messi-satadru-case-update
১২ই মে, ২০২৬
কলকাতা: কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর ঘিরে বিতর্কের আগুন যেন এখনও নিভেনি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই বহুচর্চিত ‘মেসি কাণ্ড’-এর কয়েক মাস পর, পালাবদলের বাংলায় ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তাঁকেই ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতদ্রু দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ছিল আন্তর্জাতিক মানের ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তাবেষ্টিত আয়োজন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক গাফিলতি, ভিআইপি হস্তক্ষেপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের জেরেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
শতদ্রুর কথায়, “যাঁদের মাঠে থাকার কথা ছিল না, তাঁরাই শেষ পর্যন্ত মেসির একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন।” তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রভাবশালী অতিথি এবং অনাহূত বহু মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। এর ফলে নিরাপত্তারক্ষীদের তড়িঘড়ি মেসি সহ অন্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, “আজও মনে হয়, মেসিকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। যদি ওঁর কোনও ক্ষতি হতো, দায় কে নিত?”
প্রসঙ্গত, সেই দিন যুবভারতীতে কয়েক হাজার ফুটবলপ্রেমীর ঢল নামে। কিন্তু অভিযোগ, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। টিকিট থাকা সত্ত্বেও বহু দর্শক মাঠে প্রবেশ করতে না পারায় উত্তেজনা ছড়ায়। গ্যালারিতে শুরু হয় ভাঙচুর, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, জলের বোতল নিক্ষেপ। এমনকি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠে ঢোকার চেষ্টাও করেন একাংশ সমর্থক। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যেই মেসিদের মাঠ ছাড়তে হয়।

ঘটনার পরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে এবং মূল আয়োজক হিসেবে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় গোটা ঘটনা ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
তবে শতদ্রুর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— এত বড় মাপের আন্তর্জাতিক তারকার সফরে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে এত বড় ফাঁক রইল কী ভাবে? আর সত্যিই কি পুরো ঘটনার দায় একা আয়োজকের কাঁধেই চাপানো হয়েছিল? যুবভারতীর সেই রাতের বিশৃঙ্খলা এখন আবারও ফিরেছে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। পালাবদলের বাংলায় যুবভারতী কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের সম্ভাবনাও মাথা চাড়া দিচ্ছে! সূত্রের খবর, সেদিনের বিশৃঙ্খলার জন্য আসলে কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে নতুন সরকার পুনরায় তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে ৷ এমন আবহে শতদ্রুর বিস্ফোরক মন্তব্যকে ঘিরে সব মহলে কৌতূহল বাড়ছে ৷ এখন দেখার, মেসি কাণ্ডে যুবভাবরতী বিতর্কের জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়৷
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।