stressed-person-health-
১১ই মে, ২০২৬
সকাল থেকে রাত—জীবন যেন এক অন্তহীন দৌড়। কখনও স্কুল-কলেজের চাপ, কখনও অফিসের ডেডলাইন, আবার কখনও সময় বাঁচাতে মোবাইলের এক ক্লিকে বাজার বা খাবার অর্ডার। আধুনিক জীবনের এই দ্রুতগতির ছন্দে মানুষ ছুটে চলেছে আরও বেশি সাফল্য, আরও বেশি সম্পদের আশায়। কিন্তু সেই দৌড়ে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ—স্বাস্থ্য।
অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং মানসিক উদ্বেগ ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে দিচ্ছে শরীর ও মন । এক পা পিছিয়ে পড়লেই হারিয়ে যাওয়ার ভয় যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে মানুষকে। এই প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন কিছু সাধারণ অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
কীভাবে কমবে স্ট্রেস, কীভাবে ফিরবে সুস্থ জীবন?
১) পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি
প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।
২) কম তেল-মশলার খাবার খাওয়া প্রয়োজন
অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এর ফলে লিভারের ক্ষতি, স্থূলতা ও হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই হালকা ও সুষম খাবার খাওয়া দরকার।
৩) বেশি করে জল পান করুন
শরীরকে সচল ও সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। গরমে ডিহাইড্রেশন এড়াতেও জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
৪) হাঁটা ও যোগাসনকে দৈনন্দিন অভ্যাস করুন
প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা বা যোগব্যায়াম করলে শরীর ফিট থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখের ঝুঁকিও কমে।
৫) বেশি করে শাকসবজি খান
সবুজ শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৬) ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও মদ্যপান ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুস ও লিভারের জটিল অসুখের অন্যতম কারণ।
৭) সন্ধ্যার মধ্যেই রাতের খাবার সেরে ফেলুন
রাতে দেরি করে খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী।
৮) কমান স্ক্রিন টাইম
রাত জেগে ফোন ব্যবহার করলে চোখ ও মস্তিষ্কের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শোয়ার আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।

দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে সফল হতে গেলে শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন সুস্থ শরীর ও শান্ত মনও। কারণ, স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে জীবনের কোনও অর্জনই দীর্ঘস্থায়ী সুখ এনে দিতে পারে না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।