২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
আটা-ময়দা ছেড়ে এই রুটি কি সত্যিই মেদ কমায়?

আটা-ময়দা ছেড়ে এই রুটি কি সত্যিই মেদ কমায়? ছবি-AI

আটা-ময়দা ছেড়ে এই রুটি কি সত্যিই মেদ কমায়?

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

মিলেটের রুটিতে কি পেটের মেদ কমে?

হঠাৎ কেন ট্রেন্ডে জোয়ার আর বাজরার রুটি? জেনে নিন কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও ফাইবারে সমৃদ্ধ মিলেট পেটের ভিসেরাল ফ্যাট কমাতে কতটা কার্যকর।

মূল বিষয়

ডায়েট চার্ট থেকে গম ও চাল বাদ দেওয়ার হিড়িক এখন সর্বত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যায় জোয়ার, বাজরা আর রাগির রুটির জয়জয়কার। ফিটনেস সচেতন মানুষদের ডাইনিং টেবিলে সাধারণ গমের আটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে মেলেটে। অনেকেই মনে করছেন, মিলেট খেলেই পেটের দীর্ঘদিনের পুরনো মেদ জাদুর মতো গলে যাবে। তবে খাদ্যবিজ্ঞানের সমীকরণ কিন্তু এতটা সরল নয়। আজকের দিনে স্বাস্থ্যসচেতন মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চিত প্রশ্ন হল millet roti belly fat loss। জোয়ার বা মিলেটের রুটি কি সত্যিই পেটের বাড়তি মেদ ঝরাতে সরাসরি সাহায্য করে?

গমের আটার চেয়ে জোয়ার ও মিলেট কেন এগিয়ে?

মিলেটকে প্রাচীন সুপারফুড বলা হয়। সাধারণ গমের আটায় গ্লুটেন থাকে। এর ফলে অনেকের পেট ফাঁপা বা বদহজমের সমস্যা তৈরি হয়।

তবে জোয়ার বা বাজরা সম্পূর্ণ গ্লুটেন-মুক্ত শস্য। এতে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এর ফলে খাবার খাওয়ার পর তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ জমা থাকে। পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকলে ঘন ঘন উল্টোপাল্টা স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। সেই কারণে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা আপনা থেকেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তাছাড়া মিলেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) সাধারণ সাদা আটা বা চালের চেয়ে অনেক কম। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। শরীর তখন অতিরিক্ত গ্লুকোজকে চর্বি হিসেবে জমিয়ে রাখার সুযোগ পায় না।

মেদ কমার আসল বিজ্ঞান

পেটের মেদ বা ভিসেরাল ফ্যাট জমা হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে ইনসুলিন হরমোন। যখনই রক্তে ইনসুলিনের স্পাইক হয়, শরীর তখন ফ্যাট স্টোরেজ মোডে চলে যায়।

মিলেট এই ইনসুলিন স্পাইক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে শরীরে ফ্যাট বার্নিং বা চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। তাছাড়া জোয়ার ও রাগিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বিপাক হার বাড়াতে সাহায্য করে। বিপাক হার ভালো থাকলে মেদ দ্রুত ঝরে।

তবে মনে রাখা জরুরি, কোনও খাবারই এককভাবে চর্বি গলিয়ে দিতে পারে না। মেদ ঝরাতে চাইলে সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় ক্যালোরি ডেফিসিট বজায় রাখতেই হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পড়ুন আমাদের ওজন কমানোর সঠিক ডায়েট চার্ট তৈরির নিয়মাবলী এবং মেটাবলিজম বাড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট ঝরানোর উপায়।

আরও পড়ুন
ছানা কাটানোই ছিল ‘পাপ’! বাঙালির মিষ্টি-বিপ্লবের অজানা গপ্পো
দিনে কত কাপ চা-কফি নিরাপদ? কিডনি বাঁচাতে জানুন!
রেস্তোরাঁর ‘লাল লাল-ঝাল ঝাল’ গ্রেভিতে আসলে কী মেশানো জানেন?

চিত্র ২: millet roti belly fat loss এবং বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত শস্যের পুষ্টিগুণ।

খাওয়ার সঠিক নিয়ম না মানলে উল্টো বিপত্তি

মিলেট দারুণ স্বাস্থ্যকর শস্য হলেও তা অতিরিক্ত খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মাথায় না রাখলে পেটের সমস্যা দেখা দেবে:

  • হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য: মিলেটে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে। এর ফলে শুরুতে বেশি খেলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সুতরাং মিলেট খেলে সারাদিনে প্রচুর জল পান করা আবশ্যক।
  • থাইরয়েডের রোগীদের সতর্কতা: বাজরা ও কিছু নির্দিষ্ট মিলেটে গয়ট্রোজেনিক উপাদান থাকে। ফলে যাঁদের হাইপোথাইরয়েডিজম রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রতিদিন জোয়ার-বাজরা খাওয়া উচিত নয়।
  • পরিমিতিবোধের অভাব: মিলেট স্বাস্থ্যকর বলেই একসঙ্গে চার-পাঁচটি রুটি খাওয়া চলবে না। খাবারে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে গেলে পেটের মেদ কখনোই কমবে না।

দিনে কতগুলি রুটি খাবেন এবং কার জন্য সেরা?

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে দুই থেকে তিনটি জোয়ার বা মিলেটের রুটি যথেষ্ট। এর সাথে প্রচুর সবুজ সবজি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন যুক্ত সালাদ রাখা জরুরি।

যাঁরা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, পিসিওডি (PCOD) বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য মিলেট অত্যন্ত কার্যকর পথ্য। কারণ এটি শরীরে ইনসুলিন রেজিসট্যান্স কমাতে সরাসরি সহায়তা করে। তবে যাঁদের পেটের রোগ বা আইবিএস (IBS) রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে ডায়েটে মিলেট যোগ করা উচিত।

সচেতন পুষ্টিতেই মেদহীন শরীরের চাবিকাঠি

জোয়ার বা বাজরার রুটি নিঃসন্দেহে সাদা ভাত বা আটার রুটির চেয়ে পুষ্টিগুণে অনেক এগিয়ে। তবে এটি কোনও ম্যাজিক পিল নয় যে খেলেই পেটের সব চর্বি রাতারাতি উধাও হয়ে যাবে। পেটের মেদ ঝরাতে পরিমিত আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং গভীর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিনের পাতে জোয়ারের রুটি রাখুন, প্রচুর জল পান করুন এবং অতিরিক্ত তেলের পদ বর্জন করুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তার মেলবন্ধন ঘটালেই তবেই দ্রুত পেটের মেদ কমিয়ে সুস্থ জীবন পাওয়া সম্ভব।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য