

ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারা মনবন্ত কুমার। ছবি - Google
শচীন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল তাঁর। বাবার উৎসাহ এবং ছোটবেলার সেই স্মৃতিই ধীরে ধীরে তাঁকে ক্রিকেটের জগতে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা তৈরি হতে সব সময় বড় কোনও মঞ্চের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও বাড়ির টেলিভিশনের সামনে বসে কিংবদন্তিদের খেলা দেখাই বদলে দেয় জীবনের গতিপথ। কর্নাটকের ২২ বছরের অলরাউন্ডার মনবন্ত কুমারও সেই পথেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়েছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা, ছোট ঘরে বড় স্বপ্ন দেখার পরেও স্রেফ প্রতিভা ও দক্ষতায় শান নিয়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে চমক দেখিয়েছেন। ব্যাটে যেমন দাগ কেটেছেন, তেমনি বোলিংয়েও নজর কেড়েছেন।
শচীন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল তাঁর। বাবার উৎসাহ এবং ছোটবেলার সেই স্মৃতিই ধীরে ধীরে তাঁকে ক্রিকেটের জগতে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের জায়গা শক্ত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। মনবন্তের ক্রিকেটজীবনের পিছনে রয়েছে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। পরিবারের ক্রিকেটপ্রেম সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। শচীন এবং দ্রাবিড়ের মতো তারকাদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল শেখার অন্যতম মাধ্যম। কী ভাবে ব্যাট করতে হয়, কীভাবে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়, কী ভাবে চাপের মধ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয় -ক্রিকেটের এই বিষয়গুলি বুঝতে শুরু করেন তিনি খেলা দেখতে দেখতেই।
কর্নাটকের এই অলরাউন্ডার এখন পেশাদার ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে চান। ২২ বছর বয়সেই নিজের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। দলের মধ্যে নিজের ভূমিকা কী, কোন জায়গাগুলিতে আরও উন্নতি করা প্রয়োজন, সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। শুধু প্রতিভার উপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চান না মনবন্ত। বরং নিয়মিত অনুশীলন, নিজের খেলার বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে পরের ধাপে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। আইপিএলে মনবন্ত খেলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলে। গতবারই ভাল বোলিং করার জন্য বিরাট কোহলির থেকে পেয়েছেন তাঁর সই করা জার্সি।
তাঁর ক্রিকেটজীবনে কোচদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইয়েরে গৌড় এবং বিনয় কুমারের মতো কোচদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁর ক্রিকেটীয় বিকাশে সাহায্য করেছে। ক্রিকেটে শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না, সেই প্রতিভাকে সঠিক পথে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা। কোচদের পরামর্শ মেনে নিজের খেলার বিভিন্ন দিক উন্নত করার চেষ্টা করছেন মনবন্ত।
এক জন অলরাউন্ডারের কাছে ব্যাটিং এবং বোলিং - দু’টি বিভাগেই অবদান রাখার প্রত্যাশা থাকে। ফলে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং অনুশীলনের চাপ সামলানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনবন্তের ক্রিকেটজীবনে সেই বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পেশাদার ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে শরীরকে সতেজ রাখা, অনুশীলন ও ম্যাচের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং চোটের ঝুঁকি কমানোর দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। তবে ক্রিকেটের বাইরেও তাঁর নিজস্ব জগৎ রয়েছে। অ্যানিমেশন দেখার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে এই তরুণ ক্রিকেটারের। মাঠের ব্যস্ততা এবং ক্রিকেটের চাপের বাইরে নিজের পছন্দের বিষয়গুলির জন্য সময় বের করাও তাঁর জীবনযাত্রার অংশ।
শচীন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের খেলা দেখে যে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসার শুরু, সেই খেলাতেই এখন নিজের পরিচিতি তৈরি করতে চান মনবন্ত। সামনে দীর্ঘ পথ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আরও বড় মঞ্চে পৌঁছানোই তাঁর লক্ষ্য। প্রতিভা, পরিশ্রম এবং নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা -এই তিনটি বিষয়কে সঙ্গী করেই এগোতে চান কর্নাটকের এই তরুণ অলরাউন্ডার।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
