

ফ্রিজের বাসি খাবার গরম করায় ক্যান্সারের ঝুঁকি? ছবি:AI
জানুন reheating leftover food cancer risk সংক্রান্ত চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা। বাসি খাবার বারবার গরম করলে কীভাবে নাইট্রোসামিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি হয়, জেনে নিন।
কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই ছুটির দিনে বা রাতে একবারে বেশি করে রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেন। পরের দিন সেই খাবার মাইক্রোওয়েভে বা গ্যাসে গরম করে খাওয়া এখন শহুরে জীবনের সাধারণ অভ্যাস। তবে সম্প্রতি পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের একাংশের সতর্কবার্তা আলোড়ন ফেলেছে। ফ্রিজের বাসি খাবার বারবার গরম করে খাওয়ার অভ্যাস কি শরীরের ভেতর মারণরোগের বীজ বুনে দিচ্ছে? আজকের দিনে স্বাস্থ্য সচেতন প্রতিটি পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল reheating leftover food cancer risk। বাসি খাবার গরম করার সাথে ক্যান্সারের যোগসূত্র কতটা বাস্তব, আর কতটা নিছক আতঙ্ক?
সবচেয়ে বেশি বিপদ লুকিয়ে থাকে পালংশাক, মেথিশাক, শালগম কিংবা গাজর ও বিটের মতো সবজিতে। এই জাতীয় সবজিতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘নাইট্রেট’ থাকে।
শাকসবজি রান্না করার পর যখন দীর্ঘক্ষণ ফ্রিজে রাখা হয় এবং পরে অতিরিক্ত তাপে পুনরায় গরম করা হয়, তখন সেই নাইট্রেট রূপান্তরিত হয় ‘নাইট্রাইট’-এ। এই নাইট্রাইট পাকস্থলীর অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি করে ‘নাইট্রোসামিন’ (Nitrosamines)।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই নাইট্রোসামিনকে অত্যন্ত শক্তিশালী কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে পাকস্থলী, অন্ত্র এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই রান্না করা শাকসবজি বারবার গরম না করে একবারে খেয়ে ফেলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অনেকেরই অভ্যাস থাকে ফ্রিজে রাখা আগের দিনের ভাজাভুজি বা তেল-মশলাদার মাংস বারবার কড়াইয়ে ফুটিয়ে নেওয়া। এই অভ্যাসটি সরাসরি লিভার ও অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।
রান্নার তেল যখন দ্বিতীয়বার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়, তখন তার রাসায়নিক গঠন ভেঙে যায়। ফলে তৈরি হয় বিষাক্ত ‘পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন’ (PAH) এবং ‘অ্যাক্রিল্যামাইড’ (Acrylamide)।
এই রাসায়নিক যৌগগুলো শরীরের কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয় এবং ডিএনএ-র ক্ষতিসাধন করে। যা পরবর্তীতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমারের আকার নিতে পারে। তেল ও মশলার এই পরিবর্তন নিয়ে সচেতন হতে পড়ুন আমাদের রান্নার তেলের সঠিক ব্যবহার ও বিষক্রিয়া এড়ানোর উপায় এবং পাকস্থলীর আলসার ও ক্যান্সার প্রতিরোধের ডায়েট গাইড।

শুধু ক্যান্সার নয়, ফ্রিজের খাবার সঠিকভাবে গরম না করলে তা তীব্র বিষক্রিয়া ডেকে আনে:
খাবারের উপাদানের পাশাপাশি গরম করার পাত্রটিও অনেক সময় ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে ফ্রিজ থেকে প্লাস্টিকের টিফিন বক্স বা কন্টেইনার বের করে সরাসরি মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে দেন।
এমনকি তথাকথিত ‘মাইক্রোওয়েভ-সেফ’ প্লাস্টিকও অতিরিক্ত তাপে ‘বিসফেনল-এ’ (BPA) এবং ‘থ্যালেটস’ (Phthalates) নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবারে ছেড়ে দেয়।
এই কেমিক্যালগুলো হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং নারীদের স্তন ক্যান্সার ও পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তাই খাবার গরম করতে হলে সবসময় কাচ বা সেরামিকের পাত্র ব্যবহার করা উচিত।
ফ্রিজে খাবার রাখা আধুনিক জীবনের এক অনিবার্য বাস্তবতা। তবে সামান্য সচেতনতা বজায় রাখলে এই অভ্যাস কখনোই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে না। খাবার রান্না করার দু’ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা উচিত। ফ্রিজ থেকে পুরো বাটি বারবার বের করে গরম না করে, যতটুকু খাওয়ার প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই আলাদা পাত্রে বের করে একবারই গরম করতে হবে। খাবারকে বারবার আগুনের আঁচে ফেলে তার গুণমান নষ্ট না করে সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি ও পরিমিতিবোধ বজায় রাখলেই বাসি খাবারের বিষক্রিয়া ও ক্যান্সারের মতো মারণরোগ থেকে পরিবারকে নিরাপদে রাখা সম্ভব।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
