

এমবাপের সঙ্গে গোল উৎসব দেম্বেলের। ছবি - Google.
২৭শে জুন, ২০২৬
খেলা থেকে মাঝেমধ্যেই হারিয়ে যান। আবার যখন ফিরে আসেন, তখন বাকিদের তাঁর কাছে নগন্য মনে হয়। উসমান দেম্বেলে সম্পর্কে ফরাসী শিবিরে এই কথাটি খুবই প্রযোজ্য।
দেম্বেলে শেষবার ব্যালন ডি’অরজয়ী। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এটাই ছিল তাঁর বড় পরিচয়। কিন্তু অনেকেই সেটি ভুলে গিয়েছিলেন। মহাতারকাদের নামে জয়গান সর্বত্রই হয়, কিন্তু তাঁদের আলোয় ঢাকা পড়ে যাওয়া উপেক্ষিতরাও একেকটা দিন সূর্যের মতো আলো দেন।
লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ডরা গোলের পর গোল করছেন, আর ফিফার বিচারে শেষবার সর্বসেরা আচমকা বেপাত্তা হয়ে গেলে হবে? দেম্বেলের সমালোচকরা বলে থাকেন, তিনি এই আছেন, এই নেই! আর আসল টুর্নামেন্টে দেম্বেলে নার্ভ রাখতে পারেন না। কথাটি যে ঠিক নয়, সেটি তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও বুঝিয়েছিলেন। এমবাপ্পে ও দেম্বেলে আর্জেন্টিনার নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছিল।
গ্রুপ পর্বে ইরাক ম্যাচের আগে বিশ্বকাপ–ইউরো মিলিয়ে ১৯টি ম্যাচে দেম্বেলের গোল ছিল না। ফ্রান্সের জার্সিতে দেম্বেলে যেন ছিলেন ড্রাই সামার (গ্রীস্মকালীন খরা)। নরওয়ে ম্যাচে ফ্রান্সের স্ট্রাইকারের ফর্মে যেন ফ্রান্সে চিরবসন্ত।
সমালোচকরা যাই বলুন, নরওয়ে ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় থিয়েরি অঁরি ও জার্মানির অলিভার কান পরিষ্কার জানিয়েছেন, দেম্বেলেকে জাতীয় দলে সেই সম্মানটা দেওয়া হয় না, যা তিনি পেতে পারেন। অঁরি জানিয়েছেন, ‘‘দেম্বেলের ‘ভার্সেটিলিটি’ - গতি, ড্রিবলিং, শৈলীতে নরওয়ের বিরুদ্ধে বোস্টনে দেম্বেলে যে ‘মাস্টারপিস’ এঁকেছেন, তাঁর শিরোনাম হতে পারে, ‘জীবন শুধু গ্রীষ্মে ও বর্ষাতেই সুন্দর নয়, সেটি বসন্ততে আরো সুন্দর হয়।’’ মাত্র ৩২ মিনিটে আঁকা সেই ‘মাস্টারপিস’ দেখে ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি যেমন বলেছেন, ‘গ্রেট ফুটবলাররা মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন না, তাঁরা মুহূর্ত তৈরিও করেন। দক্ষ ফুটবলার ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মধ্যে এটাই বড় পার্থক্য।’ তাঁরা এও বলেছেন, ‘লাইক আ মাস্টার আর্টওয়ার্ক।’
দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিক নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে। এমবাপ্পেকে ঢেকে দিয়ে তাঁর গোল করার দক্ষতা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রিয়ার স্ট্রাইকার এরিক প্রবোস্ত। সে হিসাবে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপে গত ৭২ বছরের মধ্যে দ্রুততম।
দেম্বেলের রেকর্ড নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। নরওয়ে ম্যাচের পরে তাঁর কথা শুনলে অবাক হতে হয়, ‘‘ভাল লাগছে দলকে জেতাতে পেরে। আমার জন্য বিশেষ মুহূর্ত। তবে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে নিজের পারফরম্যান্সই বেশি পছন্দ। আমার প্রভাব সেই ম্যাচগুলিতে অনেক বেশি ছিল।’’
এই কথাতেই বোঝা গিয়েছে তাঁর অভিমান। ২৯ বছর বয়সী তারকাকে গত দুই ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া যায়নি, এই নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু কথাটি যে সঠিক নয়, সেটি হ্যাটট্রিকের দিনও মিডিয়াকে মনে করালেন ফ্রান্সের অভিজ্ঞ নায়ক।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
