

আপনার পছন্দের লাল গ্রেভিতে কোন বিষ মিশে? ছবি: Google
জানুন artificial food color chicken gravy সংক্রান্ত গোপন তথ্য। রেস্তোরাঁর চিকেন ও মটন কারিতে ব্যবহৃত লাল রঙের আড়ালে রোডারমিন-বি কেমিক্যালের চরম ঝুঁকি।
রেস্তোরাঁর ধোঁয়া ওঠা গাঢ় লাল রঙের চিকেন চাঁপ কিংবা লাল লাল-ঝাল ঝাল হরেক মাংসের পদের গ্রেভি দেখলে জিভে জল আসতে বাধ্য। অনেকেই ভাবেন, কাশ্মীরি লঙ্কা বা পাকা টমেটোর ব্যবহারের কারণেই এই উজ্জ্বল রক্তিম আভা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অনেকটাই ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। এই ধরনের গ্রেভিতে কী কী মেশানো হয় জানেন? সমীক্ষা বলছে, রেস্তোরাঁ ও রাস্তার ধারের ধাবাগুলোতে কম খরচে খাবারকে চটকদার করে তুলতে দেদার ব্যবহার হচ্ছে বিষাক্ত সিন্থেটিক রঞ্জক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় উঠে আসছে artificial food color chicken gravy ব্যবহারের বিপজ্জনক দিক। প্লেটের এই লোভনীয় রঙের আড়ালে ঠিক কোন কোন রাসায়নিক শরীরে ঢুকছে?
খাবারে ব্যবহারযোগ্য অনুমোদিত রঙের একটি নির্দিষ্ট সরকারি মাত্রা ও তালিকা রয়েছে। তবে সেই অনুমোদিত ফুড কালারের দাম সাধারণ রাসায়নিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
মুনাফা বাড়াতে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী খাবারে সরাসরি টেক্সটাইল ডাই বা কাপড়ে দেওয়ার রঙ মিশিয়ে দেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক রাসায়নিকটি হল ‘রোডারমিন-বি’ (Rhodamine B)।
রোডারমিন-বি মূলত চামড়া শিল্প, পোশাকের রঙ কিংবা ছাপাখানায় কাগজের ডাই হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই কেমিক্যালটি শরীরে প্রবেশ করলে তা লিভার ও কিডনির কোষে স্থায়ী ক্ষতি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) রোডারমিন-বি-কে সম্ভাব্য কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। খাবারে এই উপাদান দীর্ঘ দিন গ্রহণ করলে মূত্রথলি ও পাকস্থলীর মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শুধু রোডারমিন-বি নয়, অনুমোদনহীনভাবে খাবারে মেশানো হয় আরও একাধিক সিন্থেটিক লাল ও হলুদ রঙের ডাই:
খাবারের সঠিক মান ও ভেজাল চিহ্নিত করতে পড়ুন আমাদের খাবারে ভেজাল চিহ্নিত করার সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি এবং পেটের পুরনো প্রদাহ ও গ্যাস্ট্রিক কমানোর ডায়েট।

খাবারের রঙ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে এসেছে নাকি ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি, তা সামান্য লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়:
ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা FSSAI-এর স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ধরণের রান্না করা আমিষ খাবারে (যেমন চিকেন কারি, বিরিয়ানি বা তন্দুরি আইটেম) সিন্থেটিক ফুড কালার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খাবারে শুধুমাত্র মিষ্টি, পেস্ট্রি বা সিলড কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় অনুমোদিত ফুড কালার ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া রয়েছে।
তা সত্ত্বেও নজরদারির অভাবে বিভিন্ন ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও স্ট্রিট ফুড কর্নারে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দেশের একাধিক রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে রেস্তোরাঁর গ্রেভি ও গোবি মাঞ্চুরিয়ানে রোডারমিন-বি-র মতো বিষাক্ত উপাদানের প্রমাণ মেলার পর একাধিক জায়গায় কঠোর জরিমানা করা হয়েছে।
বাইরে খাওয়ার সময় খাবারের বাহ্যিক চটক দেখে বিভ্রান্ত হওয়া বন্ধ করতে হবে। কোনও রেস্তোরাঁর চিকেন টিক্কার টুকরো অতিরিক্ত লাল বা গোলাপি দেখালে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অর্ডার দেওয়ার সময় ওয়েটার বা শেফকে স্পষ্ট জানিয়ে দিন যে খাবারে কোনও কৃত্রিম রঙ বরদাস্ত করা হবে না। রেস্তোরাঁ মালিকদেরও বোঝা দরকার যে খাবারের স্বাদ নির্ভর করে মশলার সঠিক অনুপাত ও রান্নার ধৈর্যের ওপর, সস্তা কেমিক্যালের রঙের ওপর নয়। রঙচঙে মোড়কের লোভ সামলে সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াই আজকের দিনে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
