৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

অজুহাত নয়, কাজ চাই! চেয়ারে বসেই কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: শপথের ৪৮ ঘণ্টাও কাটেনি। আর তার মধ্যেই নবান্নে কার্যত ঝড় তুললেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার প্রথম কর্মদিবসেই একের পর এক ম্যারাথন বৈঠক, কড়া নির্দেশ এবং প্রশাসনের শিরায় শিরায় ‘অ্যাকশন মোড’-এর বার্তা পৌঁছে দিলেন তিনি। নবান্নের অন্দরমহলে এখন একটাই আলোচনা— “এবার আর ঢিলেমি চলবে না!”

সূত্রের খবর, প্রথম দিনেই অন্তত ৬টি বড় সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে আমলাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু— কাজ চাই, ফল চাই, অজুহাত নয়।

১) ফাইলবন্দি প্রশাসনের দিন শেষ!
দফতরে দফতরে জমে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জবাবদিহি করতে হবে আধিকারিকদের— এমনই কড়া বার্তা গিয়েছে নবান্ন থেকে।

২) রাজনৈতিক হিংসা ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ— “আইন নিজের পথে চলবে।” রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে প্রশাসনিক সূত্রে।

৩) সীমান্তে কড়া নজর, অনুপ্রবেশ রুখতেই বিশেষ পরিকল্পনা
উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে বিশেষ নজরে রাখতে বলা হয়েছে। বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

৪) কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আর ‘স্লো মোশন’ নয়
আবাস থেকে সড়ক— দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রিপোর্ট তলব করেছেন শুভেন্দু। দ্রুত কাজ শেষ করার ডেডলাইনও বেঁধে দেওয়া হতে পারে বলে খবর।

৫) দুর্নীতির ফাইল খুলতেই কাঁপছে আমলাতন্ত্র!
সরকারি দফতরে আর্থিক লেনদেন ও নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ গিয়েছে। অভিযোগ পেলে সরাসরি তদন্ত— এমন বার্তায় অস্বস্তি বেড়েছে একাংশের।

৬) ‘জনতার সরকার’ ইমেজ গড়তে নতুন ব্লুপ্রিন্ট
সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনার জন্য আলাদা মনিটরিং সিস্টেম তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। নবান্নকে আরও ‘পাবলিক ফ্রেন্ডলি’ করার কথাও বলেছেন তিনি।
প্রথম দিনেই শুভেন্দুর এই আগ্রাসী প্রশাসনিক মেজাজে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, নতুন সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইছে— “ক্ষমতা বদল শুধু চেয়ার বদল নয়, খোলনলচে বদলাবে প্রশাসনের গয়ংগচ্ছ মনোভাবও”!

‘আনফলো’ মমতা-অভিষেক! বদলের ইঙ্গিত কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডলে, প্রশাসনিক অন্দরেই জোর চর্চা

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বদলের ইঙ্গিত মিলছিলই। মহাকরণের আলো বদলেছে, বদলেছে সরকারি অনুষ্ঠানের রং-রূপ। এ বার সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট দেখা গেল কলকাতা পুলিশের সরকারি সমাজমাধ্যমের পাতাতেও। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করল কলকাতা পুলিশের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট। আর তা ঘিরেই প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আবহে সামনে আসে এই পরিবর্তনের ছবি। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট মোট ৪২টি অ্যাকাউন্ট ‘ফলো’ করছে। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সরকারি হ্যান্ডল এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই তালিকায় আর নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি নিছক ‘সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট’ নয়, বরং প্রশাসনিক আনুগত্যের পরিবর্তিত সমীকরণের প্রকাশ্য প্রতিফলন। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুলিশের সরকারি সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুসরণ করার বিষয়টি ছিল প্রায় অলিখিত রীতি। সরকার বদলের সঙ্গে সেই তালিকার বদল প্রশাসনিক স্তরে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মত অনেকের।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স হ্যান্ডল এবং ফেসবুক পেজে তাঁর পরিচয়ে লেখা ছিল ‘Chief Minister of West Bengal’। যদিও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত বদলে যেতে শুরু করেছে তাঁর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রোটোকলের চিত্র।

ফল প্রকাশের পরের দিনই কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বহু দিনের কড়া নিরাপত্তা বলয়। তুলে নেওয়া হয় ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’। আগে যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে যাওয়া রাস্তায় ছিল কড়া নজরদারি, পরিচয়পত্র পরীক্ষা, এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ বিধিনিষেধ, এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গিয়েছে। লালবাজার সূত্রে পরে জানানো হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোটোকল অনুযায়ী যতটা নিরাপত্তা প্রাপ্য, ততটাই দেওয়া হবে মমতাকে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা আর থাকবে না।

একই ছবি দেখা গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক দফতরের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে পুলিশি প্রহরা। শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়ি থেকেও সরানো হয়েছে নিরাপত্তা স্ক্যানার ও অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ব্যবস্থা।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে ‘আনফলো’-এর ঘটনা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তৃণমূলও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।

তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সংস্থার ডিজিটাল উপস্থিতি ও প্রোটোকলেও পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বাংলায় এই পদক্ষেপের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু রাজনীতির ময়দানেই নয়, ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও যে পালাবদলের ছাপ স্পষ্ট, কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডলের এই বদল যেন সেটাই আরও একবার সামনে এনে দিল।

দিল্লির ভরসায় শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কেন পিছিয়ে পড়লেন বাকিরা?

কলকাতা: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কলকাতায় দলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়— দিল্লির আস্থার নিরিখে তিনিই ছিলেন ‘নম্বর ওয়ান’ পছন্দ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দৌড়ে থাকা অন্য নেতারা কোথায় পিছিয়ে পড়লেন? আর কোন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গেলেন শুভেন্দু?

বিজেপির অন্দরমহলের মতে, সবচেয়ে বড় কারণ ‘গ্রাউন্ড কন্ট্রোল’। গত কয়েক বছরে বাংলায় তৃণমূল বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দুই। নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্য রাজনীতি— ধারাবাহিকভাবে তিনি শুধু আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন না, সংগঠনের ভিতও মজবুত করেছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান, বিধানসভায় সরব ভূমিকা এবং জেলা স্তরে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ— সব মিলিয়ে তিনি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন।

যে কারণে এ দিনের বৈঠকে অমিত শাহকে বলতে শোনা যায়, “মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নাম প্রথম থেকেই ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু দ্বিতীয় কোনও নাম আর আসেনি।”

দলের একাংশের মতে, শুভেন্দুর লড়াকু মনোভাব তো বটেই, সেই সঙ্গে বাড়তি সুবিধা ছিল তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিন মন্ত্রী ও সংগঠক হিসেবে কাজ করায় বাংলার আমলাতন্ত্র, গ্রামীণ সংগঠন এবং ভোট রাজনীতির বাস্তব সমীকরণ সম্পর্কে তাঁর ধারণা অন্যদের তুলনায় অনেক গভীর। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মনে করেছে, বাংলার মতো জটিল রাজনৈতিক রাজ্যে শুধু ‘হিন্দুত্বের মুখ’ নয়, প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতারই প্রয়োজন।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে থাকা বাকি নেতাদের ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও ঘাটতি থেকেই গিয়েছে। কেউ দিল্লির ঘনিষ্ঠ হলেও রাজ্য সংগঠনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। কেউ আবার টেলিভিশনের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও রাস্তায় আন্দোলনের রাজনীতিতে ধারাবাহিক ছিলেন না। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, কঠিন সময়ে যখন কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে, তখন মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুভেন্দুর মতো ধারাবাহিকতা অন্যদের মধ্যে দেখা যায়নি।

আরও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘উইনেবিলিটি ফ্যাক্টর’। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে শুভেন্দুই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক এবং কার্যকর মুখ। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য। সেই কারণেই দিল্লির শীর্ষনেতারা মনে করেছেন, সরকার গঠনের পর প্রশাসন চালানো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক লড়াই— দু’দিক সামলানোর ক্ষমতা শুভেন্দুর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিজেপির মতো দলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেই পরীক্ষায় শুভেন্দু যে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন, তা অমিত শাহের ঘোষণাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

অভিনব স্মার্ট ওয়াচ আসছে, ১৩ দিনের ব্যাটারি ব্যাক আপ, জলে ভিজলেও সমস্যা নেই

আগ্রহের কেন্দ্রে স্মার্ট ওয়াচ

মোবাইল ফোনের মতো বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কাছে স্মার্ট ওয়াচ এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। একেকটি স্মার্ট ওয়াচে একেকরকম ফিচারস রয়েছে। এই CMF Watch 3 ঘিরে আশার আলো রয়েছে নতুন প্রজন্মের কাছে। এই কোম্পানির আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক সেরেছেন। সেখানে তারা জানিয়েছেন, আমাদের এই স্মার্ট ওয়াচ এক দিশা দেখাবে। এর জিপিএস এত শক্তিশালী যে এই ঘড়ি মানুষের জীবনকে আরও সহজ করবে।

কাল থেকেই কেনা যাবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই প্রযুক্তি স্মার্ট ওয়াচ ভারতে পাওয়া যাবে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে। প্রথমে অনলাইনে অর্ডার করা যাবে। তারপর সেটি মার্কেটে পাঠানো হবে কোম্পানির তরফ থেকে। এর দামও নাগালের মধ্যেই, আট হাজার টাকায় পাওয়া যাবে এই বিশেষ হাত ঘড়ি।

CMF ওয়াচ 3. ছবি – Google

কী কী সুবিধা রয়েছে

এই স্মার্ট ওয়াচ হাতে পড়লে বহু সুবিধা পাওয়া যাবে। এমনিতেই স্মার্ট ওয়াচে জল লাগলে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজলে খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু CMF Watch থ্রি প্রো জলে ভিজলেও কোনো অসুবিধে নেই। এই ঘড়ি অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে। পাশাপাশি ব্লু টুথ কলিং এমনকী ভিডিও, ফটো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওয়াচ ফেস স্টুডিও থাকবে। যাঁরা সাঁতারু তাঁরা সুইমিং করতে পারবেন এই ঘড়ি পরে। 

সব থেকে বড় সুবিধা হল, হেলথ চেক আপ করার ক্ষেত্রে এই স্মার্ট ওয়াচ বড় ভূমিকা নেবে। ব্লাড প্রেসার থেকে শুরু করে অক্সিজেন লেভেল পরিমাপের জন্য এই স্মার্ট ওয়াচ দারুণ কার্যকরী ভূমিকা নেবে। এই স্মার্ট ওয়াচ এমন প্রযুক্তি দিয়ে প্রস্তুত করা এতে একটি নিউজ বাটন থাকবে সেটি অন করলে সারা দিনের গুরুত্বপুর্ন খবর আপডেট দিতে থাকবে। আরও তাৎপর্যের বিষয়, এই ঘড়িতে থাকবে আগাম ভূমিকম্পের সঙ্কেত। অনেক আগে থেকেই এই স্মার্ট ওয়াচ সেই অ্যালার্ম দিতে থাকবে। 

মাত্র দেড় ঘণ্টায় ফুল চার্জ

এই স্মার্ট ওয়াচ মাত্র ৯০ মিনিটে ফুল চার্জ হয়ে যাবে। একবার চার্জ দিলে ১৩ দিন ব্যাটারি ব্যাক আপ থাকবে। মোট চারটি কালারের ঘড়ি আছে, লাইট গ্রিন, ডার্ক গ্রে, লাইট গ্রে এবং অরেঞ্জ কালারের।

বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে নতুন ভাইরাসের হানা: মাঝসমুদ্রে বন্দি ১৫০ প্রাণ, ঘনীভূত হচ্ছে আতঙ্ক

আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু হওয়া এক সুন্দর সফর এখন রূপ নিয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে গত রবিবার থেকে আটকে থাকা ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ (MV Hondius) নামক বিলাসবহুল জাহাজটি অবশেষে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। রয়টার্স সূত্রে খবর, জাহাজটিতে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ।

আক্রান্তের সংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি

জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এ পর্যন্ত আটজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে তিনজনের শরীরে সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। মৃতদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, জাহাজটি তিন দিনের মধ্যে কানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে পৌঁছাবে। সেখানে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ যাত্রীকে মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে ৪৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

ভাইরাসের উৎস ও সংক্রমণের প্রকৃতি

আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রক  জানিয়েছে, জাহাজটি উশুয়াইয়া শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মনে করা হচ্ছে, এই ভাইরাসের উৎস ‘অ্যান্ডিয়ান স্ট্রেন’, যা সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি মানুষের থেকে মানুষের দেহেও ছড়াতে পারে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশ্বস্ত করেছে যে, এই ভাইরাসের গণ-সংক্রমণের ঝুঁকি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অতটা বেশি নয়।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ধারকাজ

জাহাজের যাত্রী কাসেম হাতো জানিয়েছেন, ভেতরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এক চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্যাপ্টেন আমাদের নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন। আমরা বই পড়ে বা সিনেমা দেখে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”

এদিকে, উদ্ধারকাজেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি। এক অসুস্থ যাত্রীকে নিয়ে নেদারল্যান্ডস যাওয়ার পথে মরক্কো বিমানটিকে জ্বালানি ভরার অনুমতি দেয়নি। পরে স্পেনের গ্রান ক্যানারিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে রোগীটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়।

এই প্রমোদতরণীটি বিশ্বের দুর্গম দ্বীপ সেন্ট হেলেনাতেও নোঙর করেছিল, যেখানকার স্থানীয়দের নিয়েও এখন উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তেনেরিফের বাসিন্দারা জাহাজটিকে সেখানে ডক করতে দেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও, মানবিক কারণে স্পেন সরকার জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

পালাবদলের পরও রক্তের দাগ! ভোট-পরবর্তী হিংসার রাজনীতি কি বন্ধ হবে না?

কলকাতা: পালাবদল হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার অঙ্ক বদলেছে। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার অধ্যায় কি এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে? ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে খুন, হামলা, মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগ। আর সেই আবহেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে— সরকার বদলালেও কি বদলাবে না রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি?

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। পুলিশ সূত্রে খবর, বাইকে করে আসা কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা নামে আর এক যুবক। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

এর আগে ভোটের ফল প্রকাশের পর নিউটাউন এলাকায় বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, মধু মণ্ডল নামে এক কর্মীকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। অন্য দিকে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকাতেও বিজেপি সমর্থক মাতেন যাদব বরের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির জয়ের উৎসবে যোগ দিয়ে ফেরার পথে তাঁর উপর হামলা হয়। ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অন্য দিকে, ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন তাঁকে মারধর করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ।

শুধু খুন নয়, জেলায় জেলায় রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, পতাকা খুলে ফেলা, বাড়িতে হামলার অভিযোগও জমা পড়তে শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। তবে এই পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফে পাল্টা একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে আনা হচ্ছে।

গেরুয়া শিবিরের দাবি, ভোট-পরবর্তী একাধিক হামলার নেপথ্যে আসলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাজ করছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলের বিভিন্ন স্থানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতা হারানোর পর তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাদের দাবি, এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর উপর আক্রোশ মেটাতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে বিজেপিকে বদনাম করার লক্ষ্যেও অনেক ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের নাম জড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

বিজেপির বক্তব্য, কোথাও কোনও অশান্তি হলে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সব ঘটনার দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

পরিসংখ্যান: NCRB, গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

বাংলার রাজনীতিতে এই ছবি অবশ্য নতুন নয়। গত এক দশকে প্রায় প্রতি বড় নির্বাচনের পরেই রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১১৪টি রাজনৈতিক খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট কিংবা ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন— প্রতিবারই রক্তপাত বাংলার ভোট-রাজনীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক দলগুলির দাবির মধ্যে ফারাক থাকলেও একটি বিষয়ে প্রায় সকলের মত মিলেছে— রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতবিক্ষত করেছে।

কফি খেলেই জেল-জরিমানা! কোন কোন দেশে নিষিদ্ধ কফি?

মেট্রোপলিটন জীবনযাপনে কফি এখন এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কোনও ঋতুই হোক না কেন, সকালে ধূমায়মান কফির পেয়ালা হাতে নিয়ে জেগে ওঠে শহর। কিন্তু হঠাৎ যদি নিষিদ্ধ হয়ে যায় কফি?

‘শয়তানের পানীয়’

ইতিহাস বলছে, আপনার প্রিয় এই পানীয়টি সবসময় এতটা সমাদর পায়নি। শুনলে অবাক হবেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কফিকে ‘শয়তানের পানীয়’ বা ‘বিদ্রোহের উসকানিদাতা’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে একাধিকবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এভাবেই উঠে এসেছে পৃথিবী জুড়ে কফি নিষিদ্ধ হওয়ার এমনই কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য।

১৬শ শতাব্দীতে মক্কায় প্রথম কফি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তৎকালীন শাসকদের ভয় ছিল, কফি হাউসে জমায়েত হয়ে মানুষ রাজনৈতিক আলোচনা এবং তাঁদের শাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। এমনকি কফি পানের প্রভাবকে অনেকটা মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর বলে প্রচার করা হয়েছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা খুব বেশিদিন টেকেনি।

একইভাবে ইতালিতেও কফি একসময় রোষানলের মুখে পড়েছিল। যখন কফি প্রথম ইউরোপে পৌঁছায়, তখন খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের একাংশ একে ‘শয়তানের তিক্ত উদ্ভাবন’ বলে মনে করতেন। শেষ পর্যন্ত পোপ অষ্টম ক্লিমেন্ট নিজে কফি খেয়ে দেখার পর এর স্বাদে মুগ্ধ হন এবং একে ‘খ্রিস্টান পানীয়’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিতর্ক মেটান।

কফির পেয়ালায় আমেজের চুমুক। গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

কফি নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস এবং সুইডেনের রাজা তৃতীয় গুস্তাভ। ১৬৭৫ সালে রাজা চার্লস মনে করেছিলেন কফি হাউসগুলো হল বিদ্রোহের আঁতুড়ঘর, তাই তিনি সেগুলো বন্ধ করার ফরমান জারি করেন। কিন্তু জনরোষের মুখে মাত্র ১১ দিনের মাথায় তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। অন্যদিকে, সুইডেনে কফির ওপর এতটাই বিধিনিষেধ ছিল যে, এমনকি কফি খাওয়ার কাপ-পিরিচ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হতো।

এমনকি প্রসিয়া বা বর্তমান জার্মানিতেও কফি একসময় বিলাসিতা আর অপচয় হিসেবে দেখা হতো। সেখানকার শাসক গ্রেট ফ্রেডরিক চেয়েছিলেন মানুষ কফির বদলে বিয়ার পান করুক, যাতে দেশের টাকা দেশেই থাকে। কফির গন্ধ শুঁকে অবৈধ কফি ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য তিনি বিশেষ ‘কফি স্নিফার’ বা ঘ্রাণশিকারী বাহিনী পর্যন্ত নিয়োগ করেছিলেন।

আজকের এই জনপ্রিয় পানীয়টি যে একসময় জেল-জরিমানা আর ধর্মীয় ফতোয়ার কারণ হতে পারে, তা ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে কফি নিজের স্বাদ আর গন্ধ দিয়ে জয় করে নিয়েছে সারা বিশ্বকে।

দেশি বিনিয়োগের দাপটে ফিকে বিদেশি দাপট: ১৪ বছরের সর্বনিম্নে এফপিআই মালিকানা

ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FPI) একাধিপত্যের দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ ইকুইটি বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে দেখা গেছে, বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬.১৩ শতাংশে।

এক সময় ভারতীয় শেয়ার বাজারের ওঠানামা অনেকাংশেই নির্ভর করত বিদেশি লগ্নিকারীদের মর্জির ওপর। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্রটা দ্রুত পাল্টাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছর ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। শুধুমাত্র ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরেই তারা বাজার থেকে প্রায় ১৮.৯ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের শুরুর মাসগুলোতেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর পেছনে মূলত কাজ করছে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার ক্রমাগত দরপতন। তেলের আকাশছোঁয়া দাম ভারতের রাজকোষ ঘাটতি বাড়িয়ে দেওয়ায় বিদেশি সংস্থাগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি সতর্ক।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটি বেশ আশাব্যঞ্জক। বিদেশি বিনিয়োগ কমলেও ভারতীয় বাজার কিন্তু ভেঙে পড়েনি। এর প্রধান কারণ হল ঘরোয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (DII) অভূতপূর্ব উত্থান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে শেয়ার বাজারে ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিমা সংস্থাগুলোর মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৯.২৪ শতাংশে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দাপট এখন তুঙ্গে, যা ভারতের বিনিয়োগ ব্যবস্থার এক নতুন শক্তির পরিচয় দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতীয় অর্থনীতির এক ঐতিহাসিক বাঁদলবদল। আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলে গেলে বাজার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ত, কিন্তু এখন সাধারণ ভারতীয় মানুষের জমানো টাকা মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বাজারে আসায় এক শক্তিশালী সুরক্ষা কবজ তৈরি হয়েছে। যদিও খুচরো এবং উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের (HNI) সরাসরি অংশগ্রহণ গত পাঁচ বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ঘরোয়া বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত শক্তি এখন বিদেশি শক্তিকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সব মিলিয়ে, ভারতের শেয়ার বাজার এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এই লড়াই আগামী দিনে বাজারকে কতটা স্থিতিশীলতা দেয়, এখন সেটাই দেখার।

চাকরি থাকবে তো? অনিশ্চয়তার ছায়ায় ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী, সিভিক পুলিশ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন

কলকাতা: চাকরি থাকবে তো?—এই একটাই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের পাঁচ লক্ষেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীর মনে।

রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে প্রশাসনিক কাঠামোয় সম্ভাব্য রদবদলের জল্পনা ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শুধু দফতরের অস্থায়ী কর্মীই নন, সেই দুশ্চিন্তার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন সিভিক পুলিশরাও।

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে—পঞ্চায়েত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুরসভা থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা প্রশাসনে—বছরের পর বছর ধরে কাজ করছেন এই বিপুল সংখ্যক কর্মী। কারও কাজ দশ বছর, কারও বা তারও বেশি। কিন্তু স্থায়ী পদ না থাকায় তাঁদের চাকরির ভিত বরাবরই নড়বড়ে। এতদিন কোনওভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সরকার বদলালে তাঁদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই জোর জল্পনা, নতুন সরকার আগের নিয়োগ নীতির পর্যালোচনা করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল আসতে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। আর সেই আশঙ্কাই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে কর্মীদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, “বছরের পর বছর কাজ করছি, অথচ এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যাবে নাকি?”

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে উঠে আসছে সিভিক পুলিশের বিষয়টি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এঁদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা শহর—সব জায়গাতেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এদের একটি বড় অংশই পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেই কারণেই সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়ও—যদি হঠাৎ করে এই বিপুল সংখ্যক সিভিক পুলিশকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে ট্রাফিক সামলাবে কে? ইতিমধ্যেই কলকাতা ও অন্যান্য ব্যস্ত শহরে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে সিভিক পুলিশ ছাড়া দৈনন্দিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাই হোক, বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা না থাকলে সমস্যার জট আরও বাড়বে।

চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের এই মডেল মূলত অস্থায়ী প্রয়োজন মেটানোর জন্য চালু হলেও, বাস্তবে তা সরকারি ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাই আজ এই কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। তবুও তাঁদের বেতন কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা—কোনোটাই স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে কর্মী সংগঠনগুলিও সরব হতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ করেও তাঁরা ন্যায্য মর্যাদা পান না। এখন যদি চাকরির নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে তা চরম অবিচার হবে। কেউ স্থায়ীকরণের দাবি তুলছেন, কেউ আবার অন্তত চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা চাইছেন।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকার প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে গেলে কিছু পরিবর্তন অনিবার্য। তবে সেই পরিবর্তনের ধাক্কা যাতে সরাসরি কর্মীদের জীবিকায় না লাগে, সে দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর ওপর নির্ভর করে রয়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

সব মিলিয়ে, প্রশ্নটা এখন একটাই, চাকরি থাকবে তো? উত্তর এখনও অজানা। চুক্তিভিত্তিক কর্মী থেকে সিভিক পুলিশ—সবাই এখন তাকিয়ে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। সেই সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে, আগামী দিনে তাঁদের জীবনের গতিপথ কোন দিকে মোড় নেবে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ভারতে দেখানো নিয়ে জট, কী হবে শেষপর্যন্ত

তিন দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর একমাসের কিছু সময় বাকি রয়েছে। ১১ জুন থেকে মেগা ইভেন্ট শুরু হবে তিনটি দেশ, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে ভারতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে কিনা সেটি ঠিক নেই।

কেন এই সম্প্রচার সমস্যা

ফিফা আগামী ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য সম্প্রচার স্বত্ত্ব অনুযায়ী মোট ৩২৬ কোটি টাকা চেয়েছে। কিন্তু এত অর্থ দিয়ে কেউই এক মাসের এই মেগা আসরের জন্য এই দায়িত্ব নিতে চাইছে না। সেই নিয়েই সমস্যা। এই দুটি বিশ্বকাপ দেখানোর জন্য রিলায়েন্স ডিজনি মাত্র ১৮৬ কোটি টাকা দিতে চাইছে ফিফাকে। কিন্তু একেবারে অর্ধেক অর্থে কোনোভাবেই ফিফা সেই স্বত্ত্ব রিলায়েন্সকে দিতে চাইছে না। যে কারণে আগামী দিনে কী হবে বলা যাচ্ছে না।

কীভাবে মিটবে এই সমস্যা

ফিফা ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১৭৫টি দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার সম্প্রচার স্বত্ত্ব দিয়েছে। বাকি শুধু ভারত এবং চিন। কারণ এই দুই দেশের কোনও কোম্পানি সম্প্রচারের দায়িত্ব নিতে চাইছে না। এবার ভারতে এই দায়িত্ব কে নেবে সেটাই দেখার। ফিফা প্রতি বিশ্বকাপ পিছু ১৬৬ কোটি টাকা দাবি করেছে। কিন্তু এই অর্থ বিনিয়োগ করা নিয়েই বিতর্ক।

মেসি, রোনাল্ডোদের দেখা যাবে না?

এবার বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে এমনিতেই সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে। দুই ফুটবল রাজপুত্র শেষবারের মতো মেগা ইভেন্টে নিজেদের দেশের জার্সি পরে খেলতে নামবেন। তাই ভারতীয় ফুটবল প্রেমীরা এই ম্যাচগুলো টাটকা দেখতে পারবেন কিনা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এবার আমেরিকায় যখন খেলাগুলো রয়েছে, তখন ভারতে গভীর রাত কিংবা একেবারে কাক ভোর। তাই শেষমেশ কী হবে সেই নিয়ে জল্পনা চলছেই।

ফিফার দাবি অনেকটাই কমেছে

ফিফা প্রথমে দুটি বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে মোট ৯৩০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। সেই নিয়ে সারা বিশ্বই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। সেই বিতর্কের জন্য ফিফা সেই দাবি থেকে এক তৃতীয়াংশ করে দিয়েছে। তারপরেও ভারতে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে এখনও বিশ বাও জলে।