

দিয়েগো মারাদোনা। ছবি - Google
১১ই আগস্ট, ২০২৬
ইতালি সরকার একবার বলেছিল, ‘‘আমাদের মারাদোনা লিখে দিন, আমরা অর্ধেক দেশ আর্জেন্টিনার নামে করে দেব।’’ ফিদেল কাস্ত্রো একবার সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমার অর্ধেক হৃদয় দিয়েগোর জন্য বরাদ্দ।’’
কার্লোস মেনেম জানিয়েছিলেন, ‘‘আমি দিয়েগোর জন্যই বিখ্যাত হয়েছি। মারাদোনা ১৯৮৬ সালে আমাদের কাপ না এনে দিলে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নাম কেউ জানতই না!’’
এই যাঁর ক্যারিশমা, যাঁর নামে ফুটবল দুনিয়া পাগল ছিল একটা সময়। যিনি একটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই দিয়েগো মারাদোনার শেষ একটি মাস কতটা যন্ত্রণার ছিল, সেটি ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক আলেহান্দ্রো ম্যাগডেলানা বুয়েনস আয়ার্স থেকে হোয়াটসঅ্যাপে লিখে জানালেন, ‘‘লিওনেল মেসি হয়ত আমাদের দেশের ফুটবল রাজপুত্র, কিন্তু মহারাজা হলেন দিয়েগো'ই, তিনি আর্জেন্টিনার হৃদয়।’’ সেই ম্যাজিশিয়ানের মৃত্যুর শেষ একটা মাস এতো করুণ কেন ছিল? তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওই ফুটবল সাংবাদিক জানালেন, ‘‘জীবনের শেষ ১০ বছর মারাদোনার পরিবারই সেই অর্থে ছিল না। তাঁর প্রথম স্ত্রী ক্লদিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে তাঁর দুই কন্যাও (দলমা ও জিয়ান্নিনা) বাবার সঙ্গে দেখা করত না। মৃত্যুর পরে সবাই ওঁর সম্পত্তি নিতে হাজির হয়েছিল।’’
ওই সাংবাদিক এও বলছিলেন, ‘‘মারাদোনার শেষ যিনি বান্ধবী ছিলেন, সেই ভেরোনিকাও শেষ ছয় মাস দিয়েগোকে দেখেননি। একজন ফুটবল সম্রাটের অসহায় অবস্থা যারা দেখেছেন সামনে থেকে, তাঁরাই বুঝেছেন কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে কিংবদন্তিকে। শুধু তাই নয়, শেষ ১৫টা দিন মারাদোনা পাশে পেয়েছিলেন একমাত্র তাঁর ম্যাসিওরকেই, বাকিরা কেউ ছিল না!’’
সেই ম্যাসিওর নিকোলাস তাফারেল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘দিয়েগোর শরীরে এত জল জমে গিয়েছিল যে, শ্বাসকষ্ট হত। কার্যত মৃত্যুর জন্য দিন গুনছিলেন। সেইসময় তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতেই চাইতেন না, খেতেন না কিছুই, শৌচালয়ে যেতে চাইতেন না, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন হয়ে গিয়েছিলেন।’’
তাফারেল সাক্ষাৎকারে আরও জানান, মারাদোনার ওই অবস্থা দেখে তিনি চিকিৎসকদের প্রতিদিন মেডিকেল চেকআপের কথা বলেছিলেন। তাফারেল বলেছেন, ‘‘আমি ওইসময় যা দেখেছিলাম, তা চিকিৎসকদের দলকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। কোনও সুরাহা হয়নি। উনি ফুলে গিয়েছিলেন। ওঁর পা ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা আমাকে শান্ত হতে বলেছিলেন, কিন্তু আমার বারবার মনে হয়েছে দিয়েগোকে সুস্থ করতে গেলে যা চিকিৎসার দরকার হয়, সেটা তখন হয়নি।’’
শুধু তাই নয়, শেষদিকে দিয়েগো জল পর্যন্ত খেতে চাইতেন না। সেই নিয়ে ম্যাসিওর জানান, "আমি মৃত্যুর শেষদিনেও জোর করে ওঁকে ভেষজ পানীয় খাইয়েছিলাম।" কিন্তু আমাকে উনি বলেন, "আমাকে আর কিছু দিও না, আমার আর কিছুই দরকার নেই, আমার হয়ত এটাই শেষ!" মারাদোনা বুঝে গিয়েছিলেন তাঁর শেষ সময় হাজির।
একটা সময় যিনি বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ত্রস্ত করে রাখতেন, যাঁকে শুধুমাত্র একটু ছোঁয়ার জন্য সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করে থাকতেন, সেই মানুষটি মৃত্যুর সময় কাছের বলতে কাউকে পাশে পাননি, এর চেয়ে ট্র্যাজিক মুহূর্ত আর কীই বা হতে পারে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
