

চা বনাম কফি — দুই জেনারেশন। ছবি:AI
কাচের গ্লাসের কড়া চা ছেড়ে কলকাতার তরুণরা এখন মজেছে চিকমাগালুর আর আরাকুর সিঙ্গেল অরিজিন কফিতে।
কফি? না না! দিনের শুরুটাও ছিল চায়ে, শেষটাও। মর্নিং ওয়াক সেরে বাঙালির জমায়েত হতো সেই চায়ের ঠেকেই। আবার সন্ধে নামলেই পাড়ার মোড়, রকের কোণ কিংবা ভাঙাচোরা কাঠের বেঞ্চ। ধোঁয়া ওঠা মাটির ভাঁড় হাতে নিয়ে বিশ্বরাজনীতি থেকে পাড়ার ফুটবল—চায়ের কাপে তুফান তুলে আড্ডা না দিলে বাঙালির দিনটাই যেন পূর্ণতা পেত না।
এতদিন ছবিটা এমনই ছিল। এক কাপ চা শেষ হয়ে গেলেও তর্কের ঝাঁঝ যেখানে ফুরোয় না, সেখানে ‘দুটো হাফ করিস তো’ বলে আড্ডার মেয়াদ আরও আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে নেওয়াটাই এই শহরের চিরন্তন দস্তুর। সেই অফুরন্ত তর্কের জ্বালানি আর আড্ডার শতাব্দীপ্রাচীন অভ্যাসে কি এবার সত্যি চিড় ধরল? যে শহর গরম গরম চায়ের ভাঁড়ে বিপ্লব আর প্রেম দুটোই লালন করেছে, সেই কলকাতার নতুন প্রজন্ম এখন কোন জাদুতে মাটির ঠেক ছেড়ে কাচঘেরা ঘরের কোল্ড ব্রু আর অ্যারোপ্রেসে মজেছে?
দৃশ্যপট কিন্তু দ্রুত বদলাচ্ছে। শহরের এক বড় অংশের তরুণ প্রজন্ম এখন আর ফুটপাথের ফুটন্ত পাতা-চায়ে আটকে নেই। তাদের টেবিলে এখন জায়গা করে নিচ্ছে কাচঘেরা ‘ভি৬০ ড্রিপার’ (V60 Dripper), চাপ দিয়ে ব্রু করা ‘অ্যারোপ্রেস’ (Aeropress) কিংবা ঠান্ডা বরফে বারো ঘণ্টা ধরে তৈরি হওয়া ধীরস্থির ‘কোল্ড ব্রু’।
কলকাতায় নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে ‘থার্ড ওয়েভ কফি’ (Third Wave Coffee) আর ‘স্পেশাল্টি কফি’র (Specialty Coffee) এই নতুন উন্মাদনা।

কলকাতায় কফি সংস্কৃতি নতুন নয়। কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের ইনফিউশন থেকে শুরু করে সাউথের পুরনো কফি ডে—দুটোই শহর দেখেছে। তবে সেগুলো ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের কফি, যেখানে অতিরিক্ত চিনি আর ঘন দুধের চাদরে কফির নিজস্ব চরিত্রটাই ঢাকা পড়ে যেত।
স্পেশাল্টি কফি সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে:
কফি কালচারের এই রেনেসাঁ শহরের মানচিত্রে নতুন হটস্পট তৈরি করেছে।

বাড়ি থেকে কাজ (Work from Home) আর হাইব্রিড কালচার কলকাতার কফি শপগুলোকে নতুন জীবন দিয়েছে:
প্রশ্নটা উঠতেই পারে—স্পেশাল্টি কফির এই গ্ল্যামার কি কলকাতার শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ‘চা’ সংস্কৃতিকে গিলে ফেলবে? বাস্তবতা হল, কলকাতা এত সহজে তার শেকড় ভোলে না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
