রেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং কিডনি পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ পায় না।
চায়ের ক্ষেত্রে অক্সালেটের ঝুঁকি কিছুটা থাকলেও কফির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পানকারীদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
এর কারণ হল কফিতে থাকা ক্যাফিনের মূত্রবর্ধক (diuretic) বৈশিষ্ট্য। কফি খেলে শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। ফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে জমে থাকা ছোটখাটো মিনারেল বা খনিজ শরীর থেকে অনায়াসে ধুয়ে বেরিয়ে যায়।
তাছাড়া কফিতে চায়ের তুলনায় অক্সালেটের পরিমাণ অনেকটাই কম থাকে। ফলে কফি সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে এখানেও একটি বড় শর্ত রয়েছে। আপনি যদি কফি খাওয়ার পর পর্যাপ্ত জল না খান, তবে শরীর ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারে। আর সেই পানিশূন্যতাই পাথর তৈরির পথ প্রশস্ত করে দেয়। কিডনির সঠিক যত্ন সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিটক্সের ভূমিকা এবং শরীরে জলের সঠিক মাত্রা বজায় রাখার উপায়।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কোনও কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ক্যাফিনের একটি নির্দিষ্ট দৈনিক সীমা রয়েছে।
চা বা কফিকে পুরোপুরি জীবন থেকে বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিছু সাধারণ অভ্যাসের বদল ঘটালেই এই ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব:
চা বা কফি নিজে থেকে কিডনির একমাত্র শত্রু নয়। আসল সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা অতিরিক্ত চা-কফি পানের সাথে সাথে পর্যাপ্ত জল খাওয়া কমিয়ে দিই। কড়া লিকারের চায়ে থাকা অক্সালেট এবং শরীরে জলের অভাব এক সাথে হাত মেলালেই কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি চরমে পৌঁছায়। তাই নিয়ম মেনে পরিমিত কাপে চুমুক দিন এবং শরীরকে আর্দ্র রাখুন। সতর্কতা আর পরিমিতিবোধ বজায় রাখলেই পছন্দের গরম পেয়ালা উপভোগ করেও কিডনিকে আজীবন সুস্থ রাখা সম্ভব।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
