

এবার গান্ধীর ভূমিকায় মনোজ বাজপেয়ী। ছবি - The Hindu
১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পর্দায় চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য তিনি যেকোনো মাত্রায় নিজেকে বদলে ফেলতে পারেন, সে প্রমাণ বারবার দিয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী। তবে এবার যা সামনে এল, তা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে সিনেপ্রেমীদের। পরিচালক সুধীর মিশ্রের আসন্ন ঐতিহাসিক ড্রামায় মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকায় দেখা যাবে বলিউডের এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতাকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ছবির প্রথম ঝলক, যেখানে খোদ ‘বাপু’র অবয়বে মনোজকে একঝলকে চেনা কার্যত অসম্ভব।
প্রকাশ্যে আসা ছবিতে মনোজ বাজপেয়ীর শারীরিক ভাষা এবং চেহারার পরিবর্তন দেখে চমকে গেছেন দর্শক ও সমালোচকরা। অহিংস আন্দোলনের কাণ্ডারীর ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে অভিনেতা যে কতটা গভীরে প্রবেশ করেছেন, তা তাঁর দৃষ্টি ও শারীরিক রূপান্তরের প্রতিটি স্তরে স্পষ্ট। প্রযোজক অনুভব সিনহা জানিয়েছেন, এই চরিত্রের জন্য মনোজ কঠোর ডায়েট মেনে চলেছেন এবং অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। চরিত্রের ভেতরে পুরোপুরি ঢুকে পড়তে তিনি একেবারে অন্যরকম এক জীবনযাপন ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে গেছেন।
ছবিটির মূল বিষয়বস্তু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়কালের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু ইতিহাসের পাতায় কম আলোচিত ২১ দিনের অধ্যায়। দেশ যখন পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে স্বাধীনতার উল্লাসে মেতে উঠছে এবং ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে দিল্লি, ঠিক তখনই মহাত্মা গান্ধী এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— ক্ষমতা আর উদযাপনের ভিড় ছেড়ে তিনি সরে গিয়েছিলেন একান্তে।
পরিচালক সুধীর মিশ্রের কথায়, “গান্ধীজির এই দূরে সরে যাওয়া কোনো পরাজয় বা পিছিয়ে যাওয়া ছিল না, বরং তা ছিল নিজেকে নতুন করে চেনা। ইতিহাস বইয়ে কেবল বাহ্যিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ মেলে, কিন্তু সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পেছনে ঠিক কী আবেগ কাজ করছিল এবং একজন নেতা কীভাবে নিজের পথকে পুনর্নির্মাণ করছিলেন, সেই মানবিক যাত্রাটাই এই ছবির প্রাণ।”
এই প্রজেক্টের সঙ্গে সুধীর মিশ্রের গভীর ব্যক্তিগত আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ছেলেবেলায় তাঁর মা দুর্গা দেবেন্দ্র নাথ মিশ্রের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর সরাসরি দেখা হয়েছিল এবং মায়ের কাছ থেকে গান্ধীজি সম্পর্কে অনেক অজানা গল্প শুনে বড় হয়েছিলেন পরিচালক। ২০২২ সালে মায়ের প্রয়াণের আগে সুধীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে গান্ধীজির জীবনের সেই অধ্যায় নিয়ে তিনি একটি ছবি তৈরি করবেন। এই ছবির মধ্য দিয়ে তিনি সেই প্রতিশ্রুতিই পূর্ণ করতে চলেছেন।
ছবির নাম আপাতত চূড়ান্ত না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ‘গান্ধী অ্যান্ড মাই মাদার’ শিরোনামে আলোচনা চলছিল, যা পরবর্তীতে বদলানো হতে পারে। লখনউয়ের পুরনো এলাকায় জোরকদমে শুরু হয়েছে ছবির শুটিং; চল্লিশের দশকের আবহাওয়া ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্টেজ গাড়ি ও সেকালের সাজসজ্জা। ‘বেনারস মিডিয়াওয়ার্কস’-এর ব্যানারে অনুভব সিনহা ও নরেন্দ্র হিরাওয়াত ছবিটি প্রযোজনা করছেন এবং নিবেদনে রয়েছে ‘এনএইচ স্টুডিওজ’। মনোজের পাশাপাশি এই ছবিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রবীণ অভিনেতা সৌরভ শুক্লা এবং সঙ্গে থাকছেন দিব্যা দত্ত। ‘হাজারোঁ খোয়াইশেঁ অ্যায়সি’র পরিচালক এবং ‘মুল্ক’ কিংবা ‘আর্টিকেল ১৫’-এর মতো ধারালো ছবির নির্মাতার মেলবন্ধনে এই সিনেমাটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় সিনেপাড়ায় অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।
