কলকাতা: শপথের ৪৮ ঘণ্টাও কাটেনি। আর তার মধ্যেই নবান্নে কার্যত ঝড় তুললেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার প্রথম কর্মদিবসেই একের পর এক ম্যারাথন বৈঠক, কড়া নির্দেশ এবং প্রশাসনের শিরায় শিরায় ‘অ্যাকশন মোড’-এর বার্তা পৌঁছে দিলেন তিনি। নবান্নের অন্দরমহলে এখন একটাই আলোচনা— “এবার আর ঢিলেমি চলবে না!”
সূত্রের খবর, প্রথম দিনেই অন্তত ৬টি বড় সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে আমলাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু— কাজ চাই, ফল চাই, অজুহাত নয়।
১) ফাইলবন্দি প্রশাসনের দিন শেষ!
দফতরে দফতরে জমে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জবাবদিহি করতে হবে আধিকারিকদের— এমনই কড়া বার্তা গিয়েছে নবান্ন থেকে।
২) রাজনৈতিক হিংসা ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ— “আইন নিজের পথে চলবে।” রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে প্রশাসনিক সূত্রে।
৩) সীমান্তে কড়া নজর, অনুপ্রবেশ রুখতেই বিশেষ পরিকল্পনা
উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে বিশেষ নজরে রাখতে বলা হয়েছে। বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৪) কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আর ‘স্লো মোশন’ নয়
আবাস থেকে সড়ক— দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রিপোর্ট তলব করেছেন শুভেন্দু। দ্রুত কাজ শেষ করার ডেডলাইনও বেঁধে দেওয়া হতে পারে বলে খবর।
৫) দুর্নীতির ফাইল খুলতেই কাঁপছে আমলাতন্ত্র!
সরকারি দফতরে আর্থিক লেনদেন ও নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ গিয়েছে। অভিযোগ পেলে সরাসরি তদন্ত— এমন বার্তায় অস্বস্তি বেড়েছে একাংশের।
৬) ‘জনতার সরকার’ ইমেজ গড়তে নতুন ব্লুপ্রিন্ট
সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনার জন্য আলাদা মনিটরিং সিস্টেম তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। নবান্নকে আরও ‘পাবলিক ফ্রেন্ডলি’ করার কথাও বলেছেন তিনি।
প্রথম দিনেই শুভেন্দুর এই আগ্রাসী প্রশাসনিক মেজাজে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, নতুন সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইছে— “ক্ষমতা বদল শুধু চেয়ার বদল নয়, খোলনলচে বদলাবে প্রশাসনের গয়ংগচ্ছ মনোভাবও”!



