শেষ আপডেট: 20 April 2026 14:00
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে তেহরান এই আলোচনায় যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল। এবারের পরিকল্পনা ছিল বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনা চালিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা, যাতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। কিন্তু সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান তাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি।
ট্রাম্পের হুমকি ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেন যে, তাঁর প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ যাচ্ছেন। তবে এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শনিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের গানবোট থেকে ব্রিটিশ ও ফরাসি জাহাজে গুলি চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আশা করি তারা এটা গ্রহণ করবে। যদি না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং প্রতিটি ব্রিজ উড়িয়ে দেবে। আর কোনো উদারতা নয়!”
সমুদ্রে সংঘাত: ওমান উপসাগরে জাহাজ আটক
উত্তেজনা আরও বাড়ে সোমবার ভোরে, যখন ট্রাম্প জানান যে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামক একটি ইরানি কার্গো জাহাজকে আটকে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটি থামার নির্দেশ অমান্য করায় মার্কিন নৌবাহিনী সেটির ইঞ্জিন রুমে গোলা ছুড়ে সেটিকে অকেজো করে দেয় এবং বর্তমানে মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘জল ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ
দুই দেশের এই সামরিক রেষারেষির মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান আলোচনার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। ম্যারিয়ট ও সেরেনা হোটেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো খালি করে দিয়ে সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঁটাতারের বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের অষ্টম সপ্তাহে এসে এই আলোচনা আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে শান্তির পথে হাঁটা কঠিন। এছাড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবার ইসলামাবাদে আসছেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে ঝুলে আছে বহু প্রতীক্ষিত এই শান্তি আলোচনার ভাগ্য।