৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

টুটু বসু নিয়ে স্মৃতিচারণ উত্তম মুখার্জির, ১০ হাজার টাকার মিষ্টি খেতে দিয়েছিলেন!

টুটু বসু নিয়ে স্মৃতিচারণ উত্তম মুখার্জির, ১০ হাজার টাকার মিষ্টি খেতে দিয়েছিলেন!

tutu basu-uttam mukherjee-

টুটু বসু নিয়ে স্মৃতিচারণ উত্তম মুখার্জির, ১০ হাজার টাকার মিষ্টি খেতে দিয়েছিলেন!

অন্তরালে থাকা এক প্রাক্তন

কলকাতা ময়দানে কিছু প্রাক্তন ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা স্বেচ্ছা অন্তরালে থাকতে ভালবাসেন। তাঁরা নিজেদের একটা জগৎ বানিয়ে রেখেছেন। হয়তো ফোনে যোগাযোগ রাখেন তাঁর সতীর্থ তারকাদের সঙ্গে, কিংবা তাঁর সিনিয়রদের সঙ্গেও।

দুই ক্লাবের নজরে ছিলেন উত্তম

উত্তম মুখার্জি এমনই একজন নামী প্রাক্তন তারকা, যিনি টানা কলকাতার নামী দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দলের সদস্য ছিলেন। এমনকী ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন চীনে এশিয়ান ক্লাব কাপ, সাফ গেমস ও জাতীয় দলের জার্সি পরে গিয়েছেন আবুধাবিতেও। সেখানেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কোন্নগরবাসী এই লেফট আউট। দুই ক্লাবের নজরে ছিলেন তিনি। উত্তমের জন্য দুই ক্লাবের কর্তাদের অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে।

ব্যথিত শেষ যাত্রায় যেতে পারেননি বলে

উত্তম মুখার্জি প্রতিদিনই কখনও বাড়িতে টিভি দেখে, কিংবা মোবাইল দেখে রাত করেই শুতে যান। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়েছিলেন। কারণ বুধবার সকালে তাঁর বর্ধমান যাওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন

টুটু বসু নেই! মোহনবাগান হারাল ‘আসল রত্ন’কে

সেই ঘটনা নিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল উত্তমের। বলছিলেন, রাতে আরও একটু জাগলে হয়তো টুটু দার মৃত্যুর খবরটি জেনে যেতাম। তাহলে আর সকালে বর্ধমান না গিয়ে মোহনবাগান মাঠে টুটু দাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতে পারতাম। এত বড় একজন কর্মকর্তা আমি খুব কম দেখেছি।

১০ হাজার টাকার মিষ্টি!

১৯৮৯ সালে মহামেডান স্পোর্টিংয়ে ভাল খেলার পরেই মোহনবাগান আমাকে টার্গেট করেছিল। আমি প্রথমে সেটা বুঝতে পারিনি। তখন আমি কোল ইন্ডিয়াতে চাকরি পেয়ে গিয়েছিলাম। একদিন মাঠেই প্র্যাকটিস শেষে বীরু দা ( চ্যাটার্জি) আমাকে ডেকে জানালেন, চল উত্তম তোকে আজ টুটু দার বাড়ি নিয়ে যাব। আমি তার আগে টুটু দার কথা শুনেছিলাম, কিন্তু তাঁর সঙ্গে চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি। তখন টুটুদা হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। বীরু দার সঙ্গে দুপুরে যেতে দেখলাম, টুটুদা সেইসময় ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন। গিয়ে বীরুদা আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। জানালেন, 'টুটুদা তোমার সঙ্গে আজ উত্তম দেখা করতে এসেছে।' টুটুদা আমাকে বসতে বলে জানালেন, আজ উত্তম আমার বাড়িতে প্রথম এল, কিন্তু আমার বাড়িতে তো মিষ্টি নেই। বীরু বাড়ির ভেতরে গিয়ে তোর বৌদিকে ( টুটুদার স্ত্রী ) বলতো দশ হাজার টাকা দিতে। আমি তো ওই কথা শুনে অবাক। সেইসময় দশ হাজার টাকার অনেক মূল্য। আমি তো অবাক, এতগুলো টাকা আমাকে দিচ্ছে। টুটু দা বললেন, উত্তম নে, তুই ভাবিস না এটা দিয়ে তোকে আগামী মরশুমের জন্য অগ্রিম দিয়ে রাখছি। তুই আমার বাড়িতে প্রথম এলি, এই টাকায় মিষ্টি কিনে খাবি, বুঝলি! আমি নেব কী নেব না এটা ভাবছি, বীরু দা বললেন, 'নিয়ে নে উত্তম, টুটুদা এমনই মানুষ রে।'

যেদিন কথা বললেন মোহনবাগানে খেলার জন্য

ওই সাক্ষাতের ঠিক তিন মাস বাদে আবারও গেলাম টুটুদার ওই বাড়িতে। সেদিন আমি যেতেই জানালেন, উত্তম আজ তোর সঙ্গে ফুটবল নিয়ে কথা বলব। তুই কি সামনের বার মোহনবাগানে খেলবি? আমরা সবাই তাই চাইছি। তোর টাকা পয়সা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। ১৯৯০ সালে আমি টুটু দার কথাতেই মোহনবাগানে সই করলাম। সেবছর আমাদের দারুণ দল। সাফল্যও পেলাম আমরা।

তিনদিন বন্দি ছিলাম টুটু দার বাড়িতে

টুটু বসু ও অঞ্জন মিত্র কত বড়মাপের দুই কর্তা সেদিন আমি বুঝেছিলাম। তখন কোনও মোবাইল ছিল না, অথচ মাঠের কর্তাদের নেটওয়ার্ক ছিল অভূতপূর্ব। আমি এবং সত্য ( সত্যজিৎ চ্যাটার্জি) তিনদিন টুটু দার বাড়িতে প্রায় বন্দি ছিলাম। আমাদের আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি ছিল না। যেহেতু ইস্টবেঙ্গলের নজর এড়িয়ে আমাদের সই করানো হবে মোহনবাগানে, তাই এমন পন্থা নিয়েছিলেন টুটু দা - অঞ্জন দারা। কিন্তু আমি তার মধ্যে একবেলা ম্যানেজ করে কোন্নগরের বাড়িতে এসে দেখি আমাকে তুলতে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা হাজির। সে কী কান্ড। আমি তো ভেবেছিলাম যে সেবার ইস্টবেঙ্গলেই খেলতে হবে। তার মধ্যে আবার টুটু দা আমার বাড়িতে বীরু দাকেও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমি এবং আমার দাদা যতই বলি, আমি মোহনবাগানকে কথা দিয়ে দিয়েছি। ইস্টবেঙ্গল শুনবেই না। শেষমেশ, আমাদের এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুঝিয়ে ক্লাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য