৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

টুটু বসু নেই! মোহনবাগান হারাল ‘আসল রত্ন’কে

টুটু বসু নেই! মোহনবাগান হারাল ‘আসল রত্ন’কে

tutu-basu-passes-away-

টুটু বসু নেই! মোহনবাগান হারাল ‘আসল রত্ন’কে

নিভল মোহনবাগান তাঁবুর আলো

মঙ্গল রাত বারোটায় নিভল মোহনবাগান তাঁবুর আলো। বেলভিউ নার্সিংহোমে চোখ বুজলেন কিংবদন্তি ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বসু। এই কিছুদিন আগে ৮০ বছর জন্মদিনে তিনি বলেছিলেন, আমি উপরে গেলেও মোহনবাগান লাইফ মেম্বার হিসেবে থাকব। কেউ আমার সদস্যপদ কেড়ে নিতে পারবে না। অনেকদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতটাই মনের জোর ছিল, প্রায়ই বলতেন, একটু সুস্থ হলেই ক্লাবের খেলা দেখতে চলে যাব। কী আশ্চর্য্য, মঙ্গলবারও যুবভারতীতে মোহনবাগানের আইএসএলের ম্যাচ ছিল। দল পয়েন্ট নষ্ট করল। আর ক্লাবের বড় অভিভাবক পয়েন্ট খোয়ালেন ঈশ্বরের কাছে। শেষ বিদায়ের দিনে দলের জয়ের খবর শুনে যেতে পারলেন না। এটাই হয়তো নিয়তি, এটাই আরও এক করুণ ট্র্যাজেডি।

টুটু বসু এক মহাকাব্যের নাম

টুটু বসু হলেন মোহনবাগান ক্লাবের আসল রত্ন। তিনি ছিলেন ক্লাবের এক বড় সন্তান। তিনি বলতেন আমার দুজন মা। একজন নিজের গর্ভধারিণী, অন্যজন হল মোহনবাগান ক্লাব। তিনি প্রথম ক্লাবে আসেন হাফ প্যান্ট পরে। সেইসময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন আরও এক ক্লাবের কৃতি সন্তান অঞ্জন মিত্র। দুই বন্ধু মিলে রামপার্ট খেলা দেখতেন। দল প্রায় প্রতি ম্যাচে হেরে যেত, দুজনে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতেন। একদিন টুটু বসু বন্ধু অঞ্জনকে জানালেন, একদিন যদি আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে নাম করি, সেদিন মোহনবাগানের এমন টিম বানাব, দেখবি সব ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ব।

টুটু ম্যাজিক শুরু নব্বই দশকে

দেজ মেডিকেলের কর্ণধার ধীরেন দে মোহনবাগান ক্লাবের সচিব পদে থেকে প্রয়াত হওয়ার পরে সেই চেয়ারে বসেন টুটু। সেটা ১৯৯১ সাল। দলে নিয়ে এলেন বিদেশী তারকা চিমা ওকোরিকে। সেই শুরু, তারপর সই করালেন কৃষাণু দে এবং বিকাশ পাজিকে। ইস্টবেঙ্গল থেকে ছিনিয়ে আনলেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। এরকম কত তারকাকে স্রেফ ভালবাসা দিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন। বাইচুং ভুটিয়া থেকে এই সেদিনের ব্যারেটো কিংবা সোনি নর্ডিকে সই করিয়ে চমক দিয়েছেন।

লাগে টাকা দেবে টুটু বসু

লাগে টাকা দেবে গৌরি সেন - এই প্রবাদ কলকাতা ময়দানে পালটে দিয়েছিলেন এই নামী ক্রীড়া প্রশাসক। বলা হতো, লাগে টাকা দেবে টুটু বসু। তিনি নিজে বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর জাহাজের ব্যবসা। দুবাইতে তাঁর অফিস। একবছর আগেও দুবাই - কলকাতা করতেন তিনি। তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম মিথ হয়ে রয়েছে। কিন্তু টুটু বসুর বড় একটা মন ছিল। আর ক্লাবের প্রতি নিবিড় ভালবাসা থেকে তিনি নির্বিচারে টাকা দিয়ে গেছেন দলগঠনের সময়। একটা সময় ক্লাবের এক কোটি টাকা জরিমানার টাকাও তিনি দিয়েছিলেন। যতবার ক্লাবের অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, টুটু টাকা নিয়ে হাজির ক্লাবে। তাঁর হাঙ্গার ফোর্ড স্ট্রিটের বাড়িতে কর্তাদের আনাগোনা লেগেই থাকতো। আর অবারিত দ্বার ছিল যে কোনও ফুটবলারদের। তিনি সকলের অভিভাবক ছিলেন। একজন ক্রীড়া কর্তা হিসেবে ক্লাবের অমূল্য মোহনবাগান রত্ন তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল। সেদিন বলেছিলেন, আমার জীবন আজ সার্থক। আমি এবার মরেও শান্তি পাবো। আজ আমার বাচ্চার মতো অনুভূতি হচ্ছে।

রেখে গেলেন যোগ্য উত্তরসূরীকে

টুটু বসু ব্যক্তিগত জীবনে একা হয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে। কিন্তু ভরা সংসারে ছিলেন তাঁর দুই পুত্র সৃঞ্জয় এবং সৌমিক। তাঁদের স্ত্রীরা এবং নাতি নাতনিদের ভালবাসার পরশে। তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে সৃঞ্জয় বসু বাবার একেবারে জেরক্স কপি। বাবার মতোই তাঁরও সিংহ হৃদয়। কারোর বিপদে সৃঞ্জয় ওরফে টুম্পাই সবার আগে এগিয়ে আসেন ঠিক বাবার মতোই। বড় ছেলেকে ক্লাবের সচিব পদে বসিয়ে বিখ্যাত বাবা চলে গেলেন বন্ধু অঞ্জনের সঙ্গে অমৃতলোকে মোহনবাগানের সর্বকালের সেরা টিম বানাতে। সেখানেও ওই জুটি সফল হবেন, বলাই যায়।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য